আমার না বলা কথা • সুচিত্রা মিত্র • 
কারিগর  • ৫০০ টাকা
যাঁর অস্তিত্বটাই রবীন্দ্রনাথের গান, তাঁরই উচ্চারণে নিজস্ব না–‌বলা কথা। আপামর বিশ্বের রবীন্দ্রপ্রেমীদের উদ্বেল করার জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল।
কিন্তু এই সামান্য প্রদানেই ক্ষান্ত নয় এই গ্রন্থ। অনবদ্য আত্মকথনের উচ্ছ্বাসহীন আওয়াজ। দিনলিপির ধাঁচে। আঙ্গিকগত বৈশিষ্ট্যে অন্যরকম এই গ্রন্থনা। তাতেই প্রকাশ পেয়েছে অনেক না–‌শোনা কথা, না–‌জানা কষ্ট জোরালো ভঙ্গিতে নিজস্ব কেতায়। যাতে আর যাই থাকুক, প্লাস্টিক মেরুদণ্ডের ছোঁয়া নেই। কুঁচকে যাওয়া ভাব নেই এতটুকু।
আর নেই বলেই তিনি অক্লেশে বলেন, চ্যালেঞ্জের ভঙ্গিতে বলেন, রবীন্দ্রনাথকে ‘‌কে খতম করবে?‌ তারা আর যেই হোক, (‌বুদ্ধিজীবী কথাটিতে যদি আপত্তি থাকে— না হয় বাতিল করে দিচ্ছি)‌ মানুষ তো নয়.‌.‌.‌’‌ সেই সঙ্গে জুড়ে দেন এক অনবদ্য আকুতি, রবীন্দ্র সঙ্গীতের সার্বজনিক প্রসৃতির প্রয়োজনে, ‘‌রবীন্দ্রনাথের গান সকলে করুন— ভুল কি ঠিক, ভালো কি মন্দ— সে বিচার করবে Prosperity‌। গলা টিপে গান বন্ধ করার পক্ষে আর যাঁরাই থাকুন, আমি অন্তত নেই।’‌ (‌এখানে বলা আবশ্যক, উল্লিখিত অংশে ‘‌Prosperity‌’‌ টা মুদ্রণপ্রমাদ। কাঙ্খিত শব্দটি হল ‘‌Posteriority‌’‌। এরকম প্রমাদ এ ধরনের বইতে দৃষ্টিকটু।)‌
১.‌১০.‌১৯৮৬‌–‌র সকাল ৬টার ডায়েরির পাতায় লেখা অনবদ্য আত্ম–‌অভিজ্ঞান— ‘‌মানুষের ক্ষুদ্রতা, নীচতা, হিংস্রতা, ব্যথা দেওয়ার torture ‌আর গায়ে লাগত না— কখনোই লাগত না। ‘‌যাব চলে হাসিমুখে/‌যাব নীরবে’‌। নাঃ, এ সুখ আমার কপালেই ছিল না, তাই মৃত্যু পর্যন্ত আমাকে প্রত্যাখ্যান করল।’‌ তারই সঙ্গে লগ্ন থাকে হাহাকার, ‘‌কোথায় গেল সেই দৃঢ়তা— কোথায় হারালাম এই বিশ্বাস— এই সাহস?‌ এ আমার কী হল?‌ আবার কি ফেরত পাব না আমার আপনাকে— আমার সত্যকে?‌’‌
এমনই আখরে এগিয়েছে বইটি। সুচিত্রা যখন লেখেন নিজের সঙ্গে নিজের আলাপের অনুষঙ্গে ‘‌গত প্রায় পঞ্চাশবছর ধরে অর্থের বিনিময়ে গান বিক্রি করে যেতে বাধ্য হলাম। ক্লান্ত হয়ে পড়লাম‌।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top