দিল্লি: সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের ওপর সুদে কোপ পড়েছে আগেই। এবার কোপ পড়তে চলেছে অন্তত ৪০টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের ওপর। কারণ বিলগ্নীকরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে নীতি আয়োগকে বলা হয়েছে রুগ্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার আর একটি তালিকা তৈরি করতে। আগে এমন চারটি তালিকা তৈরি করেছে নীতি আয়োগ। এই তালিকাটি হবে পঞ্চম। যাতে থাকতে পারে ৪০টি সংস্থা। এই তালিকা শেষ হলে সব মিলিয়ে প্রায় ১০০টি রুগ্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের তালিকা তৈরি হয়ে যাবে। উপযুক্ত দাম পেলেই যা বেসরকারি হাতে তুলে দেবে কেন্দ্র। 
আগামী আর্থিক বছরে সরকার বিলগ্নীকরণের লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে ৭২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঘরে তোলার। সরকারের আশা, কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পগুলির বিলগ্নীকরণ করে পাওয়া যাবে ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। কৌশলগত বিলগ্নীকরণে মিলবে ১৫ হাজার কোটি। আর বিভিন্ন সরকারি বিমা সংস্থার শেয়ার বাজারে ছেড়ে উঠবে ১১ হাজার কোটি টাকা। বাকি টাকা কোন কোন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নীকরণের ফলে পাওয়া 
সম্ভব তা জানার জন্যই নীতি আয়োগকে দেওয়া হয়েছে নতুন তালিকা 
তৈরির দায়িত্ব। 
এই লক্ষ্যমাত্রার কতটা পূরণ করা সম্ভব, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ পবন হংস উপযুক্ত দর পায়নি। আগামী দু–তিন মাসে নতুন ভাবে চেষ্টা শুরু হবে ওই সংস্থা বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার। অন্যদিকে, এয়ার ইন্ডিয়ার কত শতাংশ মালিকানা বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হবে সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি কেন্দ্র। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী অশোক গজপতি রাজু সঠিকভাবে জানাতে পারেননি যে কবে নাগাদ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাছাড়া, বেশ কিছু কোম্পানির ক্ষেত্রে সরকার চাইছে নতুন দাম নির্দিষ্ট করতে। কেন না সরকার মনে করছে, ওই কোম্পানিগুলির দর সঠিকভাবে নির্ণয় করা হয়নি। এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অ্যান্ড্রু ইয়ুল, এইচএমটি, স্কুটার ইন্ডিয়া, তিরুবনন্তপুরমের ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যালস প্রভৃতি।    

জনপ্রিয়

Back To Top