অভিজিৎ বসাক:
বছরভর অজস্র বাংলা সিনেমা মুক্তি পায়। এর মধ্যে কোনওটি বাণিজ্য–সফল হয় এবং কোনওটি জাতীয় পুরস্কার আনে। তবে সিনেমা নিয়ে বাংলা ভাষায় বইপত্র প্রয়োজনের তুলনায় যেন কম। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় চলচ্চিত্র নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি হয়। তবে সিনেমাপ্রেমী এবং পড়ুয়াদের আশ মেটে কই!‌ এমন সিনেমা–বই চাহিদার সময়ে ‘‌বর্ধমান চলচ্চিত্র চর্চা কেন্দ্র’‌ চেষ্টা করেছে তা পূরণের। তাদের মুখপত্র ‘‌ছায়াচিত্র’‌। প্রতিষ্ঠানের ২৫ বছর উপলক্ষে মুখপত্রের বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে— ‘‌ছায়াচিত্র বিশেষ সংখ্যা ২০১৮’‌। মূল্যবান কাজ সন্দেহ নেই। তবে তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কলকাতার চাকচিক্য থেকে বহুদূরে নিরলস সিনেমার চর্চা করে যাওয়া। একটানা ২৫ বছর ধরে।
নতুন–পুরনো ২২টি লেখায় সমৃদ্ধ পত্রিকা। লেখক–তালিকায় রয়েছেন বিশিষ্টরা। পাঁচটি বিষয়ে আলোচনা করেছেন। চলচ্চিত্র–শিল্পী–পরিচালক, ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলন, চলচ্চিত্র–চর্চা ও বর্ধমান, স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র এবং চলচ্চিত্রে ভাষা, নামাঙ্কন, সাহিত্য–চলচ্চিত্র ও অন্যান্য। চার্লি চ্যাপলিন, তুলসী চক্রবর্তী, ক্লিন্ট ইস্টউড, আব্বাস কিয়ারোস্তামি, সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটকদের কাজ নতুনভাবে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা হয়েছে। বর্ধমানে সিনেমা–চর্চা নিয়ে লেখাগুলি মন টানে। কী করে সেখানে সংগঠিত উপায়ে সিনেমাচর্চা হচ্ছে, তার বেশ সুন্দর বর্ণনা রয়েছে। শিক্ষণীয় এই ইতিহাস। কঠিন তাঁদের পথহাঁটার ঘটনা জেনে উৎসাহ পাওয়া যায়। সিনেমাপ্রেমী এবং ছাত্রদের জন্য সংগ্রহযোগ্য সংখ্যা। পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীতে রয়েছেন বর্ধমানের কৃতী কয়েকজন মানুষ। সম্পাদনা ও প্রচ্ছদ পরিকল্পনা তারকনাথ দত্তের। ব্যবহার করা হয়েছে অমূল্য বেশ কয়েকটি ছবি, সিনেমার পোস্টার। তবে ক্ষেত্রবিশেষে মুদ্রণগুণ উচ্চমানের নয়। এত আন্তরিক প্রয়াসে এ ত্রুটি মানব কেন!‌‌
১৯৯৩ সালে ১৫ এপ্রিল রাজবাড়িতে যে সংগঠন গড়ে উঠেছিল, আজ তার ডালপালা ছড়িয়ে পড়েছে দুই বর্ধমানের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের আঙিনায়। ■

জনপ্রিয়

Back To Top