আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সারা দুনিয়ায় রোজ লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। তার মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর এনেছে বিভিন্ন টিকা উৎপাদনকারী সংস্থা। দুনিয়ার বহু দেশ একই সঙ্গে করোনার টিকা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। ধাপে ধাপে বিভিন্ন পর্যায়ের ট্রায়ালের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে সেই টিকা। 
দু’‌–একটি সংস্থা ইতিমধ্যেই দাবি করেছে, তাদের তৈরি টিকা তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালেও সফল। একবার দেখে নেওয়া যাক, কোন সংস্থার টিকা কতটা কার্যকর?‌ ভবিষ্যতে কোন টিকা করোনা প্রতিরোধে সবথেকে বেশি সক্ষম হবে?‌
ফাইজার:‌ গত সপ্তাহেই আমেরিকার ফাইজার এবং তাদের জার্মানি অংশীদার সংস্থা ‘‌বায়োএনটেক’‌ ঘোষণা করে, তাদের তৈরি করোনার টিকা তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালেও সফল। ৯০ শতাংশেরও বেশি কার্যকরী। 
সমস্যা: মজুতের‌ আল্ট্রা কোল্ড–স্টোরেজ প্রয়োজন। মাইনাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এটি ছ’মাস মজুত রাখা যাবে। সাধারণ রেফ্রিজারেটরে মাত্র ৫ দিন পর্যন্ত ঠিক থাকবে। ফলে ভারতের মতো উন্নয়নশীল এবং গ্রীষ্ণপ্রধান দেশে এই টিকা ব্যবহার সমস্যাজনক।
কবে আসছে?‌ 
এ বছরের শেষেই বাজারে চলে আসছে এই টিকা।
মডার্না:‌ মার্কিন সংস্থা মডার্না দাবি করেছে, তাদের তৈরি টিকা আরও বেশি কার্যকর। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রাথমিক বিশ্লেষণে প্রমাণিত, যে এই টিকা করোনা রোধে ৯৫ শতাংশ সক্ষম। ‘গুরুতর অসুস্থ’ ক্যাটেগরিতেও ‘অসামান্য’ ফলাফল। 
বিশেষ গুণ:‌ সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই একে মজুত করা যায়। ফলে সাধারণ কোল্ড স্টোরেজেই একে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো যাবে। টিকা সরবরাহ প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ হবে। সাধারণ রেফ্রিজারেটরে ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে। 
কবে আসছে?‌
এ বছরের শেষেই। মডার্নার সঙ্গে চলছে তীব্র প্রতিযোগিতা।
অক্সফোর্ডের কোভিশিল্ড:‌ অক্সফোর্ডের গবেষক দল এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা সংস্থা এই টিকা নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। এই টিকা করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে নিজের কার্যকারিতা আগেই প্রমাণ করেছে। অল্পবয়সিদের শরীরে যে পরিমাণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলছে, ততটাই প্রবীণদের শরীরেও গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে, যা ইচিবাচক। কারণ প্রবীণ শরীরে এমনিতেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
সমস্যা:‌ তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের সময় এক স্বেচ্ছাসেবী টিকা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তার পর বেশ কয়েকদিন বন্ধ ছিল ট্রায়াল। পরে আবার শুরু হয়। ভারতে এখন তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। এই তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের পরিসংখ্যান এখনও প্রকাশ করেনি গবেষক দল।
কবে আসছে?‌
জানা গেছিল, নভেম্বরের শুরুতেই লন্ডনের এক হাসপাতালকে টিকা প্রদানের জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছিল। আশা করা হয়েছিল নভেম্বরেই ব্রিটেনে এসে যাবে এই টিকা। বছরের শেষেও ভারতেও আসবে। কিন্তু এখনও সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানা যাচ্ছে না।
কোভ্যাক্সিন:‌ ভারতীয় প্রযুক্তিতে দেশীয় গবেষণাগারেই চলছে এই টিকা তৈরি। নেপথ্যে রয়েছে ভারত বায়োটেক সংস্থা। নেপথ্যে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (‌আইসিএমআর)‌। সোমবার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। দেশজুড়ে ২৫ হাজার জনের ওপর চলবে ট্রায়াল। দু’‌টি করে ডোজ দেওয়া হবে। ২৮ দিন অন্তর। 
গুণ:‌ দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে স্বেচ্ছাসেবী টিকা নিয়ে জানিয়েছিলেন, কোনও যন্ত্রণা হয়নি। অর্থাৎ এই টিকা ‘‌পেইনলেস’‌।  
কবে আসছে?‌
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন জানিয়ে দিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই বাজারে আসছে টিকা। যদিও আগে ভাবা হয়েছিল, আরও কয়েক মাস পর বাজারে আসবে টিকা। প্রথম স্বাস্থ্যকর্মী, প্রবীণ এবং অন্য অসুখে আক্রান্তরাই পাবেন টিকা। 

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top