সাম্প্রতিক অতীতে কোনও বাংলা বিজ্ঞাপন এত জনপ্রিয় হয়নি। বাঙালি নেটিজেনদের হার্টথ্রব এখন সুজয়–পুঁচকি জুটি। প্রথমবার আজকাল ডট ইনের সঙ্গে খোলামেলা আড্ডায় নিজের উচ্ছ্বাস গোপন করলেন না পুঁচকি ওরফে আরাধনা চ্যাটার্জি।

 

 

❏‌ প্যান্টালুন্সের বিজ্ঞাপন তো সুপারহিট!‌ ফেসবুক খুললেই তো সুজয়দা–পুঁচকির রোম্যান্স ছাড়া আর কোনও কথা নেই!‌ এটাই তোমার প্রথম অভিনয় তো?‌
আরাধনা— থ্যাংক ইউ। হ্যাঁ এই প্রথম অভিনয়। তবে মডেলিংও কিন্তু আমি খুব বেশিদিন করছি না। গতবছর থেকে শুরু করেছি। ‘‌তিলোত্তমা’‌–তেও অংশ নিয়েছিলাম। সেই থেকেই টুকটাক কাজ শুরু করেছিলাম। 

❏‌ প্যান্টালুন্সের বিজ্ঞাপনে কাজ করার সুযোগটা কীভাবে এসেছিল ?‌
আরাধনা— আগস্ট মাসের শেষের দিকে অডিশন হয়েছিল। আমিও অডিশন দিয়েছিলাম। মনে আছে খুব শরীর খারাপ নিয়েই অডিশনে এসেছিলাম। আমার মা–ও সঙ্গে ছিলেন।

❏ ‌অভিনয় বা মডেলিংয়ের শখ কি ছোটবেলা থেকেই?‌
আরাধনা—শখ তো ছিলই। ওই ছোটবেলায় যেমন হয়, মা–র শাড়ি পরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখা। মনে মনে নিজেকে ‘‌গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ড’‌–এ দেখতে চাইতাম। তবে আমার শুরুটা কিন্তু নাচের মাধ্যমে। আমি কিন্তু ভরতনাট্যমে স্নাতক। নাচতে ভীষণ ভালবাসি।

❏‌ সাম্প্রতিক অতীতে কোনও বাংলা বিজ্ঞাপন এত জনপ্রিয়তা পায়নি। এই জনপ্রিয়তার ক্রেডিট কাকে দেবে? সুজয়দা–পুঁচকির কেমিস্ট্রিকে?‌ নাকি অনুপম রায়ের মিউজিককে?‌
আরাধনা— প্রথম ধন্যবাদটা তো প্যান্টালুন্স কর্তৃপক্ষকেই দেবো। অনেক বাংলা বিজ্ঞাপন আসে আবার চলেও যায়। পুজোর সময়ে তো বিজ্ঞাপনের সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। সমস্ত বড় ব্র্যান্ডই একটা করে বড় বিজ্ঞাপন বানায়। মানুষ তার মধ্যে খুব কম বিজ্ঞাপনকেই মনে রাখেন। সেখানে একটা বাংলা বিজ্ঞাপনের কাছে ইউটিউবে ৩০ লক্ষ ভিউজ পাওয়াটা কিন্তু বিরাট বড় ব্যাপার। বিজ্ঞাপনের পুরো টিমটাকেই ধন্যবাদ দেবো। অনুপম রায়ের গান, নির্দেশক আদিত্য বিক্রম স্যার, জোনাকি ম্যাডাম— সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। 

❏‌ বিজ্ঞাপনের শ্যুটটা কোথায় হয়েছিল?‌
আরাধনা—প্রথমদিন আমরা শ্যুট করেছিলাম সাউথ সিটি প্যান্টালুন্সের ট্রায়াল রুমের বাইরে। বাইক চালানোর দৃশ্যগুলো সল্টলেকের রাস্তায় হয়েছিল। আর বাড়ির মধ্যের যে শটগুলো সেগুলো ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির কাছে লাহাবাড়িতে হয়েছিল। পুরো শ্যুটটা দু’‌দিনে শেষ হয়েছিল।

