আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌চাকরির ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, বরং অন্য প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হয়েছে ৩০ বছর বয়সী সুচিত্রা দে–কে। দু’‌বার স্নাতকোত্তর পাশ করা (‌ইংলিশ এবং ভূগোল)‌ এবং বিএড ডিগ্রি থাকা সত্ত্বেও তা কোনও কাজেই আসল না সুচিত্রার। স্কুলে চাকরির সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর স্তন কী আসল, তিনি কী সন্তান জন্ম দিতে পারবেন? ‌স্বাভাবিকভাবে মনে আসতে পারে, কেন তাঁকেই এ ধরনের প্রশ্ন করা হল? ‌আসলে সুচিত্রা একজন রূপান্তরকামী। স্কুলে শিক্ষিকার চাকরির জন্য তাঁকে ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়েছিল এবং তারপরই তাঁকে এ ধরনের প্রশ্ন করে হেনস্থা করা হয়। 
২০১৭ সালে সেক্স–রিঅ্যাসিসমেন্ট সার্জারির পর হিরন্ময় দে পরিচিত হন সুচিত্রা দে বলে। তিনি বলেন, ‘‌আমার ১০ বছরের শিক্ষাগত যোগ্যতা তাঁদের কাছে কোনও কাজেরই নয়। তাঁরা যখন আমায় দেখলেন, তাঁদের মনে তখন প্রশ্ন একটাই, কীভাবে একটা পুরুষ মহিলাতে রূপান্তরিত হল। এখনও অনেকেই এটা বিশ্বাস করতে চান না যে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরও অস্তিত্ত্ব রয়েছে।’‌ ২০১৪ সালেই সুপ্রিম কোর্টের আদেশানুসারে রূপান্তরকামীদের জন্য আলাদা ‘‌তৃতীয় লিঙ্গ’‌ বিভাগ তৈরি করা হয়। শীর্ষ আদালত এও জানান যে, এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত রূপান্তরকামীরা চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্মানের সঙ্গে পড়াশোনাও করতে পারবেন। সেখানে কোনও বাঁধা দেওয়া হবে না। 
সুচিত্রা বলেন, ‘‌কলকাতার একটি স্কুলে আমি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাই। সেখানে আমায় জিজ্ঞাসা করা হয় আমি কেন পুরুষের পোশাক পরিনি, কারণ আমার সব পরীক্ষার মার্কশীট ও শংসাপত্র প্রমাণ করছে যে আমি একজন পুরুষ। আমি তাঁদেরকে গোটা বিষয়টি বোঝানোর পরও আমায় বারংবার হেনস্থা করা হয়। স্কুলের প্রধান অধ্যক্ষ আমায় সরাসরি প্রশ্ন করেন যে আমি সন্তান প্রসব করতে সক্ষম কিনা?‌ এমনকী আমার স্তন নিয়েও আজব প্রশ্ন করা হয়। আমি যদি রূপান্তরকামী না হতাম, তাহলেও কী আমায় এ ধরনের অসম্মানজনক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হত?’‌ সমাজের কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন সুচিত্রা।
‌১১ জুন গোটা ঘটনাটি সুচিত্রা দে মানবাধিকার কমিশনে চিঠি লিখে জানিয়েছেন। মানবাধিকার কমিশনের সম্পাদক নির্মল চন্দ্র সরকার জানান, তাঁরা সুচিত্রা দে–র চিঠি পেয়েছেন। তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে ওই স্কুলে গিয়েও কথা বলবেন মানবাধিকার কমিশনের আধিকারিকরা। সুচিত্রা দে জানান যে তাঁর মানবাধিকার কমিশনের ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। 

 


‌‌

জনপ্রিয়
আজকাল ব্লগ

Back To Top