BGBS: শিক্ষা, বিশেষত কারিগরি শিক্ষায় এগিয়ে বাংলা 

সত্যম রায়চৌধুরী:‌ বিশ্ব অর্থনীতিতে বিশাল ধাক্কা দিয়ে গেছে কোভিড।

এই পরিস্থিতিতে বেঙ্গল বিজনেস গ্লোবাল সামিট (‌বিজিবিএস)‌ আয়োজন করার বুকের পাটা দেখিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। প্রশংসা করতে হয় যেভাবে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে এই রাজ্য। তার প্রমাণ ২০২১-২২ আর্থিক বছরে অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ১২.৮%। দু’‌বছর অতিমারির কারণে বন্ধ রাখতে হয়েছিল এই বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। বিদেশি প্রতিনিধিদের আসার সম্ভাবনা ছিলই না। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ফ্লাইট প্রায় স্বাভাবিক। ব্রিটেন তো বিরাটভাবে উপস্থিত হচ্ছেই, এছাড়া ইওরোপের বেশ কয়েকটি দেশ, জাপান, সিঙ্গাপুর-সহ প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিদের আসার কথা এই সম্মেলনে। আশা করা হচ্ছে, রেকর্ড সংখ্যক মউ স্বাক্ষরিত হবে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে। এবার যে ব্যাপারটি আমার কাছে বড় আকর্ষণ মনে হয়েছে, তা হলশিক্ষাক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া এটি সরকারের একটি অত্যন্ত বলিষ্ঠ পদক্ষেপ । বিশেষ ওপরের দিকে রয়েছে শিক্ষা। আমি বিশ্বাস করি, যে কোনও জিনিসেরই ভাল-মন্দ দুটি দিক রয়েছে।

করোনাও ব্যতিক্রম নয়। তার ক্ষতির দিকটি নিঃসন্দেহে বিপুল, কিন্তু সদর্থক দিকও রয়েছে। যেমন, শিক্ষাক্ষেত্রে অনলাইনের সাফল্য। এই যে বিপদে পড়ে শিক্ষক-ছাত্র দুই তরফই শিখল অনলাইন ক্লাসকে কাজে লাগিয়ে সিলেবাস এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা, করোনার প্রকোপ একটু কমার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হল অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে হাইব্রিড মডেল, বড় বড় পরীক্ষা পর্যন্ত হচ্ছে এই পদ্ধতিতে, ঘরে বসে বিদেশের ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস করছে উচ্চশিক্ষার্থীরা-‌এই সবের পিছনে মূল শিক্ষাটা হল, থেমে থেকো না, সমস্যা থাকলে সমাধানও আছে। সেটা কি কম কথা!

আজকের দিনে শিক্ষায় যে বিপুল দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কর্মসূত্রে আমাকে গুচুর ঘুরতে হয় বিভিন্ন রাজ্যে ও বিদেশের ইউনিভার্সিটিগুলিতে। এই তো কিছুদিন আগে দেখে এলাম বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানকার উপাচার্ধের সঙ্গে আলোচনা হল নানারকম সহযোগিতার বিষয়ে, ছাত্র-শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচির ব্যাপারে। এছাড়াও বাংলাদেশের নানা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় যৌথ উদ্যোগে
ইনোভেটিভ টেকনোলজি নিয়ে কা করতে চায়। এর ফলে দুই দেশের শিক্ষাক্ষেত্রই উপকৃত হবে। সে-দেশের শিক্ষামন্ত্রী দীপু মণি অত্যন্ত আগ্রহী ভারতের সঙ্গে শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে হাত মিলিয়ে কিছু করতে। এরকম অনেক দেশ আছে, যারা ভারতের, বিশেষত বাংলার শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে উচু ধারণা পোষণ করে এবং এদেশের সরকারি-বেসরকারি কলেজ, ইউনিভার্সিটির সঙ্গে কোলাবোরেশনে উৎসাহী।

এবারের বিজিবিএস-এ একটি সেশন আছে, যার বিষয় ‘‌স্ট্র‌্যাটেজিক পার্টনারশিপ অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক কোলাবোরেশন ইন এডুকেশন’।‌ এই অধিবেশন ঘিরে খুবই উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে ডেলিগেটদের মধ্যে। বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের মতামত প্রকাশের বড় প্ল্যাটফর্ম এটি, সন্দেহ নেই। বিজিবিএস-এর অঙ্গ হিসেবে যে এডুকেশন কনক্লেভ আয়োজিত হচ্ছে, সেখানে প্রচুর লগ্নির ঘোষণা হবে, এমনটাই আশা।

একসময় তথ্য-প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়েছিল পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু গত বছর দশেকে বিরাট উন্নতি হয়েছে। বিশ্বের যে প্রান্তে যাই, প্রচুর বাঙালি সফটওয়্যার বা হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের দেখা মিলবেই। নিউ ইয়র্ক বলুন, কি ক্যালগেরি, হঠাৎ কমবয়সি ছেলেমেয়েরা এসে প্রণাম করে, ‘‌স্যর, আমরা টেকনো থেকে পাশ করেছি।’‌ গর্বে বুক ভরে ওঠে। এভাবেই বাঙালি ক্রমশ বিশ্ববাঙালি হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষায় যে এগিয়ে বাংলা, সে বিষয়ে বাকি ভারতের কোনও সন্দেহ নেই। ২০২১ ও ২২ সালের পরিসংখ্যান বলছে, ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রদের প্রায় ৮০% চাকরি পেয়েছে। আড়াইশোরও বেশি নামী কোম্পানি এ রাজ্যে এসেছে লোক নিয়োগ করতে। সেই কারণেই প্রতিবেশী দেশগুলি তো বটেই, এমনকী বিশ্বের অন্য প্রান্তের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও ক্রমশ বাড়ছে বাংলার কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে। এটা খুবই আশার কথা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে বাংলা যে সার্বিকভাবে শিল্পক্ষেত্রে উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে উঠছে, এতে শিল্পোদ্যোগীরা অত্যন্ত আশান্বিত।

আরও পড়ুন:‌ ‘নিশ্চিন্তে ব্যবসা করুন’‌, শিল্পপতিদের বাংলায় আহ্বান জানালেন মমতা

আকর্ষণীয় খবর