আজ‌কালের প্রতিবেদন:‌ ‘‌দুপুরে বাড়ি ফিরে খাবার দিতে বলেছিলাম স্ত্রীকে। কিন্তু ও ফেসবুক চ্যাটিংয়ে এতটাই মগ্ন ছিল যে, আমার কথা কানেই ঢোকেনি। তাই মেজাজ হারিয়ে স্ত্রীকে খুন করেছি।’‌ জেরায় একথা জানিয়েছে স্ত্রীকে খুনে ধৃত সুরজিৎ পাল। গতকাল সন্ধে নাগাদ চেতলা থানার আলিপুর রোডের বাড়ি থেকে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় টুম্পা পালের (‌৩৭)‌। টুম্পার ছেলে তার মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখে আশেপাশের লোককে ডেকে আনে। তড়িঘড়ি থানায় খবর দেন তাঁরা। চেতলা থানার পুলিস ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে। জানা গেছে, প্রথমে গলায় ফাঁস ও পরে মাথার পিছনে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছে টুম্পা পালকে। গালেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর বিছানা থেকে একটি গামছা উদ্ধার করেছে পুলিস। অনুমান, প্রথমে শ্বাসরোধ ও পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে এলোপাতাড়ি মাথায় ও গালে কোপানো হয়েছে। দেহটি ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আজ সকালে ঘটনাস্থলে আসেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। খুনে অন্য কেউ জড়িত কি না তা–‌ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শুরু করেছে চেতলা থানার পুলিস। বছর দুই আগে স্বামী ও দুই ছেলেকে নিয়ে আলিপুর রোডের বাড়িতে ভাড়া থাকতে শুরু করেন টুম্পা। টুম্পার স্বামী সুরজিৎ পেশায় সেলসম্যান। বড়বাজার থেকে জিনিসপত্র কিনে দোকানে দোকানে বিক্রির কাজ করত। সকালে বেরিয়ে দুপুরে বাড়ি ঢুকত। স্নান–‌খাওয়া সেরে আবার কাজে বেরিয়ে পড়ত। পরিবারের এক আত্মীয় জানিয়েছেন, টুম্পা ও সুরজিতের দুই ছেলে। বড় ছেলে আকাশ পাল আশুতোষ কলেজের তৃতীয় বর্ষের ও ছোট ছেলে সায়ন সাউথ সিটি কলেজের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া। সায়নই প্রথম তার মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। এরপর সে সবাইকে ডেকে আনে। সুরজিতের মা ও ভাই বেহালায় থাকেন। তবে বিয়ের পর থেকেই মা ও ভাইয়ের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ ছিল না তার। অপরদিকে, টুম্পার মা ও তাঁর দুই অবিবাহিতা বোন চেতলাতেই থাকেন। পরিবারের লোকজনেরা আরও জানিয়েছেন যে, কোচবিহারে টুম্পার এক মামার ছেলের বিয়ে ছিল গতকাল। সেই উপলক্ষে গত ২২ জানুয়ারি বড় ছেলে আকাশ দিদা ও মাসিদের সঙ্গে বিয়ে বাড়িতে যায়। মৃত্যুর খবর পেয়ে গতকাল রাতেই তাঁরা সেখান থেকে রওনা দিয়েছেন। টুম্পা পালের মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই সুরজিতের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তদন্তকারীরা ঘর থেকে তার একটি ব্যাগ ও মোবাইল ফোন এর পর রাতে হাওড়া স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতভর দফায় দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চেতলা থানার পুলিস। পুলিসের জেরায় সে ভেঙে পড়ে খুনের কথা স্বীকার করে। জানা গেছে, টুম্পার এক বোনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল সুরজিতের। এ নিয়েও মাঝেমধ্যে অশান্তি হত। তবে টুম্পা ফেসবুকে কাদের সঙ্গে চ্যাট করত, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিস। ‌

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top