দীপেন গুপ্ত,পুরুলিয়া: এক মাসের শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে পরীক্ষা হলে এক মা। অন্যদিকে, আট মাসের গর্ভবতী ছাত্রী। সে–ও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। দুইজনই বুধবার ইংরেজি পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে এসে বলল, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষার ব্যবস্থা না করলে আমাদের বছরটা নষ্ট হয়ে যেত। তঁাদের ধন্যবাদ জানাই।’ 
দুইজনেরই পরীক্ষার সিট পড়েছে ঝালদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। তারা দুইজনেই ঝালদার মারুমাসিনা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। প্রথমজন বৈশাখী মাহাতো। আর দ্বিতীয় জন ভবানী মাহাতো। একমাসের শিশুকে নিয়ে বৈশাখী বলে, ‘এটাই জীবনের বড় পরীক্ষা। তাই এক বছর নষ্ট না করে পরীক্ষায় বসেছি। আমি আরও পড়তে চাই। পরীক্ষা চলাকালীন ছেলের কান্না শুনে একবার করে গিয়ে বাচ্চাকে দুধ খাইয়ে আসছি। তারপর ফের লেখা শুরু করছি।’
বৈশাখীর স্বামী পরেশচন্দ্র মাহাতো বলেন, ‘‌আমার স্ত্রী এক মাসের বাচ্চা নিয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। তাই সে যেন প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা পায়, তার আবেদন করছি।’‌ পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, ‘‌স্ত্রীকে আরও পড়াতে চাই। তাই তাকে সব রকমের সাহায্য করতে আমি প্রস্তুত।’‌ অন্যদিকে, আট মাসের গর্ভবতী ভবানী মাহাতো পরীক্ষা দিচ্ছে ওই স্কুলেই। পাশাপাশি সমস্ত মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ঝালদা থানা ও মহকুমা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি করে কলম উপহার দেওয়া হয়। এদিন জেলার প্রতিটি ব্লকে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা শেষ হয়েছে।      ছবি: প্রতিবেদক

জনপ্রিয়

Back To Top