‌সাগরিকা দত্তচৌধুরি: চকোলেট রাজভোগ, শক্তিগড়ের ল্যাংচা, বর্ধমানের সীতাভোগ, মিহিদানা, অমৃত পাতুরি, রাজনন্দিনী, জলভরা তালশাঁস, ক্ষীরপুলি, মনোহরা, মালাই রাবড়ি, মোহিনী সন্দেশ, জাম্বো রসগোল্লা, স্ট্রবেরি, বেকড, মিন্ট, অরেঞ্জ, লঙ্কার রসগোল্লা— কী নেই!‌ দেখে রসনাতৃপ্তি না করা পর্যন্ত মন ভরছে না আট থেকে আশির। ১০, ১৫, ২৫, ৫০ টাকা— বিভিন্ন দামের মিষ্টি রয়েছে। কলকাতা ও জেলার নামকরা হরেক মিষ্টির স্বাদ পেতে গৌরীমাতা উদ্যানে ‘‌বাগবাজার ও রসগোল্লা’‌ উৎসবের শেষ দিন এক্কেবারে জমজমাট ছিল। মোট ২৩টি স্টলের মধ্যে নামী মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন ভীমচন্দ্র নাগ, বহরমপুরের মঞ্জুশ্রী সুইটস, হাওড়ার ব্যাতাই মিষ্টান্ন ভান্ডার, শ্যামবাজারের দ্বারিক, চন্দননগরের জলভরা সূর্যকুমার মোদক, ফেলু মোদক, সেন মহাশয়–সহ রয়েছে আরও একাধিক মিষ্টির স্টল। সকলে ভালই সাড়া পেয়েছেন। প্রত্যেক দিনই বিভিন্ন ব্যান্ডের গান, রসের আড্ডা, কবিতায় বাগবাজারের পুরনো ঐতিহ্য এবং রসগোল্লা উৎসব যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বেলঘরিয়া থেকে আসা প্রিয়া ও অরূপ দেবনাথ জানালেন, ‘এক জায়গায় একসঙ্গে এতগুলো ব্র‌্যান্ডের মিষ্টি রয়েছে যে, কোনটা ছেড়ে কোনটা খাব বুঝে উঠতে পারছি না।’‌ মিষ্টি খাওয়ার টানে মানিকতলা থেকে এসেছেন রিঙ্কু বসু। বললেন, ‘রসগোল্লা উৎসবে এসে খুব ভাল লাগছে। গুড়ের মিষ্টি, লিচুর পায়েস, পিঠে, মিষ্টি অনেক কিছু খেয়েছি।’ সন্দেশের পাতুরি, জলভরা সন্দেশ খাওয়ার পর আরও অনেক মিষ্টি খাবেন বলে তালিকায় রেখেছেন কুমোরটুলির কৃষ্ণা দে। উৎসব কমিটির মুখ্য আহ্বায়ক মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা বললেন, ‘তিন দিনের রসগোল্লা উৎসবে ‌খুবই ভাল সাড়া পেয়েছি। প্রত্যেকটি স্টলে মানুষের প্রচুর ভিড় ছিল। বিভিন্ন রুচিশীল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষ খুব আনন্দ পেয়েছে। আগামী বছরে একটু অন্যরকমভাবে করার পরিকল্পনা রয়েছে।’‌ বর্ধমান সীতাভোগ অ্যান্ড মিহিদানা ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রমোদকুমার সিং বললেন, ‘‌তিন দিনে প্রায় দেড় লাখ টাকার ওপর বিক্রি হয়েছে। প্রচুর ক্রেতা এসেছেন। আরও একটু পরিষেবা দিতে পারলে ভাল হত।’‌ বলরাম মল্লিক অ্যান্ড রাধারমণ মল্লিক পরিবারের পুত্রবধূ লোপামুদ্রা মল্লিক বললেন, ‘ভালই বিক্রি হয়েছে। এদিন ৪০ হাজার টাকার মিষ্টি বিক্রি হয়েছে।’

জনপ্রিয়

Back To Top