❏‌ অভিনয়–মডেলিং ছাড়া পেশাগতভাবে কী করো?‌ পড়াশুনো না চাকরি?‌
আরাধনা—আমি কিন্তু সত্যিই কলেজে পড়ি। দুর্গাপুরের স্টিল কারমেল স্কুল থেকে পড়াশুনো শেষ করে শ্রীশিক্ষায়তনে ইংরাজি অনার্স নিয়ে থার্ড ইয়ারে পড়ছি। 

❏‌ ফেভারিট পাসটাইম কী কী?‌
আরাধনা—নাচের কথা তো আগেই বলেছি।

এছাড়া গান শুনতেও ভীষণ ভালবাসি। আর ভালবাসি খেতে। সবথেকে প্রিয় বাঙালি আর নেপালি খাবার। মাছ সব থেকে ভালবাসি। তবে রান্নাটায় ঠিক জুত করে উঠতে পারি না। চেষ্টা করিনি এমন নয়। তবে রাঁধতে গেলে গোলমাল করে ফেলেছি। আজ পর্যন্ত যতবার কেক বানানোর চেষ্টা করেছি, প্রত্যেকবার পুড়িয়ে ফেলেছি। মাঝেমাঝে শো–তে অ্যাঙ্কারিংও করি। আর আমি ‘‌অপারেশন স্মাইল’‌ নামে একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। এই সংগঠনটা ‌‘‌ক্লেফট লিপ’‌ সমস্যায় ভোগা বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করে। 

❏‌ পড়াশুনো, নাচ, এনজিও, মডেলিং!‌ তার ওপরে এখন তো অভিনয়ও ঢুকে পড়লে। একসঙ্গে এক কিছু সামলাও কী করে?‌
আরাধনা— আমি সবসময়েই সবকিছু ‘‌ব্যালেন্স’‌ করে চলতে ভালবাসি। সেই কারণেই যা কাজের প্রস্তাব পাই, তার সবকটা নেওয়াও হয় না।
 
❏‌ বিজ্ঞাপনের পুঁচকির (‌মানে তোমার)‌ রিয়েল লাইফে কি কোনও সুজয়দা আছে?‌ থাকলে তার সঙ্গে পুজোর প্ল্যানিং কী?‌
আরাধনা—(‌হেসে)‌ না আপাতত নেই। ফেসবুক আর ইনস্টাগ্রামেও আমাকে অনেকে এই কথাটা জিজ্ঞাসা করেছেন। আমি এমনিতেও খুব একটা প্ল্যানিংয়ে বিশ্বাস করি না। প্রেম যদি হওয়ারই হয়, তাহলে সেটা হুট করে হয়ে যাবে। যদি তোমার কাউকে ভাল লাগার হয়, তাহলে খারাপ হলেও লাগবে, ভাল হলেও লাগবে। তবে একটা কথা এখানে বলে দিতে চাই, যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন জানিয়েছেন, তাঁদের সবাইকে আমার উত্তরও দেওয়া হয়েছে।

এখানেই আমি তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। 

❏‌ শ্যুটের পরে এবং বিজ্ঞাপনটি এত হিট করার পরে ‘‌সুজয়দা’‌–র সঙ্গে কথা হয়েছে?‌ 
আরাধনা— সুজয়দার রোলটা করেছিল মুম্বইয়ের জুবিন ভিকি। বিজ্ঞাপনের পরেও ওর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। বিজ্ঞাপনটা এত হিট করেছে জেনে জুবিনও খুব খুশি। 

