মানুষের জন্য ভাবেন দিদি, এটাই সাফল্যের মন্ত্র

 

রেকর্ড সৃষ্টি হল কিনা জানি না, তবে তিনি দেখিয়ে দিলেন। পরপর তিনবার বিপুল মার্জিনে জিতে সরকার গড়ার নজির খুব বেশি নেই এই দেশে। বিশেষ করে যখন দেশের তথা রাজ্যের পরিস্থিতি খুবই ঘোরালো। দীর্ঘ কোভিড যুদ্ধে ক্লান্ত, বিপর্যস্ত মানুষ, অর্থনীতি বেহাল, শিক্ষাব্যবস্থা ঘোর সঙ্কটে, মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। এই দুঃসময়ে প্রয়োজন এক দক্ষ কাণ্ডারীর। মমতা ব্যানার্জিকে কে পছন্দ করে, কে তার বিরোধী, সেসব প্রশ্ন অবান্তর। জনগণের আস্থা কার উপর, সেটাই গণতন্ত্রের শেষ কথা। চূড়ান্ত বিচারক তারাই। সেই জনগণেশের রায়ে হ্যাট্রিক করেছে তৃণমূল সরকার। আগামী পাঁচ বছর এই দলের হাতে পশ্চিমবঙ্গের শাসন। এই রাজ্যের বাসিন্দা এক শিক্ষাবিদ এবং শিল্পোদ্যোগী হিসেবে স্বভাবতই আমার কিছু প্রত্যাশা আছে এই সরকারের কাছে, তার নেতৃত্বের কাছে। তাই অন্য অনেকের মতোই আমি চোখ রেখেছিলাম মমতা ব্যানার্জির মন্ত্রিসভা গঠনের দিকে। স্বীকার করে নেওয়া ভাল, দিদি আমাকে হতাশ করেননি।

ব্যক্তিগতভাবে আমি এবং শিক্ষাজগতে আমার সহযোদ্ধাদের অনেকেই অতীতে এই সরকারের সক্রিয় সহযোগিতায় অনেক নতুন নতুন কাজ করতে পেরেছি, যাতে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ভবিষ্যতেও আমরা সেই পথে এগোতে পারব। যে অসামান্য বিচক্ষণতায় গত দুবারে মন্ত্রীদের দপ্তর ঠিক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, সেই একই দূরদর্শিতার পরিচয় পাওয়া গেল এবারেও। বেশিরভাগ মন্ত্রীই নিজের নিজের দপ্তরে ইতিমধ্যেই সাফল্যের নজির গড়েছেন। তাঁদের পাশাপাশি আমরা পেয়েছি কিছু নতুন মুখ, যাঁরা আশা জাগাচ্ছেন, আগামীদিনে নবীন আলোয় উদ্ভাসিত  হবে প্রশাসনিক অঙ্গন।  


সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই নজরে পড়ে একটা কথা–প্রশাসনের মানবিক মুখ। আমার মনে হয়, মমতা ব্যানার্জিই সেই মুখ। তিনি শুধু দক্ষ প্রশাসক নন, তিনি মানুষের সুখ–দুঃখের কথা ভাবেন। আর সেটাই তাঁর সাফল্যের চাবিকাঠি। আপামর মানুষ তাঁর উপর ভরসা করতে পারে ঠিক যেভাবে তারা ভরসা করে নিকটজনের উপর। ছেলে ভরসা করে মায়ের উপর, ভাই ভরসা করে বোনের উপর, বুড়ো বাবা–মা ভরসা করেন সন্তানের উপর। এই যে একটা আত্মীয়তার বন্ধন, এর কাছে রাজনৈতিক, সামাজিক, আর্থিক বিভেদ মুছে যায়। নিজে শপথ নিয়েই যে মুখ্যমন্ত্রী ছুটে যান হাসপাতালে হাসপাতলে, প্রথমেই ঘোষণা করেন এই মুহূর্তে করোনা মোকাবিলার চেয়ে আর বড় কোনও কাজ নেই, তাঁকে আমি অন্তত রাজনীতির ঊর্ধ্বে জায়গা দিতে চাই। অভিভাবকের জায়গা, এই রাজ্যের গার্ডিয়ান তিনি।


দিদির কাছে, তাঁর মন্ত্রিসভার কাছে যেমন প্রত্যাশার পাহাড়, তেমনই বিরোধী দলের কাছেও প্রত্যাশা রইল, অকারণ বিরোধিতার চোরাবালিতে যেন তাঁরা ডুবিয়ে না দেন এই রাজ্যকে। গঠনমূলক সমালোচনার আলোয় যেন উজ্জ্বল হয় উন্নয়নের পথ। ‘সোনার বাংলা’ গড়ার দায়িত্ব তো একা শাসক দলের হতে পারে না, বিরোধীদেরও সমান দায়িত্ব থাকে। আমরা আশা করব, তৃতীয় দফায় আরও পরিণত, আরও অভিজ্ঞ আরও দায়িত্বশীল সরকার উপহার দেবেন দিদি।

জনপ্রিয়

Back To Top