বলরাম বসাক‌‌‌‌‌‌‌‌‌: সৈয়দ মুজতবা আলির ‘‌জলে ডাঙায়’‌ এক রসরত্নভাণ্ডার। ধূলি‌ধূসরিত শতকীটফুটো প্রতিটি পাতা। দেখে আঁতকে উঠলেও চোখ দুটো বই থেকে অন্যত্র সরতে ভুলে গেল লেখকের মজারুপনায়। জাহাজযাত্রায় শুরুতে একদিকে জলযানে, অন্যদিকে ডাঙায় খালাসিদের দড়িদড়া টানাটানিতে ‘‌চিৎকার অট্টরব’‌ এমনই যে ওটা নারায়ণগঞ্জে দাঁড়িয়ে ‘‌চাঁটগাঁইয়া’‌?‌ ‘‌না হামবুর্গে জর্মন’?‌‌ লেখক–মতে ‘‌খালাসি–‌মনস্তত্ত্ব’‌। ওরই মধ্যে লেখক শুনে যাচ্ছেন মাইকেলি ‘‌রথচক্র–‌ঘর্ঘর–‌কোদণ্ড টঙ্কার’‌ ছাপিয়ে জাহাজের ‘‌ভোঁ ভোঁ–‌ভোঁ–‌ভোঁ। ‘‌যাত্রীদের পড়ি কি মরি ছুট। বদর বদর বলে জাহাজ ছাড়ল সন্ধেবেলা। তখন আরবসাগরে বহু জাহাজ আর ডিঙি যেন ভাসছে প্রদীপমালা।’‌ মজা পাতার পর পাতায়। জাহাজের ভেতরে। সঙ্গে জুটল তিন সুখসঙ্গী। ইডেন বন্দরের দিকে.‌.‌.‌মাঝখানে লেখকের শোনানো জিরাফ কাহিনী। তারপর জিবুটি বন্দর‌রহস্য। সুয়ে বন্দরে পৌঁছানো। কায়রোতে এসে মিশরের মরুভূমির পেছনে সূর্য–অস্ত— সোনালি বালিতে রঙের খেলা। মরুভূমির ওপর চন্দ্রালোক— পিরামিড দৃশ্য। রান্নার ‘‌খুশবাই’য়ে কায়রোর ম–ম করা রাস্তা। রেস্তোরাঁয় ‘‌তিন ডবল সাইজের শসা’‌র ভেতর পোলাও মাংসের টুকরো, টমেটোর কুচি আর পনির.‌.‌.‌।‌ ১৬৬ পৃষ্ঠার চমৎকারিত্বে খাবি খেয়েছি। ১৩৬৩–র মাঘ মাসে বেঙ্গল পাবলিশার্স থেকে বেরিয়ে ছিল। আবার পড়ব বলে প্রেসিডেন্সির ফুটপাথে দেখতে পেয়েই কিনে নিয়েছিলাম ১০ টাকায়। আসল দাম ঘষে ঘষে তুলে দেওয়া!‌ ■

জনপ্রিয়

Back To Top