সব্যসাচী সরকার: আমি বার পাঁচেক সুন্দরবন গিয়েছি। আমার সঙ্গে দীনুমামা ছিল না। সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখেছি। দীনুমামার মতো করে কেউ দেখায়নি। কারণ, আমি নিতাই হয়ে উঠতে পারিনি।
সুন্দরবনে। বইটির বিশেষত্ব, ভ্রমণ, তথ্য, বাস্তব, লোকজীবন ও কাহিনী একই আধারে ধরা। মূল চরিত্র নিতাই। সে যেন বিস্ময়বালক। সাহসীও বটে। সে শঙ্খিনী সাপের হাড় নিয়ে ভাবিত, জলদস্যুদের দেখে ভীত, আবার আক্রমণেও যায়। দীনুমামা তার ভাগনে নিতাই মুখার্জি আমাদের স্টিমারে করে, পায়ে হেঁটে সুন্দরবন দেখিয়েছে। না, ‘‌সন্তু ও কাকাবাবু’‌ মনে হওয়ার কারণ নেই!‌
সুন্দরবনের জল, জঙ্গল, প্রাণিজগৎ নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়। হচ্ছে। কিন্তু, লেখক এমন একটি দিক বেছে নিয়েছেন, যা পড়তে পড়তে, বই শেষ করে মানসভ্রমণের সঙ্গে ধারণা ও সত্যের দূরত্ব দূরে যায়। শোনা কথা ও পড়ার ফারাক থাকেই। বইটিতে টুকরো টুকরো চরিত্রগুলো, একেক সময় মনে হয়, আমাদের স্টিমার যাত্রার সঙ্গী হয়েই, আমার পাশে বসে।
বইয়ে ডাকাতের প্রসঙ্গ এসেছে। জলদস্যু আর কি!‌ তাদের দুর্দশার চিত্রও রয়েছে বইটিতে। কিছু কিছু পঙ্‌ক্তি, বর্ণনায় ছবির মতো। একটু লিখি:‌ ‘‌কুচকুচে কালো। বিশাল সাইজের মাগুর। হঠাৎ দেখলে মনে হয় ভূগোল বইয়ের অস্পষ্ট ব্লকে, ছাপা যেন একখানা ছোট সাইজের সিলমাছ। কিংবা, হ্যামিলটন সাহেবের ইতিহাস। মণিবাবু, এমন একটি চরিত্র যিনি দার্শনিক। তার কাছে সব ইতিহাস, ঘটনা সব কণ্ঠস্থ।’‌
বইটিতে বিভিন্ন পর্ব রয়েছে। জলে–‌জঙ্গলে পাহারাদার, অ্যাকোমোডেশন বোট, নজরদারি, বাঘের মুখোমুখি, নেতি ধোপানির ঘাটে, গোসাবা— ইত্যাদি। প্রত্যেকটি পর্বেই নতুন চমক। তাপস গঙ্গোপাধ্যায় নামী সাংবাদিক। লেখায় তাঁর নিজস্ব স্টাইলের সঙ্গে মিশে আছে অনুসন্ধিৎসা। সেখানেই এই বইয়ের সিদ্ধি। বাংলায় ভ্রমণ ও স্থানিক ইতিহাসের মিশেলে এ ধরনের বই বোধহয় খুব বেশি নেই। আমি কেন এমন দীনুমামা পাইনি, বই পড়লে আক্ষেপ হয়?‌ উৎসাহও হয়।‌‌ ■
সুন্দরবনে • তাপস গঙ্গোপাধ্যায়
পরশ পাথর প্রকাশনা • ১৫০ টাকা
 

জনপ্রিয়

Back To Top