২৬ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ এই কৃষক, পোস্টার হাতে হন্যে হয়ে খুঁজছেন মেয়ে

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সেই ১ অক্টোবর থেকে নিয়মিত কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে প্রতিবাদ করছেন। প্রথমে পাঞ্জাবে রেল রোকোতে যোগ দিয়েছিলেন। তার পর ২৬ নভেম্বর থেকে অবস্থান করছিলেন সিঙ্ঘু সীমান্তে। দু’‌ মাস ঠান্ড অগ্রাহ্য করে সেখানে ঠায় বসে প্রতিবাদ করে গেছেন জোরাওয়ার সিং। কিন্তু ২৬ জানুয়ারির পর থেকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি ৭৫ বছরের সেই কৃষককে। পোস্টার হাতে হন্যে হয়ে খুঁজছেন মেয়ে। কোথায় গেলেন বৃদ্ধ?‌ কেউ জানে না।
এখন পর্যন্ত সিঙ্ঘু, টিকরি সীমান্তে পাঁচ হাজার পোস্টার সাঁটিয়েছেন মেয়ে পরমজিৎ কৌর। বাবার ছবি দিয়ে ভিডিও করে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ভারতীয় কিসান ইউনিয়ন (‌রাজেওয়াল)‌–এর সদস্য জোরাওয়ার। সেই কৃষক সংগঠনের নেতাদের কাছেও খোঁজ নিয়েছেন। আন্দোলনের মঞ্চ থেকে বারবার ঘোষণা করা হয়েছে জোরাওয়ারের নাম। কেউ সাড়া দেননি। পুলিশ সাধারণতন্ত্র দিবসে যাঁদের গ্রেপ্তার করেছে, সেই তালিকাতেও নাম নেই জোরাওয়ারের। গেলেন কোথায়?‌ উত্তর নেই।
খান্নার একোলাহা গ্রামের বাসিন্দা জোরাওয়ার। মাত্র দেড় একর জমি রয়েছে। তাতেই চাষাবাদ করেন তিনি। সেই জমিতে যাতে বেসরকারি হাত না পড়ে, তাই প্রতিবাদে নেমেছিলেন এই প্রবীণ। তাঁর কাছে মোবাইল ছিল না। তাই ওই গ্রামের অন্য আন্দোলনকারীদের কাছে ফোন করে বাবার খবর নিতেন পরমজিৎ। মাঝে মাঝে পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে সিঙ্ঘু সীমান্তেও আসতেন তিনি। 
অন্য আন্দোলনকারীরা প্রায়ই জোরাওয়ারকে বলতেন, একবার বাড়ি ঘুরে আসতে। তিনি নাছোড়, প্রতিবাদস্থল ছেড়ে যাবেন না। ২২ জানুয়ারি সিঙ্ঘুতে এসেছিলেন মেয়ে। তাঁকেও একই কথা বলেছিলেন। আন্দোলনে না জিতে বাড়ি ফিরবেন না। ওই শেষ দেখা। পরমজিৎ জানালেন, ‘‌কয়েক জন দেখেছিলেন, যেই পথে বাবা গেছিলেন, সেই পথে লাঠিচার্জ হচ্ছিল। তার পর ওই দলটি পায়ে হেঁটে অন্য দিকে চলে যায়।’‌ বেশিরভাগ কৃষকই দিল্লির পথঘাট চেনেন না। পরমজিতের আশঙ্কা, হয়তো পথ ভুলে অন্য কোথাও চলে গেছেন। কিন্তু কোথায়, সেই জবাব আজও মেলেনি। 

আকর্ষনীয় খবর