BGBS: রাজ্যে প্রস্তুত শিল্পক্ষেত্র, আসছে লগ্নি

রিনা ভট্টাচার্য
শিল্পায়নের গতি আরও বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার।

এর মধ্যে এক জানলা নীতি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে করে ছাড়। পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে। দক্ষ কর্মী ও শ্রমিক যাতে সহজে শিল্প সংস্থাগুলি পেতে পারে তার জন্য পোর্টাল চালু করা হয়েছে। কোথায় কী ধরনের জমি আছে তার জন্য তৈরি হয়েছে ল্যান্ড ব্যাঙ্ক। এই ধরনের উদ্যোগে গত ৬ মাসে কয়েক হাজার কোটি টাকার লগ্নি প্রস্তাব এসেছে রাজ্যের কাছে। বেশ কিছু সংস্থা শিল্প স্থাপনও করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— 

 

 

 

পানাগড়ে ৪০০ কোটির পলি ফিল্ম কারখানা
৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে পানাগড়ে হবে পলিফিল্ম কারখানা। পানাগড় শিল্পতালুকে ধানসেরি প্যাকেজিং প্রাইভেট লিমিটেডের ওই কারখানার শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। 
কয়েকশো কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। উৎপাদন শুরু হতে ৩ বছর সময় লাগবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ, ২০২৪ সালে কারখানাটিতে পুরোদস্তুর উৎপাদন শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া পানাগড় শিল্পতালুকে বার্জার পেইন্টস কোম্পানি রঙের কারখানায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। ইতিমধ্যেই ২২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ধানসেরি সংস্থার চেয়ারম্যান চন্দ্রকুমার ধানুকা বলেন, ‘‌পানাগড়ে ৩৮ একর জমির ওপর প্যাকেজিং কারখানা হবে। বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক সামগ্রী–সহ কসমেটিক্স তৈরি হবে। রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগমের মাধ্যমে জমি দেওয়া হয়েছে।’‌ 

ফাউন্ড্রি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ২ হাজার কোটি লগ্নি
রাজ্যের ফাউন্ড্রি ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। এই ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিয়োগের ফলে রাজ্যে কয়েক হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। 

১৩০ কোটির জোড়া প্রকল্প বণিক সংস্থার
আঞ্চলিক বাণিজ্যে উৎসাহ দিতে রাজ্যে ১৩০ কোটি টাকার জোড়া পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নিল কনফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনস (‌সিডব্লিউবিটিএ)‌। সংগঠনের সভাপতি সুশীল পোদ্দার বলেন, ‘‌প্রথম পর্যায়ে সিডব্লিউবিটিএ হাওড়ার আমতায় ৪০০ একর জমিতে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি শিল্প এবং লজিস্টিক পার্ক তৈরি করছে। রাজারহাটে ৩০ কোটি টাকা খরচ করে আরেকটি অত্যাধুনিক বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে।’‌ তাঁর দাবি, ‌‘‌সার্বিক ব্যবসা–বাণিজ্যের প্রসারের লক্ষ্যে কোনও ব্যবসায়িক সংগঠনের এ ধরনের উদ্যোগ এই প্রথম। রাজারহাটের ব্যবসা ও বাণিজ্য কেন্দ্রটি এক সংস্থার সঙ্গে আরেক সংস্থার ব্যবসায়িক লেনদেনের (বিটুবি) কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।’‌

