‌আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সুদর্শন, সৌম্য, স্বভাবভদ্র, বিনয়ী। শশী কাপুর বলতে ভেসে ওঠে এমনই নানা বিশেষণ। সিনেমায় যখন আসেন তখন মধ্য গগণে দিলীপ কুমার। ব্যরিটোন ভয়েস নিয়ে ভবিষ্যতের তারকা হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন অমিতাভ বচ্চন। ঘাড় হেলিয়ে ব্লক বাস্টারের পর ব্লক বাস্টার উপহার দিচ্ছেন ‘‌কাকা’‌ রাজেশ খান্না। সিনেমা তখনও ‘‌বার্তাবহ’‌ কিংবা সমাজের মুখ হয়ে ওঠেনি। সিনেমা মানে আম পাবলিকের নিছক বিনোদনের উপকরণ। সেখানে রাজ কাপুরের ভাই হয়েও হালে পানি পেতে অসুবিধা হয়েছিল শশী কাপুরের। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছিল মহিলা অভিনেত্রীদের কাছ থেকে। জুড়ি বেঁধে সিনেমা করাই তখন দস্তুর। কোনও হিরোইন–ই চাননি সেই জুড়ি ভেঙে নবাগত শশীর সঙ্গে জুড়ি বাঁধতে। অনেকে তো মুখের ওপর বলেই দিয়েছিলেন— বালকসুলভ মুখশ্রী নিয়ে ও আবার অভিনয় করবে কী!‌ এই যখন অবস্থা, তখন পুরুষরাও তাঁর সহ অভিনেতা হতে চাইবেন না, তাতে আর আশ্চর্য কী। তাই নিজেই প্রযোজক–অভিনেতা হয়ে সিনেমায় নামলেন। আর এভাবেই শুরু হল অভিনেতা শশী কাপুরের পথ চলা। ৭৯ বছর বয়সে শশীর প্রয়াণের পরে তাঁর সিনেমার কেরিয়ারের মূল্যায়ণ করতে বসে তিনটি সম্পর্কের কথা বলতেই হবে, যা তাঁর ফিল্ম কেরিয়ার সমৃদ্ধ করেছিল।
নন্দা— ততদিনে হিন্দি সিনেমায় পরিচিত মুখ নন্দা। তিনিই প্রথম শশীর সঙ্গে সিনেমা করতে রাজি হন। কারণ নন্দা পরে জানিয়েছেন, ‘‌কালচারালি ডিফারেন্ট’‌ শশীর সঙ্গে তিনি নাকি তাঁর রসায়ন পরোখ করতে চেয়েছিলেন!‌ আর এভাবেই নন্দা–শশী মিলে আটটি সিনেমা— চার দ্বিওয়ারি (‌১৯৬১)‌, মেহেন্দি রং লায়েগি (‌১৯৬২)‌, মহম্মদ ইস্ক ক্যাহতে হ্যায় (‌১৯৬৫)‌, জব জব ফুল খিলে (‌১৯৬৫)‌, নিদ হামারি খোয়াব তুমহারে (‌১৯৬৬)‌, জুয়ারি (‌১৯৬৮)‌, রাজা সাব (‌১৯৬৯)‌ এবং রুথা না করো (‌১৯৭০)‌। 
শর্মিল ঠাকুর— শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে শশী কাপুরের অন স্ক্রিন কেমিস্ট্রি ছিল চোখে পড়ার মতো। ১৯৬৫ সালে ওয়াক্ত–এর মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ শর্মিলা–শশীর। এরপরে আমনে সামনে, পাপ অর পূণ্য, স্বাতী, নিউ দিল্লি টাইমস, মাই লাভ এবং আনাড়ি করেন তাঁরা। নিউ দিল্লি টাইমস এর জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার জেতেন শশী।
রাখী— স্টাইলিশ কাপুরের তকমা ছেড়ে অতি সাধারণ হয়ে উঠলেন শশী কাপুর। সৌজনে রাখী মজুমদার। যিনি গুলজারকে বিয়ে করে রাখী গুলজার হন। ১৯৭২ সালে মুক্তি পায় রাখী–শশীর জানোয়ার অওর ইনসান। পরে কভি কভি, বাসেরা, পিঘালতা, আসমান, তৃষ্ণা দুসরা আদমি, জমিন আসমানের মতো সিনেমা করেন। 

 

 

 

‌‌জেনিফার কেন্ডেল— বলিউড একঘেঁয়ে হয়ে যাচ্ছিল। তাই ইংরাজি সিনেমার দিকে হাঁটেত শুরু করলেন শশী কাপুর। ইসমাইল মার্চেন্ট–এর প্রযোজনায় সিনেমা করতে শুরু করেন তিনি। ১৯৭০ সালে মুক্তি পায় বম্বে টকি। জেনিফার কেন্ডেলের সঙ্গে তাঁর রসায়ণ অন্য মাত্রা পায়। পরে জেনিফারকে বিয়ে করেন তিনি। 

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top