‌শ্রাবণী সেন: ২০১৯ জানুয়ারির ‘‌প্রতিবিম্ব’ ম্যাগাজিন‌‌টি হাতে এল। প্রচ্ছদটি ভারি সুন্দর। করেছেন হিরণ মিত্র। রবীন্দ্রগানের ভক্ত হিসেবে প্রথমেই চোখ চলে গেল ক্রোড়পত্রে, ‘‌এখন রবীন্দ্রনাথের গান’–‌‌এর দিকে। চমৎকার কয়েকটি লেখা। শ্রদ্ধেয় শঙ্খ ঘোষের ‘‌যেখানে মরণ লীলা’‌ পড়ে সমৃদ্ধ হলাম। আশিস ভট্টাচার্যের গান আমাদের খুবই প্রিয়। এখনও রেফারেন্স‌ হিসেবে যাঁদের গান শুনি আশিস তাঁদের মধ্যে একজন। ওঁর ‘‌আমার ‌রবীন্দ্রসঙ্গীত জীবন’‌ লেখায় মানুষ আশিসদা, শিল্পী আশিসদা—‌ সবই প্রকাশ পেয়েছে। প্রণম্য সঙ্গীতাচার্য শৈলজারঞ্জন মজুমদারের হাতে–‌গড়া আশিসদা। ভাল এস্রাজ বাজান। ওঁর মধ্যে ওঁর গুরুর যে মানসিক, চারিত্রিক, সাঙ্গীতিক দিকটা গ্রথিত হয়েছিল, তার থেকে তিনি কোনওদিনই বিচ্যুত হননি। এখনও হন না। এটা এখনকার শিল্পীদের–‌ শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত শিক্ষার বিষয়।
শ্রীমতী আলপনা রায় আমার শ্রদ্ধেয়া এবং অতি–প্রিয় মানুষ। ‘‌এখন রবীন্দ্রনাথের গান’‌–‌এ তিনি উল্লেখ করেছেন, রবীন্দ্রনাথের অজানা ও অপ্রাপ্ত গানের সুর বসানো, যেখানে রবীন্দ্রনাথ নিজের কথায় অন্যের সুর বসানোর বিরোধী ছিলেন, সে গান স্বরচিত সুরে গাওয়া ঠিক কি না—‌ সেটা নিয়ে ভাবতে বলছেন। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন  স্বপন সোম তাঁর ‘‌রবার যেটা সেটাই রবে’‌ লেখায়। আজকাল গানের সুর, তাল বদলানো, বেশি যন্ত্রের প্রয়োগ—‌ সবই হচ্ছে। তবে পরিশেষে বলেছেন, পুরো চিত্রটা অন্ধকারাচ্ছন্ন নয়। এখনও কিছু মানুষ স্বরলিপিকে নির্ভর করে এগোতে চাইছেন, এটাই আশার কথা।‌‌
অনুপ মতিলাল‌ তাঁর ‘‌গানের সুরে আমার মুক্তি ঊর্ধ্বে ভাসে’‌ রচনায় বলেছেন, ‘‌‌রবীন্দ্রনাথ তাঁর গান দিয়ে যত অনায়াসে ভুবনখানি দেখেছেন, তাঁর কাব্যের পক্ষেও তা শ্লাঘনীয়। রবীন্দ্রগান সম্পর্কে আগ্রহ ও রসবোধ আগের থেকে অনেক বেশি তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে এখন।’‌
রবীন্দ্রসঙ্গীতের বিশিষ্টতার মূলে একটি সত্য উপলব্ধির প্রয়োজন। তাঁর কাব্যে মননশীলতা ও সঙ্গীতে হৃদয়াবেগ— যা সম্পূর্ণত অনুভবের বিষয়। রবীন্দ্রসঙ্গীতের বাণী ও সুরের যুগ্মমিলনে এক নতুন সার্থকতায় উন্নীত। শিক্ষিত শিল্পী এবং শ্রোতা যত বাড়বে— রবীন্দ্রনাথের গান ততই স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত হবে।
আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে।‌ ■
‌প্রতিবিম্ব • জানুয়ারি ২০১৯ • সম্পাদক প্রশান্ত মাজী • ১২৫ টাকা‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top