নিবেদিতা চান রবীন্দ্রনাথের সখ্য। বিবেকানন্দের তা ভারী অপছন্দ। নিবেদিতা রাজনীতিতে জড়িয়ে। ব্রহ্মানন্দ তাঁকে মিশন ত্যাগ করতে বললেন। বিবেকানন্দের সঙ্গে নিবেদিতার ঘনিষ্ঠতা। স্বামীজির পাশ্চাত্য শিষ্যাদের মধ্যে তার দরুন ভীষণ অসূয়া। এমন–কি বিবেকানন্দ–সঙ্গ ত্যাগ।
প্যাট্রিকের কাজ করছেন নিবেদিতা। বিবেকানন্দ তাঁকে ঘনিষ্ঠ হতে প্রবেশাধিকার দিচ্ছেন না। অভিনেত্রী এমা কালভের অভিনয়ে মুগ্ধ বিবেকানন্দ। নিবেদিতা বিরক্ত।
অমরনাথ দর্শনের পর ভাবাবিষ্ট বিবেকানন্দ। নিবেদিতা ক্ষুব্ধ।
এরকম অজস্র টানাপোড়েনের ছবি। একেবারে নিজস্ব উচ্চারণে। ডায়েরির হিসেব মেনে। দিন কাল স্থান অনুসারে। পর পর। অগণিত বহুচর্চিত কিন্তু ঐতিহাসিক তথ্যের আলো থেকে বঞ্চিত বিষয়। তথ্যের অভাবে কল্পনা উসকানি পায়। ভ্রান্তি ডানা মেলে। সে–সব কাটাছেঁড়ার আয়োজন এই বইয়ের পাতায় পাতায়। স্বামীজির সঙ্গে প্রথম দর্শনের দিন থেকে একেবারে রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে বিচ্ছেদ পর্যন্ত দিনলিপি। শেষে নিবেদিতার তিরোধানের পুঙ্খানুপুঙ্খ চিত্র। সেটাতে অবশ্য দিনলিপির ছোঁয়া নেই। সে পাতায় গ্রন্থকারের আশ্রয় লেডি অবলা বসু আর রবীন্দ্রনাথের লেখা, তাঁদের অনুভূতি উপলব্ধি।
তিরতির করে শিরদাঁড়ায় বিস্ময় ছড়ায়। অনেকবার জানতে চেয়ে মাথা কুটে মরা কিন্তু শেষে অপ্রাপ্তির হতাশা জাগানো বিষয়ের ওপর আলোকপাত। সবটাই নিবেদিতার দৃষ্টিকোণ থেকে। তাঁর অনুভূতি মাখানো নিবেদিতা যেটুকু নিজের ডায়েরিতে, লেখালেখির পরিসরে, চিঠিপত্রে প্রকাশ করেছিলেন সে–সবের উপস্থাপনা তো আছেই, সেই সঙ্গে সমকালীন অন্যদের চিঠিপত্র এবং স্মৃতিচারণা।
এই ডায়েরির প্রত্যেকটি শব্দ নিবেদিতার স্বহস্তে লিখিত না হলেও নিবেদিতারই। ■

জনপ্রিয়

Back To Top