মেট্রোরেলের ঘটনা সকলে জেনে গেছে। গোটা পৃথিবী ছিছি করছে। যারা ওই তরুণ তরুণীকে মারধোর করেছে তাদের যদি পুলিশ অ্যারেস্ট না করে তাহলে কলকাতার শহরের সুনামের জন্য তা হবে খুব ক্ষতিকর। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি, এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে এক ভয়াবহ অধ্যায়ের সূচনা হল। বজরঙ দলের তাণ্ডব, তালিবানিদের ফতোয়া, মধ্যযুগীয় বর্বরতার বীজ এর মধ্যে লুকিয়ে আছে। এই বীজ এখনই উপড়ে ফেলতে হবে। আমাদেরই ঠিক করতে হবে, আমরা কী করব?‌ কোন পথে যাব?‌ এগোব না পিছোব?‌ 
যারা মনে করে, নরনারীর প্রেম দিয়ে, ভালবাসার চুমু দিয়ে, আদরের আলিঙ্গন দিয়ে সভ্যতার বিচার হয় না, আধুনিকতার বিচার হয় না, এগোনো যায় না, তাদের প্রতি বিনীত ভাবে বলি, দাদা এবং দিদিরা, আপনারা হয় গর্দভ , নয় বদমাইশ। একমাত্র অসভ্য সমাজেই নরনারীর ভালবাসা নিষিদ্ধ। পৃথিবীর ইতিহাস তাই বলছে। দেখছি, কোনও কোনও বদমাইশ সেদিনের মারধোরকে সমর্থন করছে। বলছে, ছেলেমেয়েদুটিকে মেরে উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ঘরে গিয়ে জড়িয়ে থাক্‌ হারামজাদা। প্রকাশ্য মেট্রোতে কেন? সমাজে একটা শৃঙ্খলা আছে, নিয়ম আছে। আমি হলফ করে বলতে পারি, একথা যারা বলছে, তাদের বাপ–ঠাকুর্দা আজ বেঁচে থাকলে আর‌ও একটু বেশি বলতেন। বলতেন, মেয়েরা কেন রাস্তায় বেরোবে?‌ সমাজে একটা শৃঙ্খলা আছে, নিয়ম আছে। তাদের  বাপ–ঠাকুর্দা আরও আরও একটু বেশি বলতেন। বলতেন মেয়েদের আট–‌নবছরে বিয়ে দিয়ে দাও। সমাজে একটা শৃঙ্খলা আছে, নিয়ম আছে। তাদের  বাপ–ঠাকুর্দা আরও আরও আরও বেশি বলতেন। বলতেন, একটি মেয়ের জন্ম হয় বহুভোগ্যা হওয়ার জন্য। সুতরাং তাকে ঘরে বন্দী করে, এসও পুরুষের দল, সবাই মিলে তাকে ভোগ করি। সমাজে একটা শৃঙ্খলা আছে, নিয়ম আছে। এদের ছেলে, জামাইরা কী করে?‌ স্ত্রীর গর্ভে কন্যা সন্তান এলে গোপনে ভ্রুণ হত্যা করে। কন্যা সন্তান ঝামেলার। ঝামেলা আস্তাকুড়ে ফেলে দাও। সমাজে একটা শৃঙ্খলা আছে, নিয়ম আছে।  
হাতে পেলে এই শৃঙ্খলারক্ষকদের কী করা উচিত?‌ ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে পেটানো ?‌ ছি, একেবারে নয়। এরকম করলে খুব বকব কিন্তু। সমাজে একটা শৃঙ্খলা আছে না?‌  নিয়ম আছে না?‌ নিজের হাতে আইন নিতে নেই বাবা। পুলিশ এদের অ্যারেস্ট করুক। 
তর্কের খাতিরে ছেলেটির কথা না হয় বাদ দিচ্ছি, একটি মেয়েকে মারধোর করাকে শ্লীলতাহানী বলে , দলবেঁধে তার ওড়না খুলে দেওয়া, জামা ছিঁড়ে দেওয়া ধর্ষনের চেষ্টা বলে, মারধোরের নামে তার শরীরে খুশিমতো স্পর্শ করা তো ধর্ষনই।
হ্যাঁ, আইন মোতাবেকেই আমি মনে করি, এরা ধর্ষক। এদের যারা কোনও না কোনও পথে সমর্থন করছে তারা আসলে ধর্ষনকেই সমর্থন করছে। আবার বলছি, আমি তাই মনে করি। 
আর শেষ কথা, মেট্রোরেল কতৃর্পক্ষ বলেছে, সিসিটিভি ছিল না, তাই কিছু দেখতে পাইনি। সবাই ভাল ভাবে চল। সংস্কৃতি শেখ। এরা তো এরকমই বলবে। এতে অবাক হওয়ার কী আছে?‌ তবে এরা নিশ্চয় তা নন। ধরে নাও এরা টুনুমুনু, সোনা। আদর করে থুতুনি নেড়ে দাও।
 

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top