অগ্নি পান্ডে

আ সেঞ্চুরি ইজ নট এনাফ • সৌরভ গাঙ্গুলি উইথ গৌতম ভট্টাচার্য • জাগারনট • ৬৯৯ টাকা

আত্মজীবনী তো নয়ই। সেটা এখনও লেখা হয়ে ওঠেনি। বলা যেতে পারে বইটি হল, জীবনের চড়াই–উতরাইয়ের জীবন্ত দলিল। আসলে বর্তমান সমাজে বেঁচে থাকার সংগ্রামে লক্ষ, লক্ষ যুবক–যুবতীর উদ্দেশ্যেই যেন লড়াইয়ের বার্তা। সফল হওয়ার দিকনির্দেশ। আরও ভাল করে বললে— মার্গদর্শন। যা মাঠের সাদা দড়ির বাইরেও। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে।
নিজেই লিখেছেন, ‘আমার জীবনের রোলার–কোস্টার রাইড টু সাক্সেস’। ২৬৫ পাতার দস্তাবেজে কী নেই!‌ সব তথ্য উঠে এসেছে। এতদিন সৌরভ গাঙ্গুলিকে নিয়ে বহু বই লেখা হয়েছে। তা হলে সেই সব বই থেকে ওই বইয়ের তফাত? অবশ্যই রয়েছে। এই বইয়ে স্বয়ং সৌরভ গাঙ্গুলি জানাচ্ছেন, তাঁর ক্রিকেটজীবনের পুঙ্খানুপুঙ্খ ঘটনা। তিনটি অধ্যায়। প্রথম অধ্যায়: ক্লাইম্বিং টু দ্য টপ। সেখানেই রয়েছে সাতটি প্রতি–অধ্যায়। প্রতিটি অধ্যায় পড়লে যেন চোখের সামনে লাইভ সৌরভ গাঙ্গুলির উত্থান দেখতে পাচ্ছেন! কী জীবন্ত! ভাবা যায় না! মোট সতেরোটি প্রতি–অধ্যায়।
বলা যেতে পারে বইটি হল, ‘মাইন্ডগেম’। মননের শক্তি বিকাশ। পাঠক–পাঠিকা পড়লেই বুঝতে পারবেন, চোখের সামনে যে ‘দাদা’‌র লড়াই দেখেছেন, তা আরও একবার লিপিবদ্ধ করে রাখার দুর্দান্ত প্রয়াস। গৌতম ভট্টাচার্যের সাবলীল ইংরেজি ভাষা পড়তে অন্তরায় হয় না। ঝরঝরে গদ্য যেন সৌরভ গাঙ্গুলির কভারড্রাইভের মতোই। সেই ময়দানি উক্তি: ‘বাপী বাড়ি যা’। সেটাও তো একটা প্রতি–অধ্যায়। পড়তেই হয়। বড়ই বেদনার, যন্ত্রণার সেই কোনও এক ঝলমলে অষ্টমীর বিকেল! যা মুহূর্তেই যেন বাংলা–বাঙালির যাবতীয় আনন্দ শুষে নিয়ে ছিল। অষ্টমীতেই বিদায়ের মূর্ছনা। পড়লে মনে হবে সৌরভ গাঙ্গুলি যেন আপনার সামনে বসে নিখুঁত বর্ণনায় নিজের অবসর ঘোষণা করলেন এই মুহূর্তে। ‘আনাউন্সিং দ্য এন্ড’ দিয়েই শুরু জীবনের চড়াই–উতরাইয়ের বিবরণ।
পড়তেই হয় ‘সেভেন ডেজ উইথ গ্রেগ চ্যাপেল’। সাতটি দিন কীভাবে সৌরভ গাঙ্গুলির ক্রিকেটজীবন বদলে দিয়ে ছিল। নিউজিল্যান্ড–অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার আগে নিজেই কাউকে না জানিয়ে চলে গিয়েছিলেন স্যর ডনের দেশে গ্রেগ চ্যাপেলের কাছে। নিজেকে তৈরি করে নিতে। কী মধুর সম্পর্ক তখন দাদা আর গুরু গ্রেগের! বিস্তারিত বিররণ। যা সৌরভ আজও মনে করেন ক্রিকেটজীবনের সেরা সাতটি দিন। ‘ওয়েভিং দ্য শার্ট অ্যাট লর্ডস’। পড়লে তো টগবগ করে ফুটতে বাধ্য যে কোনও ভারতীয়। থুড়ি, বাঙালি তো বটেই। যা সারাজীবন অমলিন থেকে যাবে বাঙালির হৃদয়ে। নিজে যদিও এখন সেই প্রসঙ্গ তুললে খুব লজ্জা পেয়ে থাকেন।
‘গিভিং আপ ইজ নট আ অপশন’। সত্যিই তো তাই। ছেড়ে দেবই বা কেন? শেষ দেখেই তবে তো ছাড়ব!‌ মনে পড়ে সেই বহুজাতিক মার্কিন ঠান্ডা পানীয়ের সেই বিখ্যাত বিজ্ঞাপন। ‘মেরা নাম সৌরভ গাঙ্গুলি। ভুলে তো নেহি?’ খুঁটিয়ে পড়লে জানা যায়, বিজ্ঞাপনটি করতে একদমই রাজি ছিলেন না সৌরভ। গ্রেগ–জমানায় ২০০৭–এ ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপের আগে যা শোরগোল ফেলে দিয়েছিল বিজ্ঞাপনের জগতে। বাধ্য হয়েই করতে হয়েছিল। আদালতের নোটিসে। সত্যি, সৌরভ গাঙ্গুলিকে কখনওই তো ভুলে যাওযার কোনও কারণ ছিল না। নেইও। যতদিন ভারতীয় ক্রিকেট থাকবে সৌরভ থাকবেন স্বমহিমায়। ‘লাইফ উইথ শাহরুখ খান’। নাইট রাইডার্সের অন্দরমহলের ছবি। কেন তাঁকে সরে যেতে হয়েছিল? কেন আইপিএল মানেই ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরাই শেষ কথা? সব জানিয়েছেন সৌরভ নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই। ঠিকই তো তাঁর জীবনে শতরান কখনওই যথেষ্ট ছিল না। নইলে জিম্বাবোয়েতে শতরান করার পরও তাঁকে সরানোর চক্রান্ত হয়? বইটিতে সেটাই তো বলা। বলেছেন কে? সৌরভ নিজেই।‌‌‌ ■

জনপ্রিয়

Back To Top