প্রকৃত অর্থে তিনি রানি ছিলেন না। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘‌রাণী’‌। আর মা নাম রেখেছিলেন ‘‌রাসমণি’। ঘটনাক্রমে এই দুটো নাম এক হয়ে গিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন মহীয়সী রানি রাসমণি। সেই ইংরেজ আমলে কীভাবে তিনি ইংরেজশাসকদের অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছেন, এমনকি ইংরেজদের অপদস্থ করেছেন, সেই  কাহিনি রীতিমতো রোমহর্ষক।  তাঁর কীর্তি ছাপিয়ে যায় সব সঙ্কীর্ণতা আর কুসংস্কারের বেড়াজাল। তৎকালীন বাংলার বদ্ধ জলাশয়ে যেন ঢেউ উঠল রানি রাসমণির ইতিহাস হয়ে ওঠায়। সাল, তারিখ, ঘটনাক্রমের কচকচানিতে নয়, বরং ছোট ছোট গল্পের মোড়কে রাসমণির আধ্যাত্মিক আর মানবিক প্রেমের রূপকে পাঠকের কাছে মলাটবন্দী করে উপস্থাপন করেছেন নিখিলকুমার চক্রবর্তী। শিরোনাম ‘‌এক যে ছিল রাণী’‌। ১৬০ পৃষ্ঠার বইটি সেজে উঠেছে রাসমণির কীর্তিগাথায়। সেখানে কেবল দক্ষিণেশ্বরের প্রতিষ্ঠাত্রী নয়, বরং ধরা পড়েছে বাংলার সমাজ এবং মানুষের উন্নতিতে রাসমণির ‘মা’‌ হয়ে ওঠার শিহরণ জাগানো কাহিনী। ক্রমে ‘‌এক যে ছিল রানী’‌ হয়ে উঠেছে এক অনবদ্য রাসমণি–অভিধান। যা গল্পের আকারে পাঠককে জানিয়ে দিয়ে গেছে এক সাধারণীর অসাধারণ হয়ে ওঠার কথা। যেখানে মিলেমিশে গেছে ইতিহাস আর মানবতা। রাসমণির জন্ম থেকে ধাপে ধাপে লেখক এগিয়েছেন এক নারীর  যুগজননী হয়ে ওঠার পথে। বইয়ের আকর্ষণ বাড়িয়েছে  রাসমণি ব্যবহৃত জিনিসপত্র,  জানবাজারের বাড়ির বিভিন্ন অংশের ছবি–সহ রাসমণি সম্পর্কিত একাধিক ঐতিহাসিক চিত্রসম্ভার। সব মিলিয়ে এই বই রানি রাসমণিকে জানার এক অনবদ্য উপহার। লেখক নিখিলকুমার চক্রবর্তী দীর্ঘদিন জানবাজারে রাসমণির বাড়ি, তাঁর বংশধরদের সাক্ষাৎকার এবং বিভিন্ন বইপত্র ঘেঁটে এই তথ্যবহুল বইটি লিখেছেন। ■
এক যে ছিল রাণী • নিখিলকুমার চক্রবর্তী • শ্রীশ্রী করুণাময়ী কালীমাতা মন্দির (‌‌লেক কালীবাড়ি)‌‌ • ২৫০ টাকা
লোপামুদ্রা ভৌমিক‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top