আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ করোনা ঠেকাতে ২২ মে দেশজুড়ে জারি হয় লকডাউন। রাতে কারফিউও বাধ্যতামূলক করা হয়। লকডাউন উঠলেও রাতে কারফিউ অবশ্য এখনও শিথিল হয়নি। এতদিন টানা রাতের কারফিউ দেখেনি দেশ। তবে দেশেরই একটা শহরের সে অভিজ্ঞতা রয়েছে। কয়েক মাস নয়, টানা ৮৭ বছর নাইট কারফিউ জারি ছিল মহারাষ্ট্রের পুনেতে। যদিও সেটা আড়াইশো বছর আগে।
১৭৬৫ থেকে ১৮৫২ পর্যন্ত জারি ছিল এই নাইট কারফিউ। রাত ৯টায় ভামবুর্দা ঘাঁটিতে কামান দেগে জারি হত কারফিউ। পরের দিন সকাল পর্যন্ত রাস্তায় বেরনো নিষিদ্ধ ছিল। বেরোনর দরকার পড়লে বিশেষ অনুমতি নিতে হত কোতোয়ালের থেকে। শহরের এই নিয়ম জানতেন না ৩১ জন ব্রাহ্মণ। দক্ষিণ ভারত থেকে পুনেতে এসেছিলেন তাঁরা। রাতে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন। রক্ষীর হাতে বন্দি হন সকলে। তাঁদের একটি কুঠুরিতে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পরের দিন কুঠুরির দরজা খুলতে দেখা যায়, ৩১ জনের নিথর দেহ পড়ে রয়েছে। 
ঐতিহাসিক এম পি মাঙ্গুড়কর সেই গল্প লিপিবদ্ধ করেছেন। বিদেশিদের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে পুনেবাসী। চড়াও হয় শহরের তৎকালীন প্রধান রক্ষী ঘাসিরাম কোতোয়ালের বাড়িতে। ঘাসিরাম বিষয়টিতে পেশোয়ার হস্তক্ষেপ চান। পেশোয়া মাধবরাও রেয়াত করেননি তাঁকে। বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে তুলে দেন। জনতা পাথর ছুড়ে মারে তাঁকে। ১৭৯১ সালে ৩১ আগস্ট ছিল সেই দিল। তখন সেখানে হাজির ছিলেন ব্রিটিশ অফিসার চার্লস ম্যালেট। তিনিই সেই তথ্য প্রথম তুলে ধরেন। ১৯৭২ সালে এই নিয়েই নাটক লেখেন বিজয় তেণ্ডুলকর। নাম ‘‌ঘাসিরাম কোতোয়াল’‌।  
মাঙ্গুনকর জানিয়েছেন, এই নাইট কারফিউ কিন্তু ঘাসিরাম জারি করেননি। তিনি কঠোরহাতে নজরদারিটা চালাতেন। চালু করেছিলেন পুনের প্রথম কোতোয়াল বালাজি নারায়ণ কেতকার। ১৭৬৫ সালে। ঘাসিরামের মৃত্যুর পরেও এই ব্যবস্থা লোপ পায়নি। কারণ পুনের মানুষ এই নাইট কারফিউয়েই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। তারা বলত, এর ফলে শহরে চুরি, ডাকাতি বন্ধ হয়ে গেছিল। তাই ব্রিটিশরা পরে যখন এই ব্যবস্থা তুলে দিতে চায়, পুনেবাসী রাজি হয়নি। তাঁদের টানা দু’‌ বছর বোঝাতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ১৮৫২ সালে পুনে থেকে নাইট কারফিউ উঠে যায়। 

জনপ্রিয়

Back To Top