E-Vehicles: ই-ভেহিকলসই একমাত্র বিকল্প! ভারতে এর ভবিষ্যৎ কী?

সুশান্ত সান্যাল: দূষণে বিপর্যস্ত গোটা পৃথিবী।

বাঁচার রাস্তা খুঁজছে বিশ্ব। পেট্রল ও ডিজেলের দামে আগুন, যা বিশেষ করে ভাবাচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিকে। সম্প্রতি বিশ্ব পরিবেশের আলোচনায় বারবার উঠে এসেছে এই প্রসঙ্গ। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে দমবন্ধ এই পরিস্থিতি থেকে কিছুটা বেরিয়ে আসা যাবে যদি দূষণ বৃদ্ধিকারি সাধারণ জ্বালানির পরিবর্তে আমরা ব্যবহার করি পরিবেশবান্ধব যানবাহন। তাই লক্ষ্য ইলেকট্রিক বা হাইড্রোজেন চালিত যানের ব্যবহার। ভারত সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে ২০৩০-এর মধ্যে তারা যে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, তাতে ৭০ শতাংশ বাণিজ্যিক পরিবহন, ৩০ শতাংশ নিজস্ব পরিবহন আর ৮০ শতাংশ দু’চাকা, তিন চাকার পরিবহন আসবে এই আয়ত্তে। তাবে দেখা যাক বাজার পরিসংখান কী বলছে? সাল ২০১৭-১৮তে এই ধরনের গাড়ি বিক্রয়ের পরিমাণ ছিল ৬৯ হাজার ইউনিট, যা ২০১৮-১৯-এ বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ ইউনিট। আবার চলতি বছরের অক্টোবরের মাঝে এই সংখ্যাটা পৌঁছে গিয়েছে ১ কোটি ১৮ লক্ষতে। যদিও এই বিক্রয়ের প্রায় ৮০% দু-তিন চাকার বাহন।

আরও পড়ুন:‌ অবসর নিয়েছেন বা নিতে চলেছেন? নির্ভরযোগ্য স্বল্প সঞ্চয়ের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের​ 

এই বৃদ্ধির হারই কি আগাম জানিয়ে দিচ্ছে ভবিষ্যৎ কোন দিকে? মেক ইন ইন্ডিয়াকে সামনে রেখে দেশীয় কোম্পানি হিরো এই বছরের জুনে তাদের প্রথম ই-বাইক রপ্তানি  করেছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে। আমাদের দেশের অর্থনীতি অনেকটাই বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষত এই মুহূর্তে  দাঁড়িয়ে ভারতের মোট জ্বালানির চাহিদার ৮২ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভর করছে। আর তার ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে। তাই বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে ৬০ বিলিয়ন ইউএস ডলার ভারত যেমন বাঁচাতে পারে একদিকে, তেমনই ই-বাহন সাহায্য করেবে উল্লেখযোগ্য ভাবে যানবাহনের খরচ নামিয়ে আনতে। খরচ হতে পারে ১ টাকা ২৫ পয়সা প্রতি কিলোমিটারে যা আগামীদিনে এক বিপ্লব সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু বাধ সাধছে কিছু প্রতিকূলতা। আনুমানিক ১৪.৫ লক্ষ কোটি টাকার এই ই-বাহনের বাজারে আনুমানিক বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২.৫ লক্ষ কোটি। হিসাব বলছে, এই পরিমাণে পুঁজি নিয়োগ হলে সৃষ্টি হবে ৭ লক্ষের কর্মসংস্থান। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ যোগানও একটা ভাবার বিষয়। অন্যদিকে রয়েছে পরিকাঠামোর একান্ত অভাব। একটা ইলেকট্রিক চালিত মোটরগাড়ির জন্য লাগে অন্ততপক্ষে ১৬-১৮ ঘণ্টার চার্জ ,তাই সেই গাড়ি মালিককে ছেড়ে যেতে হবে চার্জিং স্টেশনে। যেটা সাধারণভাবে সম্ভব নয়। তাই টাটা, টয়োটা-সহ অন্য কিছু  সংস্থা তাদের ই-যানের সঙ্গেই দিচ্ছে ব্যক্তিগত চার্জিংয়ের সুবিধা। কিন্তু রয়েছে নির্দিষ্ট জায়গার অভাব। কারণ, দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ মেট্রো শহরের বেশিরভাগ মানুষই বাস করেন কোনও না কোনও আবাসনে। তাছাড়া এই ই-যানের দামও বেশির ভাগ মানুষের নাগালের বাইরে। যেমন ইলেকট্রিক চালিত একটা মোটর গাড়ির মূল্য ভারতের বাজারে ১২ লাখের ওপরে। দু বা তিন চাকার গাড়ির ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে ব্যাঙ্ক লোন। কারণ দেশের দু-একটা ছাড়া অন্য কোনও ব্যাঙ্ক নাকি এতে লোন দেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাই ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে অনেকটাই সরকারি পদক্ষেপের ওপর। পরিকাঠামোর উন্নয়ন হয়তো এই বাজারে জোয়ার আনবে আগামীতে, আর প্রতিযোগিতা হাত ধরে সস্তা হবে ই-যানবাহন, এই আশাতেই দিনগোনা।

আকর্ষণীয় খবর