আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের চেয়েও খারাপ খবর শোনাল আন্তর্জাতিক মূল্যায়ণকারী সংস্থা এস অ্যান্ড পি। চলতি অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতি ৫% সঙ্কুচিত হবে, জানাচ্ছে তারা। সম্প্রতি ভারতের আর্থিক বৃদ্ধিতে ৪.‌৫% সঙ্কুচিত হবে বলে পূর্বাভাষ দিয়েছে আইএমএফ। করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারি ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলে এস অ্যান্ড পি বলছে, দিনে দিনে ভারতের অর্থনৈতিক সঙ্কট গভীরতর হচ্ছে। লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশজুড়ে উৎপাদন বন্ধ ছিল টানা দু’‌মাস। পণ্যের জোগান ছিল না। নগদের অভাবের কারণে চাহিদাতেও ঘাটতি দেখা গিয়েছে। বাজারের টালমাটাল পরিস্থিতির জন্য লগ্নিকারীরাও হাত গুটিয়ে নিচ্ছেন। বিনিয়োগ নেই। চাহিদা বাড়াতেও সরকারও বিশেষ খরচ করেনি। ফলে এখন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলি খুলে দেওয়া সত্ত্বেও যা হারে বাজারে চাহিদা বাড়ার কথা ছিল, তা হচ্ছে না। ব্যাঙ্কগুলিও আগের মতো ঋণ দিতে চাইছে না। ফলে সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে, জানাচ্ছে সংস্থা। একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে মূল্যায়ণকারী সংস্থা বলছে, চলতি বছরে এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলে তিন ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের উৎপাদন কমবে। ওই অঞ্চলের অর্থনীতি ১.‌৩% সঙ্কুচিত হবে। তবে আগামী অর্থবর্ষে বৃদ্ধির পূর্বাভাষ দিয়ে তারা জানিয়েছে, ২০২১ সালে ৬‌.‌৯% হারে অর্থনীতিতে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাবে। পাশাপাশি সংস্থা এটাও জানাচ্ছে, করোনার মোকাবিলার পাশাপাশি আর্থিক মন্দা রুখতে বৃহত্তর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ করার জন্যেই এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনীতি আগামী অর্থবর্ষ থেকে চাঙ্গা হতে শুরু করবে। তবে ঋণের বোঝা দিনে দিনে বাড়ার কারণে কতদিনে স্থিতাবস্থা ফিরবে, বলা যাচ্ছে না, জানাচ্ছেন অর্থনীতিবিদ শন রোশে। এস অ্যান্ড পি জানাচ্ছে, চলতি অর্থবর্ষে চীনের অর্থনীতিতে ১.‌২% বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাবে। আগামী অর্থবর্ষে তা ৭.‌৪% হারে বাড়বে। বিশ্বজুড়ে লকডাউনের কারণে অর্থনীতিতে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, সেই ঘা এখন শুকোতে শুরু করলেও বেসরকারি সংস্থাগুলির আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছে। বিনিয়োগে ভয় পাচ্ছে তারা। এই পরিস্থিতি যদি খুব শিগগির না বদলায়, তাহলে সরকারকে আরও আর্থিক প্যাকেজের কথা ভাবতে হবে, জানাচ্ছে এস অ্যান্ড পি।   

জনপ্রিয়

Back To Top