আজকালের প্রতিবেদন, দিল্লি: সরকারেরই দেওয়া খবর, ২০১৯ আগস্টের সরকারি পরিসংখ্যান। ভারতীয় অর্থনীতির আটটি আকর শিল্পক্ষেত্রে ০.‌৫% বৃদ্ধি কমেছে। কয়লা, অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোপণ্য, সার, ইস্পাত, সিমেন্ট এবং বিদ্যুৎ। গত বছরের আগস্টে যে আটটি ক্ষেত্রে ৪.‌৭% বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছিল। এই তথ্য প্রকাশিত হল এমন এক সময়, যখন বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্রে শ্লথগতি প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, দেশ কি এক অবধারিত অর্থনৈতিক মন্দার দিকে এগোচ্ছে?‌ একগুঁয়ের মতো বাস্তবতাকে অস্বীকার করে যে প্রশ্নের জবাব ক্রমাগত এড়িয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রের সরকার। কয়লা, অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সিমেন্ট এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হ্রাসের হার যথাক্রমে ৮.‌৬%, ৫.‌৪%, ৩.‌৯%, ৪.‌৯% এবং ২.‌৯%। এই পরিসংখ্যান কেন্দ্রীয় শিল্প–বাণিজ্য মন্ত্রকের। একমাত্র সার এবং ইস্পাত উৎপাদনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হয়েছে ২.‌৯% এবং ৫%। এই হিসেব জুড়লে এপ্রিল–আগস্ট সময়সীমায় এই আটটি আকর শিল্পে বৃদ্ধি হয়েছে ২.‌৪%, যা এক বছর আগে একই সময়ে ছিল ৫.‌৭%।
বিনিয়োগ ও ঋণযোগ্যতা নির্ণায়ক সংস্থা ‘‌ইক্রা’‌ এই রিপোর্টের ভিত্তিতে বলছে, ২০১৯ আগস্ট পর্যন্ত দেশের এই শিল্প উৎপাদন পরিস্থিতি শুধু দুর্বল নয়, রীতিমতো হতাশাজনক। আটটি আকর শিল্পের মধ্যে ছটিই সার্বিকভাবে খারাপ পরিস্থিতির শিকার। ইক্রার প্রধান অর্থনীতিবিদ আদিত্য নাইয়া এদিন বলেছেন, সারা দেশের শিল্প উৎপাদনের ৪০.‌২৭ শতাংশের ভার ওই আটটি আকর শিল্পের ঘাড়ে। তাদের যদি নেতিবাচক বৃদ্ধি হয়, তা হলে জাতীয় শিল্প উৎপাদনের ওপর তার প্রভাব পড়তে বাধ্য।
দেশের অর্থনৈতিক মহলের ধারণা, শিল্প–বাণিজ্য মন্ত্রকের এই রিপোর্ট দেখার পরই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক নীতি বিষয়ক কমিটি এদিন তড়িঘড়ি বৈঠক ডেকে রেপো রেট আরও এক দফা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  
বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে চাহিদার অভাব এবং বাজারে টাকা না আসার কারণে দেশীয় বাণিজ্যে বেশ কিছু সময় ধরেই ভাটার টান। আর্থিক বৃদ্ধির হার কমে দঁাড়িয়েছে ৫%, যা গত ছয় বছরে সবথেকে কম। ব্যক্তিমানুষের কেনাকাটা এখন মাত্র ৩.‌১%, যা গত ১৮টি ত্রৈমাসিকের মধ্যে ন্যূনতম। সরকার বাণিজ্যে উৎসাহ দিতে কর্পোরেট করের হার কমিয়েছে, কিন্তু তাতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছেন বাজার অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা।‌‌
সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি এদিন জাতীয় অর্থনীতি নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশের আবেদন জানান সরকারের কাছে। সরকার যে শেষ পর্যন্ত জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমাতে বাধ্য হল, তার উল্লেখ করে ইয়েচুরি বলেন, সরকার অনেকদিন এটা চেপে রাখতে চাইলেও আর সম্ভব হল না। দেশ ধ্বংসের দিকে এগো

জনপ্রিয়

Back To Top