আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ আগে থেকেই নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিল বিরোধীরা। রাজ্যসভায় কিছুতেই যে তিন তালাক বিল পাস হতে দেওয়া যাবে না সেকথা প্রমাণ করে ছাড়লেন তাঁরা। সেকারণেই সোমবার সকাল থেকেই বেশ সরগরম ছিল রাজ্যসভা। বিজেপিও আগাম অশান্তি আঁচ করতে পেরে দলের সব সাংসদদে সেদিন উপস্থিত থাকার জন্য হুইপ জারি করেছিল। দুই পক্ষের কড়া মনোভাবের মধ্যেই সোমবার তিন তালাক বিলটি রাজ্যসভায় পেশ করেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। বিল পেশের সঙ্গে সঙ্গে বিরোধিতা শুরু করেন কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদরা। তাঁদের দাবি ছিল বিল পাকাপাকি ভাবে আইনে পরিণত হওয়ার আগে জয়েন্ট সিলেক্ট কমিটিকে পাঠানো হোক। সেখানে শেষবার স্ক্রুটিনির পর রাজ্যসভায় পেশ করা হোক বিলটি। বিজেপি তাতে নারাজ ছিল। কারণ লোকসভা ভোটের আগে এই বিলটি পাস করতে পারলেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের সমর্থন মোদি পেয়ে যাবেন।

সেকারণেই তাড়াহুড়ো চলছিল। সেই উদ্দেশ্য অনেকটাই জল ঢেলে ফেলেছে বিরোধীরা। কারণ বিল পেশের সঙ্গে সঙ্গে এমন হইহট্টোগোল শুরু হয় রাজ্যসভায় যে দফায় দফায় অধিবেশন মুলতুবি করতে বাধ্য হন স্পিকার। 
কংগ্রেস সাংসদ আনন্দ শর্মা দাবি করেন, পরিষদীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিন না করা পর্যন্ত কোনও বিল আইনে পরিণত হতে পারে না। কারণ রাজ্যসভা শুধু মাত্র রবার স্ট্যাম্প নয়। যে এখানে সিলমোহর পেলেই সেটা আইন হয়ে যাবে। তিন তালাক নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে শীর্ষ আদালত। কাজেই সেটিকে আইনে পরিণত করার আগে সংসদে আলোচনা হওয়া জরুরি। শুধুমাত্র লোকসভায় পাস হয়েছে মানেই সেটা রাজ্যসভায় পেশ করার সঙ্গে সঙ্গে ভোটাভুটি দিয়ে পাস হয়ে যাবে এটা হতে পারে না। রাজ্যসভাতেও এর আলোচনা প্রয়োজন। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ বাদানুবাদ চলে কংগ্রেস সাংসদদের। তরজা চরমে উঠলে দুই জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় অধিবেশন। 

জনপ্রিয়

Back To Top