আজকালের প্রতিবেদন: গত বছর অক্টোবরে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ঘোষণা করেছিলেন, অনাদায়ী ঋণের ভারে ধুঁকতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে মূলধনের সঙ্কট মিটিয়ে চাঙ্গা করতে জোগানো হবে ২ লক্ষ ১১ হাজার কোটি টাকা। বুধবার সেই পরিকল্পনার খোসা ছাড়িয়ে তিনিই জানালেন, চলতি অর্থবর্ষে সরকারি তহবিল থেকে ২০টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ককে দেওয়া যাচ্ছে মাত্রই ৮,১৩৯ কোটি টাকা। তারই সঙ্গে বাজারে ১০ থেকে ১৫ বছর মেয়াদের রিক্যাপিটালাইজেশন বন্ড ছেড়ে এপ্রিলের আগেই আরও ৮০,০০০ কোটি টাকা নতুন মূলধন বাবদ তুলে দেওয়া হবে এই ব্যাঙ্কগুলির হাতে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে চাঙ্গা করার পরিকল্পনার এইটুকুই শুধু শক্তপোক্ত জমির ওপর দাঁড়িয়ে। জেটলি অবশ্য বলেছেন, পরে আরও রিক্যাপিটালাইজেশন বন্ড ছেড়ে ব্যাঙ্কগুলির জন্য তোলা হবে মোট ১.৩৫ লক্ষ কোটি টাকা। তার পরে কিছুটা জোগাবে সরকার, বাকিটা আসবে এই সব ব্যাঙ্কের শেয়ার বিক্রি করে। তবে সে–পরিকল্পনার রূপায়ণ পরবর্তী সরকারের জন্যে ছেড়ে যাবেন মোদি–জেটলি? প্রতিশ্রুত মূলধন সরবরাহে খামতি ঢাকতে জেটলি বলেছেন, এই নতুন মূলধন নিশ্চিত করবে যে, একটিও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক উঠে যাবে না এবং এখানে গ্রাহকের টাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। ফিনান্সিয়াল রেজলিউশন অ্যান্ড ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স, সংক্ষেপে এফআরডিআই নামে যে কালা বিলে ‘বেল ইন’ চালু করে ব্যাঙ্কে রাখা গ্রাহকের টাকা দিয়েই লোকসানে চলা ব্যাঙ্কগুলিকে চাঙ্গা করার যে ব্যবস্থা করতে চেয়েছিল মোদি সরকার, দেশ জুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদের ধাক্কায় তাকে ঠান্ডা ঘরে পাঠানো হলেও সেই তিক্ত আশঙ্কা যে এখনও জনমানসে বহাল, গ্রাহকের টাকা নিরাপদ থাকার ঘোষণা তারই প্রত্যক্ষ প্রমাণ।  সাংবাদিক সম্মেলন করে এসব কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে জেটলি আজ জুড়ে দিয়েছেন ব্যাঙ্কগুলির কিছু কর্তব্য–তালিকা। তার মধ্যে ছোট এবং মাঝারি শিল্পে জোর দেওয়ার কথা যেমন আছে, তেমনই আছে ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংয়ে জোর দেওয়ার নির্দেশ।
নতুন মূলধন কোন ব্যাঙ্ক কতখানি পাচ্ছে তার তালিকা পেশ করেছেন আর্থিক পরিষেবা সচিব রাজীব কুমার। দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া পাবে ৮,৮০০ কোটি টাকা। তবে সবচেয়ে বেশি, ১০,৬১০ কোটি টাকা পাচ্ছে আইডিবিআই ব্যাঙ্ক। এ ছাড়া ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া পাচ্ছে ৯,২৩২ কোটি, ইউকো ব্যাঙ্ক ৬,৫০৭ কোটি, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ৫,৪৭৩ কোটি, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা ৫,৩৭৫ কোটি, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ৫,৫১৮ কোটি, কানাড়া ব্যাঙ্ক ৪,৮৬৫ কোটি, আইওবি ৪,৬৯৪ কোটি, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক ৪,৫২৪ কোটি, ওবিসি ৩,৫৭১ কোটি, ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র ৩,১৭৫ কোটি, দেনা ব্যাঙ্ক ৩,০৪৫ কোটি, সিন্ডিকেট ব্যাঙ্ক ২,৮৩৯ কোটি, ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ২,৬৩৪ কোটি, কর্পোরেশন ব্যাঙ্ক ২,১৮৭ কোটি, অন্ধ্র ব্যাঙ্ক ১,৮৯০ কোটি, এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক ১,৫০০ কোটি, বিজয়া ব্যাঙ্ক ১,২৭৭ কোটি এবং পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্ক পাবে ৭৮৫ কোটি টাকা। বিশদ তথ্য পেশের পর জেটলি বলেছেন, সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের স্বাস্থ্য মজবুত রাখাই সরকারের উদ্দেশ্য। কিন্তু প্রশ্ন অন্যত্র। সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের নতুন মূলধন হিসেবে ২.১১ লক্ষ কোটি টাকা ঢালবে জেনে এই সব ব্যাঙ্কের শেয়ারের দাম যেভাবে বেড়েছিল, শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮৮,১৩৯ কোটি টাকা পাওয়া যাবে জানার পর বাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শেয়ারে কি দুর্বলতার লক্ষণ দেখা দেবে? নাকি, নিশ্চয়তায় নতুন দৌড় শুরু হবে এই সব শেয়ারে? বৃহস্পতিবার বাজার খুললে তার উত্তরও পাওয়া যাবে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top