আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ একেই বোধহয় বলে সেয়ানে সেয়ানে কোলাকুলি। কম যায় না দুজনের কেউই। এ বলে আমায় দেখ, ও বলে আমায়। নরেন্দ্র মোদি নতুন বছরের অভিনন্দন অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিকে জানালেও পাকিস্তানকে জানাননি। নতুন বছরে তাই প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে আরও সম্মান দেখিয়ে, অন্যরকমভাবে পাল্টা জবাব দিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
গত তিন তারিখ উত্তরপশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের প্রাদেশিক সরকার স্থানীয় ‘‌পঞ্চ তিরথ্‌’‌ নামে একটি হিন্দু ধর্মীয় স্থানকে হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করেছে। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রত্নতাত্ত্বিক বা কেপি অ্যান্টিকিউটিস আইন ২০১৬ ধারায় এই ইস্যুতে নোটিস দেওয়া হয়েছে মন্দিরে। সেখানে বলা হয়েছে, মন্দিরের পুনর্নবীকরণের জন্য মন্দির লাগোয়া সম্প্রসারিত অংশ খালি করে সেটা প্রত্নতাত্ত্বিকদের হাতে তুলে দিতে হবে। নোটিসে এও স্পষ্ট করা হয়েছে, কেউ ওই হেরিটেজ সাইটকে ধ্বংস করলে তাকে ২০০০০০  টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। স্থানটি বর্তমানে কেপি চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং চাচা ইউনুস পার্কের মধ্যে রয়েছে।

কেপি প্রশাসন চাইছে হেরিটেজ সাইটের গরিমা রক্ষার্থে সেটিকে পার্কমুক্ত করতে।  
পাঁচটি হ্রদের মধ্যিখানে একটি মন্দির এবং মন্দির প্রাঙ্গণ নিয়েই গড়ে উঠেছে পঞ্চ তিরথ্‌। পুরাণ মতে, এই জায়গায় থেকেছিলেন পঞ্চপাণ্ডবের বাবা, কুরু বংশের রাজা পাণ্ডু। প্রসঙ্গত, ১৭৪৭– পাকিস্তানে আফগান দুরানি বংশের আমলে মন্দিরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তারপর স্থানীয় হিন্দুরা ১৮০০ সালে সেটির পুনর্নির্মাণ করে ফের প্রার্থনা শুরু করেছিলেন। কার্তিক মাসে, শুধু পাকিস্তান থেকেই নয়, ভারত থেকেও বহু হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যান ওই হ্রদে স্নান সেরে, হ্রদের পাশে খেজুর গাছ এবং মন্দিরে পুজো দিতে।
মোদি যতই পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের অত্যাচারে ব্যথিত হয়েই তিনি নাগরিক আইন তৈরি করেছেন বলে বড়াই করুন, পাক সরকার নতুন বছরের উপহার হিসেবে হিন্দু বিবাহ বিলে অনুমোদন দিয়েছে। তার ফলে পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দুরা নিজেদের বিয়ে নথিভুক্ত করতে পারবে এবং কখনও সম্পর্ক নষ্ট হলে বিচ্ছেদের আবেদনও করতে পারবে। বিবাহবিচ্ছিন্নরা পুনর্বার বিয়েও করতে পারবেন। বর্তমানে পাকিস্তানের হিন্দুদের বিয়ের নথি হিসেবে শুধু শাদিপরত দেওয়া হত যা মুসলিমদের নিকাহ্‌নামার সমতুল্য।    
   

জনপ্রিয়

Back To Top