‌সমীরকুমার ঘোষ ও উপমন্যু রায়: অধিকাংশ পাঠকের দৃষ্টি উপন্যাসের দিকে থাকলেও পুজোসংখ্যা কিন্তু সব ধরনের পাঠকই টানতে চায়।
মূলত সিনেমার ছবি, শিল্পীদের নিয়ে নানা গপ্পোগাছা আর অনবদ্য উপন্যাসের জন্য ‌নবকল্লোল‌–‌এর চাহিদা ছিল তুঙ্গে। রূপা মজুমদারের সম্পাদনায় শারদ সংখ্যাটি সেই আগের মতোই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। উপন্যাস লিখেছেন প্রফুল্ল রায়, বাণী বসু, হীরেন চট্টোপাধ্যায়রা। গল্পকারের তালিকা আলো করে রয়েছেন বুদ্ধদেব গুহ, নবনীতা দেবসেন, তসলিমা নাসরিন, মানস ভাণ্ডারী, বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। আছে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সুবোধ সরকার, কৃষ্ণা বসুদের চমৎকার সব কবিতা। ভ্রমণকাহিনী লিখেছেন নবকুমার বসু।
শুধু মহিলা–‌পরিচালিত ও প্রকাশিত বলেই নয়, আর পাঁচটা পত্রিকার থেকে একসাথে‌ চরিত্রগতভাবে একেবারেই আলাদা। স্বাধীনতা থেকে রাজনৈতিক আন্দোলন— সবেতেই মেয়েরা নিয়েছেন অগ্রণী ভূমিকা। সেই তাঁরাই যখন পত্রিকা প্রকাশ করেন, তা স্বমহিমায় আলো হয়ে ওঠে।  একসাথে শারদ সংখ্যায় অতীত মিলেছে বর্তমানে। পত্রিকার বিশ বর্ষপূর্তি স্মারক সংখ্যায় শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন স্বয়ং কাকাবাবু, মানে মুজফ্‌ফর আহমেদ। এবার তা সগৌরব ৫০ বর্ষে। কনক মুখোপাধ্যায়, লক্ষ্মী সায়গল, বিমলা রণদিভে, মণিকুন্তলা সেন, সুফিয়া কামাল, সুকুমারী ভট্টাচার্যদের লেখায় ‘‌ফিরে দেখা’‌ পর্বটি সত্যিই উজ্জ্বল উদ্ধার। ওঁরা লিখেছেন বাংলা সাহিত্যে প্রগতি, হরিজন নারী, মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি, ধর্মীয় সাহিত্য ইত্যাদি নানা বিষয়ে। সমান গুরুত্বপূর্ণ ‘‌বর্তমান প্রজন্মের লেখনী’‌ পর্বটিও। বৃন্দা কারাত, মালিনী ভট্টাচার্য, রেখা গোস্বামী, সেরিনা জাহানরা আলোকপাত করেছেন উদারীকরণ, সাম্প্রদায়িকতা, নারী প্রগতি থেকে শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে। কবিতা, গল্প, অনুবাদ গল্প, সংস্কৃতি— সব মিলিয়ে পত্রিকাটি সংগ্রহযোগ্য। সুজাতা দাশগুপ্ত, বনানী মনসুর, বনানী বিশ্বাসরা দারুণ কাজ করেছেন।
যাঁরা শুধু গল্প পড়তেই ভালবাসেন, তাঁদের কাছে গল্পগুচ্ছ পরিচিত পত্রিকা। প্রতিষ্ঠিত লেখকদের পাশাপাশি নতুন লেখকদের সঙ্গেও পাঠকের পরিচয় ঘটিয়ে দেয় এই পত্রিকা। বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম ব্যক্তিত্ব নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এবার শতবর্ষে। স্বভাবতই পূর্বসূরিদের গল্প হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে তাঁর ‘‌শিল্পী’‌কে। লেখকের ছোটগল্প নিয়ে শ্যামল সেন ও শুভময় রায় দুটি চমৎকার প্রবন্ধও লিখেছেন। গল্প–‌পর্বে রয়েছে চিত্ত ঘোষাল, রবীন্দ্র গুহ, ভগীরথ মিশ্র, নলিনী বেরা, বর্ষা বসু, অরণ্যা সরকার, নীহারুল ইসলাম প্রমুখ। আছে অণুগল্প। সলাম বিন রজ্জাকের উর্দু গল্প ও বিজয়দান দেথার রাজস্থানী গল্প আছে প্রতিবেশী গল্প বিভাগে। সম্পাদক:‌ অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়
