শঙ্কর মুখার্জি: উনিশশো একত্রিশ সালের মার্চ মাসে ইউরোপ সফর করেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বি এস মুঞ্জে। ইতালি, ইংল্যান্ড এবং জার্মানিতে তিনি গিয়েছিলেন। ইতালি সফরকালে ফ্যাসিস্ট পার্টির সামরিক স্কুলগুলি দেখার ইচ্ছে তিনি জানিয়েছিলেন স্বয়ং মুসোলিনিকে। এই ধরনের সামরিক প্রশিক্ষণের জন্যে স্কুলের প্রয়োজন যে ভারতেও আছে সে–কথা তিনি গোপন করেননি মুসোলিনির কাছে। ইতালিতে থাকাকালীন সামরিক স্কুলগুলি–সহ ফ্যাসিস্টদের পরিচালিত আরও বহু সংগঠন তিনি ঘুরে দেখেন। মুঞ্জে তাঁর দিনলিপিতে লিখেছেন: ‘‌বালিল্লা সংগঠনগুলি এবং তাদের সামগ্রিক সাংগঠনিক ধারণা আমাকে অবাক করে দিয়েছে।
মুসোলিনি পুরো বিষয়টা ভেবেছিলেন ইতালির সামরিক শক্তির নবজাগরণের কথা চিন্তা করেই। ইতালীয়রা ঠিক ভারতীয়দের মতোই যুদ্ধবিমুখ। ভারতীয়দের মতো শান্তিচর্চা করতে গিয়ে ইতালীয়রা যুদ্ধবিদ্যাকে অবহেলা করেছে.‌.‌.‌ ভারত এবং বিশেষ করে হিন্দু ভারতের এইরকম সংগঠন প্রয়োজন, হিন্দুদের সামরিক নবজাগরণের জন্যেই এমনটা প্রয়োজন। আমাদের প্রতিষ্ঠান নাগপুরের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ অনেকটা এইরকম, যদিও এটা স্বাধীন ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। আমি আমার জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলি ডাক্তার হেডগেওয়ারের এই প্রতিষ্ঠানকে আরো বড়ো করতে মহারাষ্ট্র তথা অন্যান্য প্রদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে কাজ করে যাব।’‌
দেশে ফিরে মুঞ্জে ইতালির ফ্যাসিস্ট সংগঠনগুলির বিশেষ করে ‘‌বালিল্লা’‌ এবং ‘‌Avangnardisti’‌র কার্যপ্রণালী আরএসএসের ভেতরে চালু করেন। আরও পরে, গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকে আরএসএসের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিদ্যাভারতী গড়ে ওঠে। ফ্যাসিস্ট ভাবাদর্শেই তৈরি হয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
আরএসএসের জন্মলগ্ন থেকেই হিন্দু ভারত গঠনের ভাবনা, ইতালির ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের সাংগঠনিক কর্মপদ্ধতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে তার আদর্শে আরএসএসকে গড়ে তোলা–সহ স্বাধীনতাপূর্ব সময় থেকে একেবারে হাল আমলে নরেন্দ্র মোদির শাসনকালে কীভাবে আরএসএস তার সাম্প্রদায়িক বিভাজনকামী হিন্দু জাতীয়তাবাদের মতাদর্শকে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ভারতের সমাজজীবনে প্রোথিত করে চলেছে তার গবেষণালব্ধ বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যার এক অসামান্য দলিল বলা যায় গৌতম রায়ের লেখা ‘‌আর এস এস ও বর্তমান ভারত’‌ বইটি। ■
আর এস এস ও বর্তমান ভারত • গৌতম রায় শব্দের মিছিল • ৩০০ টাকা‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top