আজকাল ওয়েবডেস্ক: তাহলে কি সত্যিই আছে আমাদের ব্রহ্মাণ্ডের সমান্তরাল কোনও পৃথক ব্রহ্মাণ্ড। এই উত্তর খুঁজতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে মহাকাশ চষে বেড়াচ্ছেন। কিন্তু সম্ভবত, তাঁদের অনন্ত গবেষণার কিছু উত্তরের ইঙ্গিত মিলতে চলেছে এবার। নাসার আন্টার্কটিক ইম্পালসিভ ট্রানসিয়েন্ট অ্যান্টেনা বা এএনআইটিএ নিয়ে কাজ করা একদল গবেষক আন্টার্কটিকার উপরে একটা বিশাল বেলুন রেখেছিলেন। এই এএনআইটিএ এমন একটি যন্ত্র যা আল্ট্রা–হাই এনার্জির কসমিক–রে নিউট্রিনো খুঁজতে পারে। নিউট্রিনোর এই উচ্চ শক্তিশালী কণাগুলি আমাদের পৃথিবীতে আমরা যা তৈরি করি তার থেকে অনেক গুণ বেশি ক্ষমতাশালী। শীতল মহাদেশের ঠিক সেই স্থানে বেলুনটা রাখা হয়েছিল যেখানে আবহাওয়া অত্যধিক ঠান্ডা, শুষ্ক বাতাস, এবং রেডিও তরঙ্গ প্রায় শূন্য। কারণ রেডিও তরঙ্গে মহাকাশ থেকে আসা কোনও সূক্ষ্ম শব্দ নষ্ট হয়ে যায়।  নিউট্রিনোই একমাত্র কণা যেগুলি পৃথিবীতে পৌঁছয় কোথাও না থেমে এবং না ভেঙে। গবেষকরা বলছেন, কম ক্ষমতাসম্পন্ন নিউট্রিনো আমাদের গ্রহের ভিতর দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু উচ্চ ক্ষমতাশালী নিউট্রিনো আমাদের গ্রহের শক্ত পদার্থে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। সেকারণেই এই উচ্চ শক্তিশালী কণাগুলি মহাকাশ থেকে নেমে আসার সময় খুঁজে পাওয়া যায়। ২০১৬ সালে বিজ্ঞানীরা টাউ নিউট্রিনো বা অত্যন্ত ভারী একটি কণা পৃথিবীর বাইরে, উপর থেকে নেমে আসতে দেখেছিলেন। যা নিয়ে পরীক্ষার পর তাঁরা মনে করছেন, ওই কণা অন্য কোনও সমান্তরাল ব্রহ্মাণ্ডের প্রমাণ। এএনআইটিএ–র মুখ্য তদন্তকারী বিজ্ঞানী তথা হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পিটার গরহ্যামের নেতৃত্বে নাসার বিজ্ঞানীরা এই সমীক্ষা করেন। তবে টাউ নিউট্রিনোর আবিষ্কারকে প্রথমে দুর্ঘটনা বলে মনে করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু গরহ্যাম এবং তাঁর সঙ্গীরা এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, পৃথিবীর ভিতর দিয়ে পেরনোর সময় ওই কণা একটি ভিন্ন কণায় পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল এবং তারপর আবার একই রকম হয়ে যায়। যা প্রমাণ করে সমান্তরাল ব্রহ্মাণ্ডের উপস্থিতিই একমাত্র সম্ভাবনা। কিন্তু তাঁদের ব্যাখ্যায় সবাই একমত হননি। অথচ গরহ্যাম বলছেন, এধরনের ঘটনা একবার হতে পারে কিন্তু এটা বারবার হয়েছে। তাই বৈজ্ঞানিকভাবে দেখতে গেলে সহজভাবে যেটা প্রমাণ হয় যে সমান্তরাল ব্রহ্মাণ্ড রয়েছে। কারণ বিগ ব্যাং যখন হয়েছিল তখন দুটি ব্রহ্মাণ্ড তৈরি হয়েছিল এবং একটা ব্রহ্মাণ্ডের গতিবিধি আরেকটার থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত। বলছেন এএনআইটিএ–র বিজ্ঞানীরা।

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top