সাহিত্য দর্পণ চল্লিশ বছরে। চার দশক পত্রিকা চালানো চাট্টিখানি কথা নয়। লিটল ম্যাগাজিন সম্মানপ্রাপ্তি গুণমানেরও সাক্ষ্য। পত্রিকার প্রবন্ধ অংশটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। রমাপ্রসাদ দে, চিন্ময় গুহ‌, রবি রায়, অমলেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদেষ্ণা চট্টোপাধ্যায়রা লেখক তালিকায়। বিষয় হিসাবে নিবেদিতা, মহাশ্বেতা দেবী, বিনয় ঘোষের মতো ব্যক্তিত্বরা যেমন আছেন, আছে শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়ে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাবনা, মানিক সাহিত্যের প্রেম প্রকল্প বা সিন্ধু সভ্যতার হারিয়ে যাওয়া। আর রবীন্দ্রনাথ তো আছেনই। তাঁর শিক্ষাভাবনা আর চতুরঙ্গ উপন্যাস নিয়ে দুটি লেখা বেশ ভাল। গল্পের তালিকাটি দীর্ঘ। তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘‌মানিপ্লান্ট’‌, মানসী বসুর ‘‌চিরসখা হে’‌ নজর কাড়ে। শঙ্খ ঘোষ, পবিত্র মুখোপাধ্যায়, আশিস সান্যাল, রত্নেশ্বর হাজরাদের কবিতা পত্রিকার ভার বাড়িয়েছে। আছে রম্যরচনা, ভ্রমণ, নাটকও। সম্পাদক:‌ তরুণ রায়চৌধুরি।
রূপান্তরের পথে সমকালের পথে হাঁটতে চায়। ছোট হরফে তা তারা ঘোষণাও করেছে। শারদ সংখ্যা হলেও কলেবর তেমন পুষ্ট নয়। বঙ্কিমের বিষাদযোগ নিয়ে সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় লিখেছেন প্রবন্ধ। ইংরেজবাজারের ইতিহাস পাই সুস্মিতা সোমের কলমে। সুদীপ্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্ণব রায়, অর্পিতা গোস্বামী চৌধুরি, মেঘ অদিতিরা লিখেছেন গল্প। আছে কবিতা, অনুবাদ কবিতা, গদ্যকথাও। সম্পাদক:‌ দীপক মণ্ডল
বাংলা স্ট্রিট‌ পত্রিকার উৎসব সংখ্যার বড় আকর্ষণ দেবেশ রায়ের উপন্যাস। স্বামী ত্যাগীবরানন্দের লেখা ‘‌নাস্তিক নয়নে ধর্মোৎসব’‌ রচনাটি মনোগ্রাহী। সম্পাদক আশিস পণ্ডিত। স্বামী পরমাত্মানন্দ সম্পাদিত শারদীয় ‌বিশ্ববাণী‌ পত্রিকা মূলত ধর্ম ও দর্শন বিষয়ক। আছে দুর্গা, রামকৃষ্ণ, সারদাদেবী, স্বামী বিবেকানন্দ, স্বামী অভেদানন্দকে নিয়ে বেশ কিছু লেখা। ফারুক আহমেদ সম্পাদিত উদার আকাশ‌ পত্রিকার ইদ ও শারদ উৎসব সংখ্যায় আছে বিভিন্ন বিষয়ে বেশ কিছু প্রবন্ধ, গল্প, গ্রন্থ সমালোচনা। রয়েছে নজরুল ইসলামকে নিয়ে নূপুর কাজির স্মৃতিচারণা।
ছোটদের পত্রিকা সড়গড়‌‌র পুজো সংখ্যায় নবনীতা দেবসেন, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব গুহর গল্প বড় আকর্ষণ। ধারাবাহিক ভূতের গল্পও আছে। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, সৌম্য মুখোপাধ্যায়ের লেখা ভাল প্রবন্ধও আছে। লন্ডন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শুনিয়েছেন সায়ন্তকুমার পাল। রঙচঙে পত্রিকাটি ছোটদের মনে ধরবে। এ ছাড়া দেবাশিস বসু সম্পাদিত আমপাতা জামপাতা,‌ অশোককুমার মিত্রের ঝালপালা‌,‌ সুজিতকুমার পাত্রের কলকাকলি‌ পত্রিকার পুজো বার্ষিকীও সুচিন্তিত রচনায় সমৃদ্ধ এবং যথেষ্ট আকর্ষক।‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ ■

জনপ্রিয়

Back To Top