সংবাদ সংস্থা, দিল্লি: পাঁচ মাস হয়ে এল, ২০১৮–১৯ অর্থবর্ষ শেষ হয়ে গেছে। এই বছরের জন্য কর্মচারী ভবিষ্যনিধির সুদের হার এখনও ঘোষণা করে উঠতে পারেনি সরকার। তবে এবার করা হবে, শিগগিরই। আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ গাঙ্গোয়ার। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটি নিজের মুখে জানিয়েছেন, তা হল, সুদের হার একটু বাড়ছে। ৮.‌৬৫ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছনো গেছে। আগের অর্থবর্ষে সুদের হার ছিল ৮.‌৫৫ শতাংশ। ভবিষ্যনিধি অর্থাৎ পিএফের সুদের হার ঠিক করে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠন (‌ইপিএফও)‌–‌এর কেন্দ্রীয় অছি পরিষদ (‌সিবিটি)‌। তবে তাতে অর্থমন্ত্রকের সায় প্রয়োজন। তারপর বিজ্ঞপ্তি জারি করে শ্রমমন্ত্রক। গত ফেব্রুয়ারিতে ২০১৮–১৯ অর্থবর্ষের জন্য সিবিটি এই সুদের হার ঠিক করে ৮.‌৬৫ শতাংশ। কিন্তু আটকে থাকে বিজ্ঞপ্তি জারি। শ্রমমন্ত্রী গাঙ্গোয়ার আজ ফিকি–‌র একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে বলেন, ‘‌অর্থমন্ত্রক ৮.‌৬৫ শতাংশ হার নিয়ে আপত্তি করেনি। আমার বিশ্বাস, শিগগিরই বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে যাবে।’‌ বিজ্ঞপ্তি জারি হলে ইপিএফও থেকে তাদের ১৩৬ জন ফিল্ড অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হবে, নতুন হার অনুযায়ী কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করার জন্য এবং নতুন হার অনুযায়ী যাঁরা পাওনা মেটানোর দাবি জানাবেন, তাদের তা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য। উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রকের আর্থিক পরিষেবা বিভাগ কিন্তু গত এপ্রিলেই এই সুদের হার মেনে নিয়েছিল। তারপরও কেটে যায় মাসের পর মাস। বোঝা যায়, গেরোটা অর্থমন্ত্রকেই। কিছুদিন আগে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে বৈঠক হয় গাঙ্গোয়ারের। তখনই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয় বলে খবর। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত কয়েক বছরে পিএফের সুদ কমানোর ঝোঁকই লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৫–‌১৬ অর্থবর্ষে এই সুদের হার ছিল ৮.‌৮ শতাংশ। ২০১৬–‌১৭–‌এ তা কমে দাঁড়ায় ৮.‌৬৫ শতাংশ। তার পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৭–‌১৮ বর্ষে হয় ৮.‌৫৫ শতাংশ, গত ৫ বছরে যা সর্বনিম্ন। ২০১৮–১৯ বর্ষে ৮.‌৬৫ শতাংশ হারে সুদ পাওয়াটা সেদিক থেকে ইপিএফও–‌র আওতায় থাকা ৬ কোটি কর্মীর কাছে মন্দের ভাল খবর। ৮.‌৬৫ শতাংশ হারে সুদ দিলে ভবিষ্যনিধির তহবিলে উদ্বৃত্ত থাকবে ১৫১.‌৬৭ কোটি টাকা। ৮.‌৭ শতাংশ হারে 
সুদ হলে ১৫৮ কোটি টাকা ঘাটতি হত, এরকমই হিসেব।

জনপ্রিয়

Back To Top