Christmas & Economy: চলছে বিশ্বজুড়ে ক্রিসমাস উৎযাপন, বিশ্ব অর্থনীতিতে কতটা জরুরি?

সুশান্ত সান্যাল: শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সারা বিশ্বে মোট জনসংখ্যার ধর্মের বিচারে খ্রিস্ট ধর্মের মানুষই সবচেয়ে বেশি যার সংখ্যা ২.৫৪ বিলিয়ন ছাড়িয়ে।

তাই বিশেষত বড়দিন বা ক্রিসমাস উপলক্ষে এর উৎসাহ অবশ্যই বিশ্বজুড়ে চোখে পড়ার মতো। শীতকালীন এই মহোৎসবে সারা বিশ্বই সামিল হয়। আর এতেই ব্যাপক প্রভাব পড়ে বিশ্বের অর্থনীতিতে। নতুন বছর বরণের আবেগ ও উন্মাদনায় বিশ্ব হয়ে ওঠে উত্তাল। পৃথিবীজুড়ে বাড়ে মানুষের কেনাকাটা। অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয় নানা উপহার, খেলনা, খাদ্য সামগ্রী ও ট্যুরস আর ট্রাভেল ব্যবসা। তথ্য বলছে যে মানুষের খরচের পরিমাণ এই সময়ে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি।

এই সময়ে করা সমীক্ষাতে দেখা যাচ্ছে যে বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে রোমানিয়া। এই সময়ে খরচের পরিমাণ তাদের বার্ষিক আয়ের প্রায় ৩২ শতাংশ। এরপরেই আছে চেক রিপাবলিক। তাদের এই সময়ে খরচের পরিমাণ বার্ষিক আয়ের প্রায় ২৫ শতাংশ। ইংল্যান্ড এবং আমেরিকার এই খরচ তাদের বার্ষিক আয়ের প্রায় ১৫ শতাংশ। ইটালি আর স্পেন তাদের বার্ষিক আয়ের খরচ করে প্রায় ১২ শতাংশ। আবার জনপ্রতি খরচের বিচারে প্রথন স্থানে আছে ইংল্যান্ড। তাদের এই পরিমাণ ৪২০ পাউন্ড। এরপরেই আমেরিকা। জনপ্রতি ৩৬০ পাউন্ড। আর তৃতীয় স্থানে আছে  জার্মানি, তাদের জনপ্রতি খরচের পরিমাণ ৩২০ পাউন্ড। জনপ্রতি খরচে আবার রোমানিয়ার স্থান ১২, তাদের খরচ হয় ১১০ পাউন্ড। উন্মাদনা এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যে সেখান থেকে সহজে বের হয়ে আসা হয় মুশকিল, যেমন ২০১৫ সালে শুধুমাত্র এই সময় উদযাপন করতে গিয়ে ইংল্যান্ডেই ভয়ঙ্কর ঋণের কবলে পড়েন প্রায় ৪৫ হাজার মানুষ। এ বছর শধুমাত্র আমেরিকাতে এই সময় খরচ পৌঁছে যাবে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে, বলছে গবেষণা। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মধ্যে আবার অনান্য দেশের তুলনায় ইংল্যান্ড খরচ করতে চলেছে প্রায় ৪৪ শতাংশ বেশি, বলছে তথ্য। রাশিয়াতে তাদের খরচের পরিমাণ প্রায় ২ শতাংশ বাড়তে চলেছে এই সময়কালে। তাই সাধারণভাবেই এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন এক মার্কিন গবেষক। তাঁর মতে ‘Christmas is typically the largest economic stimulus for many nations around the world as sales increase dramatically in almost all retail areas’। যদিও এই সময়কাল শুরু হয় ৩০ নভেম্বর, আর চলে নতুন বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত। তথ্য বলছে যে, এই বছরে শুধুমাত্র খুচরো ব্যবসা পৌঁছে যাবে ৮৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এই প্রথম বিশ্বে দেখা যাচ্ছে যে শীতকালীন ছুটিতে হোটেল বুকিং প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে গেছে অক্টোবরেই। তাই নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এই বৃদ্ধি যে যথেষ্ট পরিমাণে হবে এ কথা বলাই যায়। তবে এই বিশেষণে দেখা যাচ্ছে যে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই এই ছুটি উপভোগ করার জন্য অনুরোধ রেখেছেন কিছু ভারী ছাড়ের জন্য। আমেরিকা ও ইউরোপের হোটেল মালিকরা বিশেষত কোভিডকালে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাসের কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও করছে। যাতে সবার সাধ্যের মধ্যে কিছু ব্যবস্থা যেমন করা যায় ঠিক তেমনই তাদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাও বজায় থাকে। পৃথিবীজুড়ে উপহার সামগ্রীর ব্যবসাও বাড়তে চলেছে প্রায় ১৭ শতাংশ। তাই যত বেশি সংখ্যক মানুষ এই উৎসবে সামিল হবে ততই বৃদ্ধি পাবে লেনদেন, বিকাশ হবে অর্থনীতির। এই সময় ভারতেও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে হোটেল ব্যাবসার সঙ্গে গাড়ি ও আনুসাঙ্গিক শিল্পের চাহিদা। আশা অনুযায়ী এবার ভারতেও এই সমস্ত ব্যবসা বৃদ্ধি পাবে প্রায় ২৫ শতাংশ হারে। তবে ওমিক্রন সংক্রমণের বিষয়টা তো রয়েছেই, তাই বিশ্বে তার প্রভাবও হয়তো কিছুটা হলেও আশার ব্যাঘাত ঘটাতে পারে সেটাই ভাবাচ্ছে নতুন করে। তবে মানুষ খুশির এই মুহূর্তে কোনও কিছুর বিনিময়েই সমঝোতা করতে চাইবে না এ কথা বলাই যায়।

আরও পড়ুন: নতুন বছরে ফের বাংলায় আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, নেতাজি জন্মজয়ন্তীর বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগদানের সম্ভাবনা

আকর্ষণীয় খবর