রাজীব চক্রবর্তী: পত্রিকার সম্পাদক গৌরব কেতন লাহিড়ী‌। প্রথম সংখ্যা ‘‌আচমন’–এর ক্রোড়পত্র সেজেছে ভারতীয় শিল্প–সাহিত্য–সংস্কৃতির অঙ্গন যে–সমস্ত সহোদর–সহোদরাদের নিষ্ঠা ও সাধনায় ঋদ্ধ হয়েছিল তাঁদেরই কয়েকজন সহোদর–সহোদরা যুগলের প্রতি স্মৃতিতর্পণে। সঞ্জীবচন্দ্র–বঙ্কিমচন্দ্র, অবনীন্দ্র–গগনেন্দ্র, রাজশেখর–গিরীন্দ্রশেখর, আলাউদ্দিন–আয়েত আলী, মণীশ–ঋত্বিক, বলরাজ–ভীষ্ম সাহনি যুগলদের কীর্তির আলোচনায়। ‘বেদবিধি ও বাংলার সাধনা’ লেখাটি তথ্যভ্রান্তি, ব্যাকরণগত ভুল এবং অপ্রয়োজনীয় তথ্যের ভিড়ে আকীর্ণ। আছে শ্রীমৎ অনির্বাণ–তাঁর বোন সুরবালা–ভাগনি নারায়ণী দেবী, কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ–মাধবানন্দ এবং শ্রীচৈতন্য–বিশ্বরূপকে নিয়ে আলোচনা। চপল ভাদুড়ীকে নিয়ে লেখা ‘ভাদুড়ী সম্প্রদায়ের শেষ প্রদীপ’। ‘সাক্ষাৎকার: চপল ভাদুড়ী’ এই সঙ্কলনের মূল্যবান সংযোজন। ‘অনুষ্টুপ ছন্দ’ বিভাগে রয়েছে দুটি কবিতা।
‘পুনরুচ্চারণ’ বিভাগে প্রণবকুমার মুখোপাধ্যায়ের নেওয়া বিমল করের সাক্ষাৎকারটি পুনর্মুদ্রণ হলেও প্রাসঙ্গিক। প্রবীণ ভাস্কর উমা সিদ্ধান্ত লিখিত শুভেচ্ছাবার্তা এবং তাঁর আঁকা চিত্রটি পত্রিকার অঙ্গসৌষ্ঠব বাড়িয়েছে। ‘চারুকলা’ বিভাগটির পরিকল্পনা অভিনব— চারজন চিত্রকরের আঁকা চারটি ছবি সুদৃশ্য খামে পরিবেশনা চিত্রকলার প্রতি পত্রিকার পক্ষপাতেরই পরিচায়ক। পত্রিকাটির মুদ্রণ ও অলঙ্করণ পারিপাট্য বিশিষ্টতার দাবিদার। সম্পাদক জানিয়েছিলেন, ‘‌‌এমন কয়েকজন ভাই–বোনেদের নিয়েই সূচনাসংখ্যার ক্রোড়পত্র।’‌ একমাত্র আলাউদ্দিন–আয়েত আলী প্রসঙ্গেই আলি আকবর সহোদরা অন্নপূর্ণা দেবী ছাড়া বোনেরা বাইরেই রয়ে গেলেন!‌ অবন–গগনের সঙ্গে সুনয়নী আসতেই পারতেন বা মণীশ–ঋত্বিকের সঙ্গে প্রতীতি বা এরকম আরও কেউ। পরিমাণে খুব কম হলেও বানানের ভূত কাঁধে চেপে রয়েছে এই পত্রিকার। তবে এই পত্রিকা আমাদের ছোট পত্রিকার সংসারে একটি মূল্যবান সংযোজন।‌‌‌‌‌ ■

জনপ্রিয়

Back To Top