বেলুড়ে ২ হাজার কোটির লজিস্টিক হাব
বেলুড়ে ১০০ একর জমিতে গড়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক হাব। কয়েক হাজার নতুন কর্মসংস্থান হবে এই শিল্পতালুকে। বিপুল কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে এই লজিস্টিক হাবে। বিশ্বমানের শিল্প সংস্থা এই বিনিয়োগ করবে। বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। সেই লক্ষ্যেই এই মুহূর্তে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। বেলুড়ের ‘নিসকো’র জমিতে গড়ে উঠবে ওই লজিস্টিক হাব। এই জমিতে প্রথমে ছোট ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যে এই ধরনের শিল্পের জন্য পরিকাঠামো গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছিল রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প দপ্তর। ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের পক্ষ থেকে ওই এলাকার পরিকাঠামোর উন্নতি করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি ওই জমি শিল্পোন্নয়ন নিগমের হাতে হস্তান্তরিত হয়েছে। এখন ওই জমিতে লজিস্টিক হাব তৈরির উদ্দেশ্যে সেটি বৃহৎ কোনও শিল্পগোষ্ঠীর হাতে শিল্পোন্নয়ন নিগমের তরফে তুলে দেওয়া হতে পারে। বেলুড়ের এই জায়গাটি থেকে রেল স্টেশন, জি টি রোড, বালি ব্রিজ, নিবেদিতা সেতু, দ্বিতীয় হুগলি সেতু, বিমানবন্দর বেশি দূর নয়। পাশাপাশি ডানকুনি পর্যন্ত যে ফ্রেট করিডর তৈরি হচ্ছে সেটিও বেলুড়ের এই প্রস্তাবিত জায়গাটির কাছাকাছি। ফলে এখান থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই সুগম হবে। যোগাযোগের সুবিধার জন্যই বেলুড়ের এই জায়গাটিকে লজিস্টিক হাব গড়ে তোলার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। 

উলুবেড়িয়ায় ১১৫০ কোটির লগ্নি
উলুবেড়িয়া বণিকসভার উদ্যোগে হাওড়ায় ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে ১১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। সেখানে প্রায় ১২ হাজার নতুন কর্মসংস্থান হবে। 

‌কল্যাণীতে মালবাহী জাহাজ কারখানা
কল্যাণীতে তৈরি হয়েছে মালবাহী জাহাজ কারখানা। হুগলি নদীর তীরে কল্যাণীতে আশি বিঘে জমির ওপর তৈরি হওয়া এই কারখানায় বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ খুলে গিয়েছে। আর স্থানীয়রাও কাজ পাওয়ার আশায় রয়েছেন। কল্যাণীর মাঝেরচর এলাকায় তৈরি হয়েছে এই কারখানা। ইতিমধ্যে আশি মিটার দৈর্ঘ্য একটি কার্গো জাহাজ তৈরি শেষের পথে। 


আলিপুরদুয়ারে ৩০০ কোটি লগ্নির প্রস্তাব
আলিপুরদুয়ার জেলার জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা শিল্প–বিনিয়োগের প্রস্তাব এল। যার মধ্যে ক্ষুদ্র, মাঝারি, বৃহৎ তিন ধরনের শিল্পই রয়েছে। প্রায় ২০৫ কোটি টাকায় জেলার ২টি পয়েন্টে তৈরি হওয়ার কথা ইথানল প্ল্যান্ট। পাশাপাশি কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের জন্য প্রায় ৪৭ কোটি টাকা, চা–পর্যটনে ১৪ কোটি টাকা, বস্ত্র শিল্পের জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকার প্রস্তাব এসেছে। শুধু তাই নয়, খনিজ দ্রব্য কেন্দ্রিক শিল্প, আসবাবপত্র, বিদ্যুৎ, চা তৈরি, পলিমার, সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রিক শিল্পের জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকার প্রস্তাব এসেছে।
গোটা জেলায় এক সঙ্গে প্রায় ৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আলিপুরদুয়ার জেলায় ২টি শিল্প পার্ক রয়েছে এথেলবাড়ি ও ভারত–ভুটান সীমান্তের জয়গঁাতে। আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই জেলার ৪টি ব্লকে আর ৫টি শিল্পতালুকের জন্য জমি চিহ্নিত করেছে। প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে রাজ্যে। বিষয়টি দেখবেন স্বয়ং মুখ্যসচিব। শুধু তাই নয়, আলিপুরদুয়ার–২ নম্বর ব্লকে একটি প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের জন্য প্রস্তাব গেছে আলিপুরদুয়ার চেম্বার অফ কমার্মের তরফে। জেলায় নতুন যে ৫টি শিল্প পার্কের জন্য জমি চিহ্নিত হয়েছে, তার সব কটি ৫ থেকে ২০ একর পরিমাণ জমি।‌‌‌

আরও পড়ুন:‌ রাজ্যের অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে


 

আকর্ষণীয় খবর