আজকাল ওয়েবডেস্ক: সারা দেশকে কাঁদিয়ে ছেড়েছে পেঁয়াজ। শুধু ঝাঁঝ নয়, এই কন্দের নামেই এখন ভয় পাচ্ছেন মানুষজন। দেশের কোথাও পেঁয়াজ কিলো প্রতি ৯০ টাকা, তো কোথাও ১০০ আবার কোথাও সেই দাম ১২০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। দেশে পেঁয়াজের অন্যতম পাইকারি বাজারগুলি হল উত্তর প্রদেশের ওখলা মান্ডি, গাজিপুর মান্ডি এবং আজাদপুর মান্ডি। সেখানের এক পাইকারি বিক্রেতা হাজি ইয়ামিনের মতে, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, অসমে দেরিতে বর্ষা বিদায় নেওয়ার ফলে পেঁয়াজের জোগান হ্রাস পেয়েছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর নাগাদ নতুন ফসল না ওঠা পর্যন্ত দাম কমার আশা কার্যত নেই। প্রয়াগরাজ শহরের এক খুচরো বিক্রেতা জানালেন, ‘‌আগে আমরা পেঁয়াজ বিক্রি করতাম কিলো প্রতি ১৫–২০ টাকা। আর আজ তা বিকোচ্ছে কিলো প্রতি ৮০–৯০ টাকা। কারণ আমাদের পাইকারদের থেকেই চড়া দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের তা বিক্রি করছি আরও বেশি দামে।’‌ দিল্লির পাহারগঞ্জ বাজারের খুচরো বিক্রেতারা জানালেন ‌দাম চড়ে যাওয়ায় ক্রেতারা আগের থেকে অর্ধেক পরিমাণ পেঁয়াজ কিনছেন। পাইকারি বাজার থেকে পেঁয়াজের জোগান আর সরবরাহের মধ্যে যে ফাঁক তৈরি হচ্ছে তার ফল ভুগতে হচ্ছে তাঁদেরকেও।
বুধবারই কেন্দ্রীয় খাদ্য এবং ক্রেতা সুরক্ষামন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান তাঁর বাসভবনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিসারদের সঙ্গে দুঘণ্টা ধরে পেঁয়াজের চাহিদা, জোগান এবং দাম নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, কেন্দ্রের মজুত পেঁয়াজের ২৫ শতাংশ পচে গিয়েছে। বাকি ৫৭০০০ টন পেঁয়াজ ইতিমধ্যেই বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও ১৫২৫ টন পেঁয়াজ মজুত আছে। প্রয়োজনে সেটাও বাজারে ছাড়া হবে। পাসোয়ান বলেন, দেরিতে বর্ষা বিদায় নেওয়ায় খরিফ শষ্য বুনতে বিলম্ব হয়েছে। খরিফ পেঁয়াজের উৎপাদন সারা দেশেই প্রায় ৩০–৪০ শতাংশ কমে যাওয়ার ফলেই দাম বেড়েছে। মন্ত্রীর আশ্বাস, ‘‌কেন্দ্র পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এবং যথাসাধ্য চেষ্টা করছে পদক্ষেপ করার।’‌ পাসোয়ান জানালেন আফগানিস্তান, ইরান, তুরস্ক, মিশর থেকে বেসরকারি বাণিজ্যের মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টা করছে কেন্দ্র।
ছবি:‌ এএনআই            

জনপ্রিয়

Back To Top