আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ অসমে এনআরসি–র নাগরিক পঞ্জী থেকে ৪০ লাখ বাঙালির নাম বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে অসম ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেছে বেছে বাঙালিদের টার্গেট করা হচ্ছে। সেকারণেই একাধিক উপযুক্ত এবং বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়ার পরেও শুধুমাত্র বাঙালি পদবি দেখেই তাঁদের নাম নাগরিক পঞ্জীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একাধিক বাঙালি ব্যক্তির নাম এবং নথি বের করে তাঁর প্রমাণ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ রাজনৈতিক কারণেই এগুলি করছে বিজেপি। মুখে বলছে শীর্ষ আদালতের নজরদারিতেও এনআরসি তালিকা করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে অথচ এনআরসি কিন্তু তৈরি করেছে মোদি সরকারই। 
এই ইস্যুতে দিল্লিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের কাছে প্রতিবাদ জানাবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার বিকেলেই মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়ার কথা। এই নিয়ে সংসদেও তৃণমূল সাংসদরা সরব হবেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। অসমে যেভাবে বাঙালি ভাষীদের টার্গেট করা হচ্ছে তা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন ভারতের সব রাজ্যেই অন্য রাজ্যের বাসিন্দারা বাস করেন। পশ্চিমবঙ্গেও  একাধিক রাজ্যের বাসিন্দা বাস করেন। তাবলে তাঁদের তাড়িয়ে দিতে হবে এ কোন ধরনের আইন।  চার-‌পাঁচ পুরুষ ধরে যাঁরা একটি রাজ্যে বাস করছেন তাঁদের একটি তালিকা বের করে মুহূর্তে বিদেশি বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের একাধিক বাসিন্দাকে বেআইনি ভাবে দেশে অনুপ্রবেশ করেছে অভিযোগ দিয়ে জেলে আটকে রেখেছে অসম সরকার। এঁদের মধ্যে শিশু এবং মহিলাও রয়েছে। এমনকী অসমে বসবাসকারী মুর্শিদাবাদের বাসিন্দাদের সঙ্গেও এই আচরণ করা হয়েছে। এঁরা কেউ রোহিঙ্গা নন। সেরকম হলে অসম থেকে বিতাড়িত বাসিন্দাদের পশ্চিমবঙ্গে বসবাসের সুযোগ করে দেবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।  
এই ধরনের কাজ করে বিভেদের রাজনীতি করছে বিজেপি। অভিযোগ করেছেন তিনি। যাঁদের নাম তোলা হল না নাগরিক পঞ্জীতে তাঁরা বছরের পর বছর সেখানে বসবাস করলেও একটি মাত্র তালিকায় নাম না থাকার কারণে মুহূর্তে উদ্বাস্তু তকমা পেয়েছেন। যাঁদের বাংলাদেশি বলা হচ্ছে তাঁদের বাংলাদেশ ফিরিয়ে না নিলে কী হবে?‌ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের পাশে থাকতে প্রয়োজনে নিজে অসম যাবেন বলে জানিয়েছেন। 

 

 

নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী। ছবি: এএনআই

‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top