আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ বাবা কৃষক। উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরের প্রত্যন্ত সারাসান গ্রামে বাড়ি। সেই ছেলেই সিবিএসই–র দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় ৯৮.‌২ শতাংশ নম্বর পেলেন। শুধু তাই নয়, আমেরিকার বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পড়ার জন্য বৃত্তিও পেলেন। একটি টাকাও খরচ করতে হবে না পড়াশোনার জন্য।
আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করবেন অনুরাগ তিওয়ারি। অর্থনীতিতে স্নাতক পড়বেন। পার্শ্ব বিষয় হিসেবে থাকবে অঙ্ক। এ বছর আগস্টে কলেজ যাওয়ার কথা ছিল। করোনার জন্য ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলেজ যাবেন তিনি।
একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণীতে কলাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেছেন অনুরাগ। অঙ্কে পেয়েছেন ৯৫। ইংরেজিতে ৯৭। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৯৯। ইতিহাস এবং অর্থনীতিতে পুরো ১০০। সোমবারই রেজাল্ট বেরিয়েছে সিবিএসই–র দ্বাদশ শ্রেণীর। আমেরিকার প্রথমস্তরের কলেজ, বিশ্বিবদ্যালয়ে পড়ার জন্য স্যাট (‌স্কলাসটিক অ্যাসিসমেন্ট টেস্ট)‌‌ দিতে হয়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সেই পরীক্ষা দেন অনুরাগ। তাতেও ১৪০০ নম্বরে ১৩৭০ পেয়েছেন। 
তবে বিষয়টা খুব সহজ ছিল না অনুরাগের কাছে। বাবা কমলপতি কৃষক। মা সঙ্গীতা গৃহবধূ। তিন দিদি রয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় জোর করেই সীতাপুরের আবাসিক স্কুলে ভর্তি হন। অনুরাগ জানালেন, ‘‌বাবা, মা কিছুতেই চাননি, আমি বাড়ির বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করি। তাঁদের ভয় ছিল, আমি হয়তো আর ফিরব না। ফিরে চাষাবাদ করব না। শেষ পর্যন্ত দিদিরা বুঝিয়ে রাজ করান।’‌ তার পর বিদ্যাজ্ঞান অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হন অনুরাগ। 
সেখানেও পথটা সহজ ছিল না। সহপাঠীরা ইংরেজিতে কথা বলত। ক্লাসে ইংরেজিতে পড়ানো হত। প্রথমে কিছুই বুঝতেন না অনুরাগ। দু’‌বছরের চেষ্টায় ইংরেজি আয়ত্তে আনেন। গড়গড়িয়ে ইংরেজিতে নিজের অতীত দিনের কথা বলে গেলেন তিনি। দশম শ্রেণীতে ভাল রেজাল্টের পর অনেকেই বলেছিলেন, বিজ্ঞানবিভাগে ভর্তি হতে। সেটাই শোনেননি অনুরাগ। শেষ পর্যন্ত জেদ করে কলাবিভাগে ভর্তি হন। ইচ্ছে ছিল অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করবেন। সেদিন জেদ না ধরলে আজ হয়তো এই দিন দেখা হত না। এখন অনুরাগের বাবা–মাও তাঁকে নিয়ে গর্বিত।
পড়া শেষ করে বিদেশেই থেকে যাবেন তিনি?‌ অনুরাগের জবাব, স্নাতক পাশ করে স্নাতকোত্তর পড়বেন। তার পর ক’‌ বছর চাকরি করে দেশে ফিরে আসবেন। এখানে উন্নয়ননের কাজ করবেন। 

জনপ্রিয়

Back To Top