জগদ্ধাত্রী মায়ের আরাধনায় ১০০১টি অন্নকূট

অরিজিৎ মণ্ডল:‌ জগদ্ধাত্রী পুজোর কথা আসলেই মনে পড়ে চন্দননগর বা কৃষ্ণনগরের কথা। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অনান্য জেলা বা কলকাতেও এখন মায়ের আরাধনায় ব্রতী হয়েছেন বহু মানুষ। দঃ ২৪ পরগনার সোনারপুরের বৈকণ্ঠপুর সাধারণ সন্মিলনীর জগদ্ধাত্রী মায়ের পুজো রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেয় প্রতি বছর। এবছরও তার অন্যথা হয়নি। এ বছর এই পুজো ৫৩ বছরে পদার্পণ করেছে। প্রথমবার ১৫১ পদের অন্নকূট দেওয়া হয়েছিল মাকে। দ্বিতীয়বার ৬০১ পদের। আর এবার একেবারে ১০০১ পদের অন্নকূট দেওয়া হল। এই অন্নকূটে থাকে প্রায় ২০১ রকমের অন্ন সহ নানা রকমের রান্না করা পদ। ১৫০ রকমের মিষ্টি। ১৫১ রকমের লজেন্স, বিস্কুট, চিপস সহ নানা ধরনের স্ন্যাক্স। থাকে ১০০ রকমের বিভিন্ন ফল ও সবজি। ৫০ রকমের বিভিন্ন সবজি ও ফলমূল দিয়ে তৈরি আচার। সঙ্গে থাকে পাউডার, ক্রিম, সেন্ট, বডি স্প্রে সহ অসংখ্য রকমের মায়ের সাজের উপকরণ। এছাড়াও সুতির শাড়ি, বেনারসি শাড়ি সহ আরও হাজারো কিছু দেওয়া হয় এই অন্নকূটে। আর তা দেখতে এলাকার মানুষের ঢল নামে এই জগদ্ধাত্রী মন্দিরে। শনিবার বিকালে মহা ধূমধাম করে এই অন্নকূট মাকে দেওয়া হয়। এই পুজো কমিটির সভাপতি নিত্যানন্দ ঘোষ জানান, কয়েক বছর আগে স্থায়ী মন্দির তৈরি করে জগদ্ধাত্রী প্রতিমাকে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সুদুর রাজস্থান থেকে ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে ভিয়েতনামিজ পাথরের এই জগদ্ধাত্রী মায়ের মূর্তি নিয়ে আসা হয়েছে। এবার করোনা পরিস্থিতিতে পুজোর কলেবর অনেকটাই ছোট করা হয়েছে। তবুও মায়ের অন্নকূটের কোনও রকম ত্রুটি বা কমতি রাখা হয়নি। এক হাজার এক পদ দিয়ে মাকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়েছে। এছাড়াও স্থানীয় মানুষ প্রচুর সহযোগিতা করেছেন। আবার অনেকেই মায়ের জন্য বাড়িতে পছন্দের জিনিস রান্না করে নিয়ে এসে মাকে অর্পণ করেছেন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও নিয়মনিষ্ঠা মেনে মায়ের পুজো বিনাড়ম্বরে পালন করা হয়েছে।

আকর্ষনীয় খবর