আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‌দেশের অর্থ ব্যবস্থা যে পুরোপুরি ভেঙে গেছে, তা জিডিপি–র ঐতিহাসিক পতনেই স্পষ্ট। এবার চাকরির বাজারের ভয়ঙ্কর ছবিটাও সামনে এল সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি (‌সিএমআইই)–এর রিপোর্টে। ২.‌১ কোটি বেতনভুক কর্মীর চাকরি গেছে এপ্রিল–আগস্টে লকডাউনের মাসে। শুধু আগস্টেই কাজ হারিয়েছেন ৩৩ লক্ষ মানুষ, জুলাই–তে প্রায় ৪৮ লাখ। শুধু যে কম বেতনের সহকারী কর্মীরাই চাকরি হারিয়েছেন, তা নয়। উচ্চ প্রশিক্ষিত বেশি বেতনের কর্মীরাও কাজ খুইয়ে বেকার হয়েছেন লকডাউনের সময়ে। 
গত জুন মাস থেকেই লকডাউন শিথিল করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্র খুলে দেওয়ার পথে হেঁটেছে কেন্দ্র। মরচে ধরা অর্থনৈতিক চাকায় গতি ফেরাতেই ওই সিদ্ধান্ত। অর্থ ব্যবস্থা তো চাঙ্গা হলই না, বরং ফাঁকফোকরগুলো বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন, মত বিশেষজ্ঞদের। সিএমআই বলছে, আগস্ট মাসে বেকারত্ব বেড়ে ৮.‌৩৫% –এ পৌঁছেছে, যা কিনা গত জুলাই মাসেই ছিল ৭.‌৪০%। শহর অঞ্চলে বেকারত্ব ৯.‌৩৭% থেকে বেড়ে ৯.‌৮৩% ছুঁয়েছে। গ্রামাঞ্চলেও জুলাই–এর ৬.‌৫১% থেকে বেড়ে ৭.‌৬৫% ছুঁয়েছে। শুধু বেকারত্বই বাড়ছে, চাকরির ক্ষেত্র ছোট হয়ে কর্মযোগের হারও কমেছে এই সময়ে, বলছে রিপোর্ট। গোটা দেশে যত কর্মক্ষেত্র রয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ২১–২২% ক্ষেত্রে বেতনভুক কর্মীরা কাজ করেন। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, শ্রমিক, দিনমজুরদের তুলনায় বেতনভুক কর্মীদের ফের চাকরি খুঁজতে আরও বেশি সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এপ্রিল মাসেই দেশের ৯ কোটি দিন মজুর কাজ হারিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৮ কোটিই ইতিমধ্যেই কাজ খুঁজে পেয়েছেন। যদিও এখনও এক কোটির রুজিরুটির জোগাড় করতে পারেননি।  
তবে লকডাউনে কৃষি এবং আনুষঙ্গিক ক্ষেত্র অনেক প্রসারিত হয়েছে, জানাচ্ছে রিপোর্ট। বলা হচ্ছে, কাজ হারিয়ে ১.‌৪ কোটি মানুষ কৃষিক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এই সময়ে।   ‌

জনপ্রিয়

Back To Top