আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অমানবিকতার চূড়ান্ত নিদর্শন রাখল নদিয়া জেলার বিজেপি নেতৃত্ব। কৃষ্ণনগরে এক ধর্ষিতা প্রৌঢ়াকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করলেন নদিয়া জেলার সম্পাদক সপ্তর্ষি মুখার্জি। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিজেপি নেতাকর্মীদেরই একাংশ। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের আবহে সেলফি বিতর্কে আপাতত সরগরম বিজেপির জেলা রাজনীতির অন্দরমহল।
নদিয়ায় বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি অরূপ দাস বলছেন, ‘‌এটা শুধু আইনত অপরাধ তাই নয়। এটা  নীতিগত ভাবেও অন্যায়। এটা প্রচারের আলো পেতেই করা হয়েছে।’‌ নদিয়া জেলার বিজেপি  সংগঠন যে কার্যত গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ক্ষতবিক্ষত, সেটাও কবুল করছেন তিনি। বলছেন, ‘‌আমাদের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার অনেক অভাব আছে। নিচুস্তরের কর্মীদের মধ্যে অনেক ক্ষোভ জমেছে। কোনটা শোভন আর কোনটা অশোভন সেটা অনেকে বোঝেই না।’‌ যদিও বিষয়টি নিয়ে পুলিসে সপ্তর্ষির বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেনি বিজেপি। বরং তাঁরা বলছেন, ‘‌বিষয়টা নিয়ে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করব। তবে এধরনের কাজ আমরা কখনওই সমর্থন করি না। উনি যেটা করেছেন, সেটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা।’‌ আরও অভিযোগ, সপ্তর্ষি নাকি দলে একেবারেই নতুন। কয়েকমাস আগেও তাঁকে দলের কোনও কাজেই দেখা যেত না। মাস চারেক আগে তিনি সংগঠনে এসেছেন। কী করে হঠাৎ রাতারাতি দলে এসে ক্ষমতার শীর্ষে বসে গেলেন তিনি?‌ সেটা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন অরূপ। বলছেন, ‘‌চার মাস আগে সংগঠনে এসে কী ভাবে পদ পেলেন তিনি?‌ জানি না, তাঁর মধ্যে কী যোগ্যতা আছে। আমাদের এখানে নিবেদিতপ্রাণ কর্মী আছেন। কিন্তু নেতৃত্বের অপদার্থতার কারণে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। তিনি নিজেও বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।’‌ 
উত্তর নদিয়ার জেলা সভাপতি আশুতোষ পাল আজকাল ডট ইনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘‌আমাদের উচ্চতর নেতৃত্ব নির্দেশ দিয়েছে সমস্ত নির্যাতিতা মহিলাদের পাশে দাঁড়ানোর। সপ্তর্ষি সেই কারণেই গিয়েছিলেন।’‌ কিন্তু ধর্ষিতার সঙ্গে সেলফি তোলা?‌ বা তার পরিচয় প্রকাশ?‌ এক্ষেত্রে লিখিত অনুমতির প্রয়োজন। সেরকম কোনও অনুমতি পত্র সপ্তর্ষির কাছে ছিল বা আছে বলে জানা নেই আশুতোষের। ঘটনাটি নিয়ে যোগাযোগ করা হয়েছিল সপ্তর্ষির সঙ্গেও। কিন্তু তিনি এড়িয়েই গিয়েছেন।
২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে নদিয়ার কালীগঞ্জ কেন্দ্র থেকে লড়েছিলেন সৈকত সরকার। বিজেপির এই নেতাও ফুঁসছেন ক্ষোভে। বলছেন ‘‌সপ্তর্ষি কোনওদিন বুথ রাজনীতিও করেনি। তাকে ক্ষমতা দিলে এরকম কাজ তো করবেই। আমি ফেসবুকেও প্রতিবাদ জানিয়েছি। অপদার্থ জেলা প্রেসিডেন্টের প্রশ্রয়েই এসব ঘটছে। বিজেপিই আমার ধ্যানজ্ঞান। কিন্তু অযোগ্য নেতৃত্বের প্রশ্রয়ে দু’‌দিনের বেনোজল ঢুকে আমাদের দলটাকেই বদনাম করে দিচ্ছে।’‌ মুখে সরাসরি না বললেও সৈকতের ইঙ্গিত গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের দিকেই। তিনি বলছেন, ‘‌আমরা ভালবেসে দল করি। কিন্তু অনেক ধান্দাবাজও দলে ঢুকে পড়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবো।’‌
বিষয়টা যে চূড়ান্ত অনৈতিক এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ, সেটা মেনে নিচ্ছেন আইনজীবীরাও। বারাসত জেলা আদালতের আইনজীবী সৌরভ মল্লিকের কথায়, ‘‌ধর্ষিতার লিখিত অনুমতি ছাড়া এভাবে কখনও তাঁর নাম–ঠিকানা প্রকাশ করা এবং সেলফি তোলার মতো কাজ করা যায় না। কাজটা অপরাধ।’‌ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে দীর্ণ নদিয়া জেলা নেতৃত্ব এখন সপ্তর্ষির বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

 

 

 

 

এই সেই ফেসবুক পোস্ট। আমাদের পক্ষ থেকে ধর্ষিতার নাম ও ছবি ঝাপসা করে দেওয়া হল

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top