আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ নাতনিকে বড় করার জন্য নিজের বাড়ি বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন অটোতেই দিনগুজরান করেন মুম্বইয়ের অটোচালক দেশরাজ। তাঁর জীবন সংগ্রামের কাহিনী ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। 
দেশরাজের দুই সন্তান অকালে মারা গেছেন। তাই গোটা পরিবারের ভরণপোষনের দায়িত্ব এখন বৃদ্ধ দেশরাজের কাঁধে। এক সাক্ষাৎকারে দেশরাজ জানিয়েছেন, ‌৬ বছর আগে তাঁর এক ছেলে হারিয়ে যায়। ‘‌কাজে যাচ্ছি’‌ বলে বেরিয়ে আর সে বাড়ি ফেরেনি। ঘটনার এক সপ্তাহ পর তাঁর ছেলেন মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ছেলের মৃত্যুশোক কাটিয়ে ওঠার আগেই দেশরাজের কাঁধে এসে পড়ে গোটা পরিবারের দায়িত্ব। পরের দিন থেকেই অটো নিয়ে মুম্বইয়ের রাজপথে বেরিয়ে পড়েন দেশরাজ। এই ঘটনার দুই বছর পর আত্মহত্যা করে দেশরাজের ছোট ছেলে। 
পুত্রবধূ এবং চার নাতি–নাতনির ভরণপোষনের দায়িত্ব এখন দেশরাজের কাঁধে। সংসারের আর্থিক অনটন দেখে তাঁর নাতনি নবম শ্রেণীতেই পড়াশুনা ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে। কিন্তু দেশরাজের জেদের কাছে নাতনিকে হার মানতে হয়। অতিরিক্ত অর্থ রোজগারের জন্য অটো চালানোর শিফট বাড়িয়ে দেন দেশরাজ। সকাল ৬ টায় অটো নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। মাঝরাত অবধি অটো চালান। রোজগার হয় ১০ হাজার টাকা। তার মধ্যে ৬ হাজার টাকা নাতনির পড়াশুনার জন্য খরচ হয়। আর ৪ হাজার টাকায় সাতজনের সংসার চলে। 
অর্ধেক দিন খাওয়া জোটে না। তবুও লড়াই করে যাচ্ছেন দেশরাজ। তাঁর নাতনি যেদিন দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়েছিল, আনন্দে সেদিন যাত্রীদের থেকে এক টাকাও ভাড়া নেয়নি দেশরাজ। দিল্লির কলেজে বিএড পড়তে চায় নাতনি। যার খরচ প্রচুর। কিন্তু দেশরাজও নাছোড়বান্দা। জীবন সংগ্রামে তিনি হার মানবেন না। 
নিজের বাড়ি বিক্রি করেছেন। আত্মীয়ের বাড়িতে স্ত্রী, পুত্রবধূ, নাতি ও নাতনিরা থাকেন। কিন্তু তিনি মুম্বইয়ে পড়ে রয়েছেন। থাকা, খাওয়া, ঘুমানো সবই অটোয়। নাতনির কথা উঠতেই ছলছল চোখে দেশরাজ বলেন, ‘‌নাতনির ফোন এলেই আনন্দে মনটা ভরে যায়। যখন বলে ক্লাসে প্রথম হয়েছি। মনে হয় পরিশ্রম সার্থক। ওঁর স্নাতক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি। শিক্ষিকা হয়ে গেলেই স্বপ্ন পূর্ণ হবে আমার। পরিবারে ওই হবে একমাত্র স্নাতক।’‌ নাতনি শিক্ষিকা হলেই ফের একবার যাত্রীদের বিনা ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন তিনি। 
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশরাজের কাহিনী ভাইরাল হতেই অনেকেই অর্থসাহায্য করতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই ৫ লক্ষ টাকা উঠে গিয়েছে। যা দেশরাজের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। কংগ্রেসের অনেক নেতা–নেত্রীও দেশরাজের কাহিনী নিজেদের টুইটার হ্যান্ডলে শেয়ার করেছেন। 

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top