একেবারে অন্য ধাঁচের, জীবনের অন্য ঠিকানা খোঁজা এক আত্মকথা। পোশাক খুলে যা শরীরের উন্মোচন নয়, দেখায় লেখকের আত্মা পর্যন্ত নগ্ন করে। ছোট ছোট অথচ তীক্ষ্ণ মন্তব্যে এগিয়েছে এ ‌জার্নাল। কখনও আড্ডা, কখনও ডায়েরির ঢঙে। রসে এবং সাহসে অসীম রায়ের এ লেখার তুলনা চলতে পারে একমাত্র সমর সেনের ‘‌বাবু–‌বৃত্তান্ত’‌–র সঙ্গে। এ ‌বইয়ের শুরুতেই সমর সেন সংক্রান্ত একটি স্মৃতিও আছে। দু‌জনে একসময় একসঙ্গে একই ইংরেজি সংবাদপত্রে কাজ করতেন যে। ‘‌আপনি তো এখন কিছু লিখছেন না?‌’‌ অসীমের এ প্রশ্নের উত্তরে সমর সেনের সমর সেনোচিত জবাব, ‘‌কেন, রোজ রাতে টি–‌র মাথা কাটছি, আইতে ফুটকি দিচ্ছি।’‌ এমন সরস ‘‌অ্যানেকডোটস’‌–‌এ বই ভর্তি। যেমন বিষ্ণু দে প্রসঙ্গ। কবি বিষ্ণু দে’‌র ‘‌ইমেজ’‌–‌এ মুগ্ধ অসীম প্রেসিডেন্সি কলেজে ক্লাস করতে গেলেন বিষ্ণু দে’‌র। এবং অভিজ্ঞতা এক লাইনে এ‌রকম— ‘‌ক্লাসে আগাগোড়া রিডিং পড়ে হাল্কা ঠাট্টায় কাটিয়ে দিতেন বিষ্ণুবাবু।’‌ এমন সব বিস্ফোরণ যে শুধু অন্যদের নিয়ে তা নয়, নিজের ভেতরেও বারুদ ঠেসেছেন অন্যধারার গল্পকার অসীম। লিখেছেন বয়েসে অনেক বড় লুকোনো প্রেমিকা‌র কথা। লিখেছেন রাজনীতি করতে গিয়ে দলীয় অবস্থান আর নিজের ভেতরের অবস্থানকে মেলাতে না পারার কথা। ‘‌লিরিকাল’‌ দেখাল কতটা গুরুত্বে এমন বই প্রকাশ করতে হয়। বহু জায়গায়ই টীকার সঙ্গে বা বদলে চরিত্রদের ছবি এঁকে দিয়েছেন লেখক–পুত্র ও এ বইয়ের অন্যতম সম্পাদক কুশল রায়। অন্য সম্পাদক রবিশঙ্কর বল তো বইটা দেখেই যেতে পারলেন না।‌ ■

জনপ্রিয়

Back To Top