দ্বৈপায়ন দেব
‌অসময়ের নাট্যভাবনা • ব্রাত্য বসু সংখ্যা • সম্পাদনা‌ রঙ্গন দত্তগুপ্ত • ২০০ টাকা

মঞ্চে তাঁর সৃষ্ট চরিত্র বলে, ‘‌নিজেকে পোড়াতে শিখুন। ক্ষয় করতে শিখুন।’‌ আর বন্ধু নাট্যকারের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি স্বয়ং বলেন, ‘‌লেখার আমার মনে হয় সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে লেখক তার লেখার মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হবেই।.‌.‌.‌ কিন্তু লেখার চ্যালেঞ্জ হল এটাই লেখার মধ্যে তুমি নিজেকে কতটা গোপন করতে পারছ।’‌
ব্রাত্য বসু। প্রথম উক্তিটির লেখক। সংলাপটি লিখিত হয়েছে তাঁর নাটক ‘‌অনুশোচনা’‌য়। অন্যদিকে, তাঁর মুখে বলা কথাটি যে দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে বলা সেটি নিয়েছেন উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় ও শম্পা ভট্টাচার্য। দু‌টিই আছে ‘‌অসময়ের নাট্যভাবনা’‌‌র সাম্প্রতিকতম সংখ্যায়। যে সংখ্যার বিষয় ‘‌ব্রাত্য বসু ও তাঁর থিয়েটার’‌। গোটা সংখ্যাটি সম্পাদনা করেছেন রঙ্গন দত্তগুপ্ত। প্রায় ২৫ বছর ধরে যিনি এই পত্রিকাকে নতুন–‌নতুন ভাবনায় জারিত করছেন।
সন্দেহ নেই, এই সাক্ষাৎকারটিই এই সংখ্যার প্রধান আকর্ষণ। যেখানে ব্রাত্য ‘‌হাউসফুল হলে তৃপ্তি হয়’‌ বা ‘‌আমি থ্রিলার খুব ভালোবাসি’‌ এসব টুকিটাকি মন্তব্য যেমন করেছেন, তেমনই জানিয়েছেন তাঁর নানা পরিকল্পনার কথা, যথা, ‘‌শেক্সপিয়ার একটা করলাম, হয়তো একটা গ্রিক নাটক করব’,‌ বা ‘‌আবার একজন খুব বিখ্যাত বাঙালিকে নিয়ে ছবি করার কথাও ভেবেছি।

’‌ পাশাপাশি খুঁজে পাওয়া যাবে গভীর অনুভব আর বিশ্লেষণের ব্রাত্যকেও। যেমন, ‘‌কোম্পানি থিয়েটারের যে স্ট্রাকচার সেই স্ট্রাকচারের মধ্যে ভালো থিয়েটারও হচ্ছে খারাপ থিয়েটারও হচ্ছে। এটা কিন্তু স্ট্রাকচারের সাফল্য কিংবা দৈন্য প্রমাণ করে না।’‌ আর এক জায়গায় বলছেন, কম বয়েসে আমি আমার বন্ধু–‌পরিজনদের থেকে বুঝেছিলাম যে যখন কোনো একজন লেখক তাঁর লেখার জীবনের শুরুতে যে লেখা লেখেন অর্থাৎ সে যখন স্ট্রাগলার ফেজে, তখন নাকি সেই লেখাগুলো সত্য হয়। ভালো হয়। যখন তার পরিচিতি বাড়ে আস্তে আস্তে তিনি মুখোশ পরতে শুরু করেন এবং কমপ্লাসেন্ট হয়ে যান।.‌.‌.‌ এই ভয়টা আমার ভিতরে কাজ করেছিল।’‌ ব্রাত্য তো শুধু একজন নাট্যকার নন, তিনি তো এই সময়ের অন্যতম এক ভাবুকও। তারই অকপট সাক্ষ্য পাওয়া যাবে এই পত্রিকায়।
ব্রাত্যর নাট্যপঞ্জি, গ্রন্থপঞ্জি, চলচ্চিত্রপঞ্জির বিস্তৃত বিবরণ এ সংখ্যার মূল্য বাড়িয়েছে। ব্রাত্যর নাট্যরচনা– পরিচালনা–‌অভিনয়ের ওপরে আছে ডজনাধিক লেখা। ব্রাত্যর অভিনয় নিয়ে লিখতে গিয়ে মেঘনাদ ভট্টাচার্য লিখেছেন, অভিনেতা ব্রাত্যর মূল ‌শক্তি ডিটেলিংস, যা তিনি আহরণ করেন জীবন থেকেই। আবার ব্রাত্যর নাট্যরচনা নিয়ে লিখতে বসে শেখর সমাদ্দার লেখেন যে ব্রাত্যর নাটকের মূল যাত্রা আসলে নিজের দিকে যাত্রা। এবং সেটা ‘‌সদর্থে বিপজ্জনক’‌। প্রচেত গুপ্তের লেখার শিরোনাম, ‘‌বাংলা থিয়েটার ব্রাত্যকে দু’‌হাত তুলে বলছে, এগিয়ে চলো।’‌ এই সংখ্যাও স–‌শরীরে তাই বলছে।‌‌‌‌ ■

জনপ্রিয়

Back To Top