আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ শুধু জনসেবার লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক কোম্পানির উঁচু পদে ইস্তফা দিয়ে খাবার ডেলিভারি কোম্পানিতে চাকরি নিয়েছিলেন। সেই প্রবাসী বঙ্গতনয়া মেঘনা দাস এবার দাঁড়িয়েছেন ম্যাঙ্গালুরু শহর কর্পোরেশন বা এমসিসি–র নির্বাচনে। কংগ্রেসের টিকিটে মান্নাগুড্ডার ২৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে লড়ছেন তিনি। গত ৩১ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন মেঘনা। এখন জোরকদমে চলছে প্রচার। মেঘনা বললেন, ‘‌আমি কখনও রাজনীতি করার কথা ভাবিনি। কিন্তু আমি মানুষের হয়ে কাজ করতে ভালোবাসি। এবার বন্যার সময় দুর্গতদের সাহায্য করেছিলাম। আমার মানুষকে সেবা করার ইচ্ছা দেখে কংগ্রেস কর্মীরা আমায় তাঁদের দলে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানান। এটা ঈশ্বরের ইচ্ছাতেই হয়েছে। আমি আমার ওয়ার্ডে প্রচুর সামাজিক সমস্যা দেখেছি। সেটা শেষ করে ওয়ার্ডকে সেরা করতে চাই আমি। কারণ আমি নিজেও অনেকবার রাস্তার বেহাল দশার জন্য পড়ে গিয়েছিলাম। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, যেহেতু আমি অনেক যাতায়াত করি, সেহেতু আমি মানুষের সমস্যাটা আরও গভীরভাবে বুঝে সেটা দূর করতে পারব।’‌ 
সাহিত্যে স্নাতক মেঘনা বেঙ্গালুরুতে এইচপি–র টেকনিক্যাল এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

তারপর চলে যান বিদেশে। বেশ কিছু বছর সেখানে থাকলেও পারিবারিক কারণে দেশে ফিরে আসেন তিনি। তারপর কোথাও মনের মতো চাকরি পাচ্ছিলেন না তিনি। অবশেষে শুধু মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার ইচ্ছা এবং বাইক চালানোর অদম্য জেদকে সম্বল করে প্রথমে সুইগি–তে ইন্টারভিউ দেন মেঘনা। কিন্তু ম্যাঙ্গালুরুতে বর্তমানে কাজ করা চারটি খাবার সরবরাহকারী সংস্থার মধ্যে শুধু জোম্যাটোতেই ডেলিভারি বয়দের সঙ্গে গার্লরাও কাজ করেন। সেখানেই কাজ পেয়ে যান মেঘনা। এখন দিন প্রতি প্রায় ১২০০ টাকা রোজগার করছেন মেঘনা। তৈরি করেছেন নিজের বাড়ি। একমাত্র মেয়ে পড়ে ইউকেজি–তে। বললেন, মেয়েকে সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চান। ভোটের প্রচারের জন্য জোম্যাটো থেকে দুসপ্তাহের ছুটি নিয়েছেন মেঘনা। তাঁর সংস্থাও হাসিমুখে তাঁকে সবরকম সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। জিতলে মানুষকে সামাজিক পরিষেবা দিতে যথাসাধ্য করবেন। আর হেরে গেলে ‘‌আবার খাবার সরবরাহের কাজেই ফিরে যাব, কিন্তু সমাজসেবা কখনও ছাড়ব না’‌, বললেন দৃঢ়চেতা মেঘনা দাস।
ছবি:‌ এএনআই   

জনপ্রিয়

Back To Top