আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌  এক চোখ কালসিটে পড়ে ফুলে প্রায় বুজে গিয়েছে। কোনওক্রমে হাত দিয়ে আরেকটা চোখ খোলার আপ্রাণ চেষ্টা। বুঠানিয়া মনসুর আল–রিমির। ‌এই ছবি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপর থেকেই বুঠানিয়া হয়ে ওঠে ইয়েমেনের যুদ্ধের মুখ! কীভাবে তা জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে বছর খানেক।
২০১৭ সালের ২৫ অগাস্ট, সৌদি আরবের নেতৃত্বে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী বিমান অভিযান চালিয়েছিল বিক্ষোভকারী অধ্যুষিত সানায়। বায়ুসেনার গোলায় গুঁড়িয়ে গিয়েছিল বুঠানিয়াদের বাড়ি এবং তাদের পাশে বাড়ি। বুঠানিয়ার মা, বাবা, তার বোন, দাদা, কাকা ছাড়া মোট আটজন সাধারণ নাগরিক মারা গিয়েছিলেন এক রাতে।

পরে হামলার দায় স্বীকার করেছিল সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রপুঞ্জের দেওয়া তথ্যে জানা গিয়েছিল, সেই সপ্তাহে বিমান অভিযানে মোট ৪২ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
বাড়ির সবাই মারা গেলেও বুঠানিয়া আশ্চর্যভাবে বেঁচে গিয়েছিল। সারা শরীরে চোট এবং চোখে কালসিটে নিয়ে  সানার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানেই বুঠানিয়া যখন কালসিটে পড়া ফুলে গিয়ে প্রায় বুজে যাওয়া বাঁ চোখ এবং কোনওক্রমে ডান হাত দিয়ে ডান চোখ খোলার চেষ্টা করতে করতে বলেছিল তার শুধু মনে আছে, প্রথমে বাড়ির কাছাকাছি একটা বোমা পড়তে তারা সব ভাইবোন ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তাদের ভয় কাটাতে তাদের বাবা রান্নাঘর থেকে চিনির কিউব আনতে গিয়েছিল।

তারপরই পুরো বাড়িটা তাদের মাথায় নেমে আসে। বুঠানিয়ার সেই কালসিটে পড়া বুজে যাওয়া চোখের ছবি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপরই তীব্র ধিক্কারের ঝড় বয়ে যায় সৌদি বাহিনী এবং ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে। নিজেদের মুখ বাঁচাতে বুঠানিয়াকে রিয়াধের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বিশেষ চিকিৎসায় সুস্থ করে তোলে সৌদি সরকার।
এখন আবার সানায় ফিরে এসেছে বুঠানিয়া। এক রাতে অনাথ হয়ে যাওয়া বালিকার ঠাঁই হয়েছে তার আরেক কাকা আলির বাড়িতে। আলি বললেন, বুঠানিয়া এখনও নিজের বাড়ি, মা, বাবা,ভাইবোনদের মনে করে একা কাঁদে। সেই রাতের ঘটনা মনে করে কেঁপে ওঠে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ছোট্ট মেয়েটি আবার স্কুলে যেতে যায়, চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চায়। জানালেন গর্বিত আলি।      

জনপ্রিয়

Back To Top