‌‌জি সি দাস। কলকাতার ময়দানে চেনা মুখ। তার থেকেও বেশি ভূপর্যটক। ঘিয়ে কিংবা ছাই রংয়ের সাফারি স্যুট এবং একটি অ্যাটাচি কেস— ‌দূর থেকেই চেনা যেত। আশ্চর্য সেই অ্যাটাচিতে সঁাটা দেশ–‌বিদেশের বিভিন্ন খেলার প্রতিযোগিতায় উপস্থিতির অভিজ্ঞান। বিশ্বকাপ ফুটবল, অলিম্পিক— আরও কত কিছু!‌ বিচিত্র মানুষ, বিচিত্র শখ। রীতিমতো ঈর্ষণীয় তঁার সংগ্রহ। ছেলেবেলায় আমারও যেমন ছিল স্ক্র‌্যাপ বুক। সাদা–‌কালো পত্রিকা থেকে কেটে রাখা ছবি–‌রিপোর্ট, প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি। খেলাধুলোর স্মারক সংগ্রহের এই শখ ইতিহাসের মর্যাদা পায়নি আমাদের দেশে। বস্তুত খেলাধুলো নিয়ে আজও গবেষণা–‌চর্চা জাতে ওঠেনি। বোরিয়া মজুমদার এই অবজ্ঞার পঁাচিলটা ভাঙতে সাহস দেখিয়েছেন। খেলাধুলোর স্মতিচিহ্ন নিয়ে আস্ত একটা বই ছাপার সাহস দেখিয়েছে বাংলার সংস্থা দীপ প্রকাশন, বড় কাজ নিঃসন্দেহে। মেরি হোমকে প্রেম নিবেদনে লেখা রঞ্জিত সিংজির কবিতা, ভারত বিশ্বকাপ জেতার পর লতা মঙ্গেশকরের বিশেষ রেকর্ড, শচীনের জার্সি, সানিয়ার র‌্যাকেট—‌ গায়ে কঁাটা দেয়। রোডস স্কলার বোরিয়ার পাণ্ডিত্য নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই, এখানে টুপি খুলব তঁার সংযম নিয়ে। এক একটি বিষয়ে লুকিয়ে ছোট গল্প, কোথাও বা উপন্যাসের উপাদান— তবু বোরিয়া সংক্ষিপ্ত। মূল বইটি ইংরেজিতে লেখা, বাংলায় অনূদিত। আশা রাখব,পরের সংস্করণে ইংরেজির হাত ছেড়ে বাংলা একটু একা একা হঁাটবে। পাতায় পাতায় বিস্ময় ছড়ানো, রঙিন ছবি, দুষ্প্রাপ্য স্মারক। খেলাপাগলরা এই বই বুকে আঁকড়ে নেবেন নিশ্চিত। ■

জনপ্রিয়

Back To Top