আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সারা বিশ্বে যখন কোভিড–১৯ আছড়ে পড়েছিল তখন বিশ্বজুড়ে চলেছিল দীর্ঘ লকডাউন। কলকারখানা, ট্রেন, গাড়ি, বিমান চলাচল লকডাউনের কারণে থমকে যাওয়ায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটেছিল অনেকটাই। গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন অনেক কমে গিয়েছিল। বিভিন্ন শহরের আকাশে দূষণকণা প্রায় শূন্যে নেমে গিয়েছিল। নদনদী, খালের মতো জলাশয়ের জল পরিচ্ছন্ন হয়ে গিয়েছিল। তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেখেছিল ভেনিস। খাঁড়ি অধ্যুষিত এই শহরের বিভিন্ন খাঁড়িতে ডলফিনের ঝাঁক দেখা গিয়েছিল ইতালিতে লকডাউন চলার সময়। ভারতের পাঞ্জাবের অম্বালা শহর থেকে পরিষ্কার দেখা গিয়েছিল হিমালয়ের শ্বেতশুভ্র চূড়া। কিন্তু লকডাউন ওঠার পর থেকেই বিশ্ব আবহাওয়া আবার দূষিত হতে শুরু করেছে। এখনও বিশ্ব জোড়া অর্থনৈতিক মন্দার কারণে হয়ত সেভাবে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কিছুটা কমই হবে।
তবে এই সমাধান দীর্ঘস্থায়ী নয়। এমনটাই মনে করছে আবহাওয়া নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্লাইমেট অ্যাকশন ট্র‌্যাকর বা সিএটি। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যে আন্তর্জাতিক চুক্তি হয়েছিল তার থেকে অনেক বেশি বিষাক্ত গ্যাস নির্গমন চলছে পৃথিবীজুড়ে। এবং তা এতোটাই বেশি যে আবহাওয়ার বিধ্বংসী পরিবর্তন হতে পারে। মানুষের তৈরি এই আবহাওয়া পরিবর্তন রুখতে জীবাশ্ম–জ্বালানি পর্যায় ক্রমে বন্ধ করা উচিত বলে মনে করে রাষ্ট্রপুঞ্জ। কিন্তু পুরোপুরি এই জ্বালানি থামিয়ে দেওয়া অসম্ভব। কারণ সারা বিশ্বের মানবজাতির উন্নয়ন বা পেশা জীবাশ্ম–জ্বালানির উপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। যেমন কোভিডের কারণে হওয়া অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটানোর লক্ষ্যে ভারত বহু কয়লা খনি তুলে দিয়েছে বেসরকারি হাতে। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডেও নতুন কয়লা খনির খোঁজ চলছে এই আর্থিক সঙ্কটের সমাধানের চেষ্টায়। কানাডার অ্যালবার্টায় তেলের নতুন পাইপলাইন এ বিনিয়োগ করা হয়েছে। পোল্যান্ড তাদের শিল্পের সহায়ক হিসেবে প্রচুর পরিমাণে কয়লা কিনেছে। আর এভাবেই ফের মানবজাতি পরিবেশ দূষণের অতি মাত্রা ছুঁয়ে ফেলবে খুব তাড়াতাড়ি। মনে করছেন পরিবেশবিদরা। আর তাই তাঁদের আশঙ্কা, লকডাউনের জন্য এই গ্রহের আবহাওয়া এবং পরিবেশ রক্ষার যে সুবর্ণ সুযোগ পৃথিবীবাসীর সামনে এসেছিল, তা ফের নিজেদের দোষেই নষ্ট করবে তারা নিজেরাই।        

জনপ্রিয়

Back To Top