আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ এয়ার ইন্ডিয়ার এক্সপ্রেস বিমান আইএক্স–১৩৪৪ শুক্রবার কোঝিকোড়ে ভেঙে পড়ার খবরে চমকে উঠেছিলেন। সন্ধ্যা থেকেই বারবার কোঝিকোড় বিমানবন্দর এবং বিভিন্ন ট্রমা সেন্টারে ফোন করছিলেন, তাঁর এবং তাঁর ভাইয়ের পুরো পরিবারের ব্যাপারে খোঁজ নিতে। কিন্তু কথায় বলে না, ‘‌রাখে হরি মারে কে?‌’ ঠিক সেটাই ঘটেছে দুবাই প্রবাসী লজিস্টিক্‌স ম্যানেজার, ৪১ বছরের শেমির ভাড়াক্কান‌ পাথাপ্পিরিয়মের সঙ্গে। গভীর রাতের দিকে তিনি খবর পান তাঁর পরিবারের সাত সদস্যই শুধু জীবিতই নন, সুরক্ষিতও। শেমিরের স্ত্রী, তাঁদের দুই মেয়ে এবং একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ভারতে ফিরছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন শেমিরের ভাই সফভনের স্ত্রী এবং দুই ছেলেমেয়েও। সফভনের ভিসা শেষ হয়ে যাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে দুই মা–ই ফিরছিলেন দেশে। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমান ভেঙে পড়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই পাগলের মতো নানান জায়গায় ফোন করতে থাকেন শেমির। কেরলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও প্রথমে কোনও খবর মেলেনি। অনেক পরে তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে জানতে পারেন, বিমান ভেঙে পড়লেও তাঁদের পরিবারের সাত সদস্যকেই উদ্ধারকারী দল পৌঁছনোর আগে স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধার করে ফেলেছিলেন। সাতজনের চোট লাগলেও তা প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছেন শেমির। আপাতত তাঁর পরিবারের সাত সদস্যই ট্রমা সেন্টারে ভর্তি প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। এজন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গেই স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দুবাই প্রবাসী ম্যানেজার।
পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পাওয়ায় ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দুবাইয়ের আরেক প্রবাসী ভারতীয় কর্মী। আবদুল মানাফের স্ত্রী তাঁদের একমাত্র সন্তানের সঙ্গে চার মাসের পর্যটক ভিসা নিয়ে স্বামীর কাছে গিয়েছিলেন। তিনিও ফিরছিলেন আইএক্স–১৩৪৪ বিমানে। দীর্ঘক্ষণ স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারলেও ভোররাতের দিকে আবদুল জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী এবং সন্তান, দুজনেই কোঝিকোড়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দুবাইয়ের বাসিন্দা আবদুল্লাও আত্মীয়দের বেঁচে থাকার খবর পেয়ে আপ্লুত। তাঁর শ্যালিকা জেনোবিয়া মহম্মদ আলি, তাঁর চার বছর এবং ১৫ বছরের দুই ছেলেকে নিয়ে দিদি–জামাইবাবুর বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলেন। তাঁরাও ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর অনেকক্ষণ তিনজনেরই কোনও খোঁজ পাননি আবদুল্লারা। প্রায় ভোররাতের দিকে জেনোবিয়ার বড় ছেলে আজম অন্য কারও মোবাইল থেকে দুবাই ফোন করে মাসি, মেসোকে তাঁদের বেঁচে থাকার খবর দেয়। জেনোবিয়া এবং তাঁর ছোট ছেলে কালিকটের দুটি ভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আবদুল্লা জানালেন, তাঁদের কতটা আঘাত লেগেছে সেব্যাপারে আজম কিছু বলতে না পারলেও তাঁদের আত্মীয়রা ওই হাসপাতালে রওনা দিয়েছেন।
তবে তিনটি পরিবারই এভাবে পরিবারের সদস্যরা মৃত্যুর মুখ থেকে রক্ষা পাওয়ায় ঈশ্বরের সঙ্গে উদ্ধারকারী দল এবং স্থানীয় মানুষদের প্রতি নিজেদের কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি।

জনপ্রিয়

Back To Top