আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ শুরুর কথোপকথনটা যদি এইরকম হয়?‌
—‘‌আপনাদের এক্সট্রা সার্ভিস‌ নিতে চাই।’‌
—‘‌সরি স্যার, আমাদের এখানে এসব হয় না।’‌
—‘‌কী করে বুঝলেন, আমি কীসের কথা বলছি?‌’‌
বলা মাত্রই সপাটে ফোন রেখে দেবেন তরুণী কর্মী। কিন্তু মুখে অস্বীকার করলেও একটু চোখকান খোলা রাখলেই জানা যাবে, নিউটাউন লাগোয়া একটি স্পা–তে কীভাবে মাসাজ পার্লারের আড়ালে রমরমিয়ে চলছে দেহব্যবসা। নিজের অভিজ্ঞতার কথা খোলামেলা ভাবেই আজকাল ডট ইন-এর সামনে তুলে ধরলেন কুন্দন ঘোষ (‌নাম পরিবর্তিত)‌।
কুন্দন জানাচ্ছিলেন, মাসাজ পার্লারটিকে দেখলে বোঝাই যাবে না, এর আড়ালেই চলছে মধুচক্র। পার্লারে ঢুকলে সুবেশা কেতাদুরস্ত রিসেপশনিস্ট আপনাকে জানিয়ে দেবে, কেমন মাসাজের জন্য কতটা গাঁটের কড়ি খসবে আপনার। রয়েছে ৮–১০ রকমের বিকল্প। তাতে ‘‌থাই মাসাজ’‌, ‘‌ড্রাই মাসাজ’‌, ‘‌স্টোন মাসাজ’‌। তবে খরচ কম বলে সবচেয়ে জনপ্রিয় অয়েল মাসাজ। মাসাজ দিতে তৈরি বাঙালি, থাই, রাশিয়ান সুন্দরীরা। বাঙালিদের মধ্যে গৃহবধূ ও কলেজ পড়ুয়াদের রমরমাই বেশি। নববর্ষের এবং বড়দিনের আগ দিয়ে মিলবে ইউরোপিয়ান সুন্দরীদের হাতের ছোঁয়াও। মাসাদ পার্লারের মধ্যে রয়েছে ১২ বাই ১৪ ফিটের তিনটি ঘর। এখানে চলে মাসাজ। এছাড়া রয়েছে একটি রিসেপশন এবং কর্মীদের বসার একটি ঘর। 
মাসাজ দিতে দিতেই খোশগল্পের ফাঁকে সংশ্লিষ্ট কর্মী আপনাকে প্রশ্ন করবেন কোনও ‘‌অতিরিক্ত পরিষেবা’‌ নিতে আপনি ইচ্ছুক কি না। হ্যাঁ বললে আপনার সামনে মেলে ধরা হবে আংশিক বা পূর্ণ যৌনতার খুল্লমখুল্লা ক্যাটেলগ। আংশিক যৌনতার প্যাকেজ শুরু ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। পূর্ণ যৌনতার কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। তবে মোটামুটি দরদাম করলে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে ‘‌ডিল’‌ হয়ে যাবে। সম্পূর্ণ মহিলা পরিচালিত এই স্পা সেন্টারে কোনও পুরুষকর্মী নেই। তবে বেয়াড়া ‘‌কাস্টমার’‌ গোলমাল পাকালে নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীদের ডাক পড়ে। মহিলা মাসাজকর্মীর সংখ্যা ৪ থেকে পাঁচ জন। কুন্দনের দাবি ২০১৪ সালের শুরু থেকেই তিনি এখানে আসছেন। 
ওই মাসাজপার্লারেরই এক কর্মী সীমা (‌নাম পরিবর্তিত)‌ জানালেন, ‘‌মূলত মালিকদের দোষেই এই ধরনের স্পা–র কর্মীরা দেহব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।’‌ সীমা আরও জানালেন, তাঁদের মাসিক বেতন খুবই কম। ৫০০০–৬০০০ টাকা। মালিকরা বলেন, এর অতিরিক্ত রোজগার করতে হলে তাঁরা দেহব্যবসা করতে পারেন। তবে অবশ্যই মালিকদের আয়ের লভ্যাংশ দিতে হবে। কেউ কেউ তো আয়ের পঞ্চাশ শতাংশও দিতে বাধ্য হয়। ‘‌দিনে দু’‌জন কাস্টমারের সঙ্গে পূর্ণ যৌনতায় লিপ্ত হলেই গোটা মাসের বেতন একদিনে উঠে যায়,’ বলছিলেন সীমা।‌ তাঁর মতোই বাকি কর্মীরা আসেন দমদম, সোনারপুর, বারুইপুর, নদিয়া, হাওড়া, শেওড়াফুলি, বাগনান থেকে। তবে যে উঠতি মডেলরা বাড়তি টাকার জন্য আসেন, তাঁরা মূলত কলকাতারই বাসিন্দা হন। কাস্টমার হিসাবে সাধারণ মানুষতো বটেই ময়দান ফুটবল জগতের নামী মুখ, অভিনেতাদেরও এই ধরণের স্পা–তে যৌন পরিষেবার জন্য আসতে দেখেছেন তিনি। 
বিষয়টি নিয়ে বিধাননগর থাকার পুলিসও কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, ‘আমাদের কাছে খবর আছে। তবে আমরা উপযুক্ত প্রমাণের অপেক্ষায় আছি। তারপরেই কড়া পদক্ষেপ করতে পারব। ’‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top