❏‌ পুজোয় কী করতে ভাল লাগে?‌ কী কী প্ল্যান থাকে সাধারণত?‌
আরাধনা— আমার বাড়ি দুর্গাপুরের বেনাচিতিতে। পুজোই হল এমন একটা উপলক্ষ যেটাকে কেন্দ্র করে সারা বছর যে যেখানে থাকুক না কেন বাড়িতে ফিরবেই। আমার সবথেকে ভাল লাগে বাড়িতে আড্ডা মারতে। প্যান্ডেলে ঘুরে বেড়ানোটা ভাল লাগে না। তবে বাড়ির কাছে প্যান্ডেলে বসে আড্ডা মারতেও ভাল লাগে। তবে এবার তো সবকিছু খুব ‘‌স্পেশ্যাল’‌ হবে।

❏‌ পুজো আর বাঙালির প্রেমে পড়ার একটা পুরনো রেওয়াজ আছে। তোমার ক্ষেত্রে পুজোয় প্রেমে পড়া বা পুজোর সময় প্রেমের প্রস্তাব পাওয়ার কোনও স্মৃতি আছে?‌
আরাধনা—ঠিক এরকমটা কিছু আমার সঙ্গে ঘটেনি। তবে কেউ হয় তো আমার আড়াল থেকে লক্ষ্য করছে, চুপিচুপি দেখছে, সেটা খেয়াল করেছি। তবে সেটা প্রেমের প্রস্তাব পর্যন্ত এগোয়নি।

❏ আর বিজ্ঞাপনের মতো দাদার বন্ধুদের প্রেমে পড়া?‌
আরাধনা—আমার নিজের দাদা নেই। তুতোদাদারা এতটাই বয়সে বড়, যে তাদের বন্ধুদের সঙ্গে ঠিক প্রেমটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

কিন্তু বিজ্ঞাপনটা করার পর থেকেই নিজের মধ্যেই একটা কল্পনা তৈরি হয়েছে। মনে হচ্ছে, তার কোনও বন্ধুকে ভাল লেগে গেছে। বিজ্ঞাপনটার সঙ্গে কতটা একাত্ম হয়ে গেছি বুঝতে পারছো তো?‌‌ 

❏‌ তোমাদের বিজ্ঞাপনটা নিয়ে ফেসবুকে নানারকম মজার মজার মিম্‌ও বানানো হচ্ছে। সেগুলো কীভাবে নিচ্ছো?
আরাধনা—আমি তো খুব মজা পাচ্ছি। আমাকে বন্ধুরা মিম্‌গুলোয় ট্যাগ করছে বা হোয়্যাটসঅ্যাপ পাঠাচ্ছে। কারও যদি বিজ্ঞাপনটা ভাল না লেগে থাকে, তাহলে সে সেটা নিয়ে মাথা ঘামাবে না। আর মাথা না ঘামালে মিম্‌ও বানাবে না। আমি পুরো ব্যাপারটাই খুব উপভোগ করছি। 

❏‌ এই সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘‌বং ক্রাশ’‌ কথাটা প্রায়ই শোনা যায়। বিজ্ঞাপনটা ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই পুঁচকিই এখন বং ক্রাশ। নিজের এই জনপ্রিয়তাটা কতটা উপভোগ করছো?‌
আরাধনা— ইট্‌স অলওয়েজ গুড টু রিসিভ লাভ। ভালবাসা পাওয়ার থেকে ভাল ব্যাপার তো আর কিছু নেই। হয়ও না। মানুষ আমাকে ভালবাসছেন। এটাই তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

❏‌ ভবিষ্যতের লক্ষ্য কি?‌ মডেলিংই করতে চাও নাকি ফিল্মে আসারও ইচ্ছে আছে?‌
আরাধনা— আগেই বললাম, আমি খুব পরিকল্পনামাফিক কখনওই কিছু করি না। দেখা যাক সামনে কী কী সুযোগ আসে। তবে যে কাজেরই সুযোগ আসুক, সেটাতেই নিজের সেরাটা দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব।‌

জনপ্রিয়

Back To Top