‌অনিন্দ্য জানা
ইনসাইড পার্লামেন্ট ‌ভিউজ ফ্রম দ্য ফ্রন্ট রো • ডেরেক ও’‌ব্রায়েন • হার্পার কলিন্স • ৪৯৯ টাকা

ছিলেন ভারতবিখ্যাত কুইজমাস্টার। হয়ে গেলেন রাজনীতিবিদ। প্রথমটায় যেমন সফল ছিলেন, দ্বিতীয় ভূমিকাতেও ততটাই। অথবা তার চেয়েও বেশি। টুইটার হ্যান্ডলে তিনি একটি শব্দের ‘‌কুইজডেরেক’‌। কিন্তু তাঁর রাজনীতির পরিচয়?‌ দু’‌টি শব্দে— মমতা ব্যানার্জি। এককথায় এই হলেন ডেরেক ও’‌ব্রায়েন। ২০১১ সালে বাম–বিদায়ের পর কালীঘাটের টালির চালের নিচে যাঁকে আনন্দে শিশুর মতো কাঁদতে দেখার অভিজ্ঞতা সেটাই বলছে।
রাজনীতিক–সাংসদ হিসেবে নিজের প্রথম বইয়েই (‌এমনিতে এটি তাঁর ৫৩তম বই,‌ কিন্তু তা–ও নিজেকে নতুন লেখকের মতোই লেগেছে। কারণ, এটি রাজনীতি নিয়ে তাঁর লেখা প্রথম গ্রন্থ)‌ অধুনাপ্রয়াত কিংবদন্তি কুইজমাস্টার নীল ও’‌ব্রায়েনের পুত্র বলেছেন, ‘‌মমতা ব্যানার্জি নিজেকে ভিআইপি (‌ভেরি ইম্পর্ট্যান্ট পার্সন)‌ নয়, এলআইপি (‌লেস ইম্পর্ট্যান্ট পার্সন) বলতে বেশি পছন্দ করেন। উনি নিজে সাধারণ জীবনযাপনের দৃষ্টান্ত।’‌ ডেরেকের মতে, সাংসদের জীবনটা সাময়িক। সেটা একজনের জীবনের একটি অংশমাত্র। জীবন নয়। 
ডেরেকের ১৯৮ পৃষ্ঠার বইটি সুখপাঠ্য, শিক্ষণীয় এবং বেশিরভাগ সময়েই কৌতূহলোদ্রেককারী। কুইজমাস্টার এবং বিজ্ঞাপনী সংস্থার সফল কর্ণধার হওয়ার সুবাদে ডেরেক কথা ভাল বলেন (‌সে অনেকেই বলেন। কিন্তু তাঁরা সেটা জানেন বলে বাচালতায় আক্রান্ত হন। ডেরেকের সে ব্যাধি নেই)‌।

তিনি বইটিও লিখেছেন সেই কথা বলার ঢংয়েই। অনেকটা ধারাবিবরণীর মতো। বাড়াবাড়ি রকমের জ্ঞানদানের চেষ্টা নেই। ফলে পড়তে ভাল লাগছে। শিক্ষণীয়, কারণ, সাংসদ হিসেবে তিনি নিজে যে ৬টি বিষয় শিখেছেন, বইয়ের প্রথমেই সেগুলির কথা অল্পবিস্তারে জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা তথা জাতীয় মুখপাত্র। ডেরেক লিখছেন, সংসদটা একটা বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি সেখানে ঢুকেছিলেন ছাত্রের মতো। সেই থেকেই তাঁর শিক্ষা শুরু (‌যদিও রাজনীতিতে তাঁর আসল এবং সর্বোচ্চ শিক্ষক মমতাই)‌। এবং যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আপনি কখনও গ্র্যাজুয়েট হতে পারবেন না। সবসময় ছাত্র হিসেবে থেকে শিক্ষা নিয়েই যেতে হবে।
সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের জন্য রাজ্যসভায় ডেরেককে মনোনয়ন দিয়েছেন তাঁর নেত্রী। নিঃসন্দেহে সেটা সাংসদ হিসেবে তাঁর কাজের স্বীকৃতি। বস্তুত, সাংসদ থাকাকালীন জাতীয় পর্যায়ের একাধিক মঞ্চে ডেরেককে তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করতেও পাঠিয়েছেন মমতা (‌যেমন জয়ললিতার অন্ত্যেষ্টিতে)‌। সেই কারণেই ডেরেকের রাজনীতি অধুনা অনেকটাই দিল্লি–নির্ভর। সেই কারণেই তাঁর ‘‌পাখির চোখ’‌ আগামী লোকসভা ভোট। সেখানেই ডেরেকের বইয়ের আরও একটা অদৃশ্য মলাট রয়ে গিয়েছে। যে মলাটে আপাত–অদৃশ্য হলেও লেখা রয়েছে ২০১৯ সালে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদি হটাওয়ের নির্ভুল বিজ্ঞাপন। নইলে তিনি লিখতেন না, ‘‌আমার জন্ম এবং বড়–হওয়া এক খ্রিস্টান পরিবারে। কলকাতার এক হিন্দু পাড়ায়। আমরা যে রাস্তায় থাকতাম, তার নাম একজন মুসলিমের নামে। আমি এই ভারতকেই চিনি। এবং আমি একমাত্র এই ভারতকেই চিনতে চাই। কেউ যেন একে ধ্বংস না–করে।’‌ 
এত নিশ্চিত এবং স্পষ্টভাবে লোকসভা ভোটের নান্দীমুখ করে দেওয়া যেত না।‌‌‌ ■

জনপ্রিয়

Back To Top